kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

পঞ্চগড়ে অভিযুক্তের বাড়িতে লাশ রেখে বিচার দাবি

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পঞ্চগড়ে অভিযুক্তের বাড়িতে লাশ রেখে বিচার দাবি

পঞ্চগড়ে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে লাঞ্ছনার শিকার দবিরুল ইসলাম প্রধান (৫৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা টাকা আদায় ও বিচারের দাবিতে লাশ প্রতারণায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ির উঠানে রেখে বিচার দাবি করেছে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের প্রধানপাড়া এলাকায়।

স্থানীয়রা জানায়, কৃষক দবিরুল বাড়ির পাশের প্রধানপাড়া দাখিল মাদরাসার লাইব্রেরিয়ান পদে ছেলেকে নিয়োগের জন্য প্রায় দুই বছর আগে ১২ লাখ টাকা দেন।

বিজ্ঞাপন

এই টাকা নেন ব্যবস্থাপনা কমিটির তৎকালীন সভাপতি জুলফিকার আলী প্রধান। চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরতের জন্য দীর্ঘদিন ঘুরেছেন দবিরুল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীদের কাছে সাহায্য চেয়েও কোনো লাভ হয়নি। মাসখানেক আগে টাকা চাইতে গেলে জুলফিকার ও তাঁর স্ত্রী মর্জিনা তাঁকে অপমান করেন। এই অপমানে দবিরুলের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (স্ট্রোক) হয়। পরে তাঁকে রংপুরে নেওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। গত রবিবার তাঁর অবস্থা ফের খারাপ হলে তাঁকে রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মারা যান চিকিৎসাধীন দবিরুল। প্রায় সাত ঘণ্টা লাশ রাখা হয় জুলফিকারের বাড়িতে। মধ্যরাতে সাতমেরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পুলিশ ও স্থানীয়রা বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই পক্ষের লোকজন নিয়ে সমাধানের জন্য আলোচনায় বসে। এ সময় জুলফিকার তাঁর ভুল স্বীকার করেন। ১২ লাখ টাকার মধ্যে ছয় লাখ টাকা দেওয়ার শর্তে সমঝোতা হয়। তার মধ্যে নগদ এক লাখ টাকা ও পাঁচ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়। এই পাঁচ লাখ টাকা দুই মাসের মধ্যে পরিশোধ করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়। রাত আড়াইটায় সমঝোতা হওয়ার পর লাশ জুলফিকারের বাড়ি থেকে মৃতের বাড়িতে নেওয়া হয়।

দবিরুলের স্ত্রী জান্নাতুন বেগম বলেন, ‘আমি ও আমার স্বামী জুলফিকারের বাড়িতে টাকার জন্য গিয়েছিলাম। আমরা কষ্টে দিন পার করছিলাম। হাতে কোনো টাকা ছিল না। তাই তাঁকে বললাম যে অল্প কিছু হলেও আপাতত দিতে। জুলফিকার ও তাঁর স্ত্রী টাকা তো দিলেনই না। গালাগালসহ আমাদের বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিত করেন। এর পরেই আমার স্বামী স্ট্রোক করেন। ’

তাঁর মেয়ে হালিমাতুস সাদিয়া বলেন, ‘আমরা বাবা খুব সহজ-সরল মানুষ। টাকাটা তোলার জন্য বহু নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে গেছেন; কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেননি। জুলফিকারকে খুব বিশ্বাস করতেন। তিনি যে এমন প্রতারণা করবেন, কখনো ভাবেননি। ’

তাঁর ছেলে আব্দুস সবুর প্রধান বলেন, ‘বাবার লাশ আমরা জুলফিকারের বাড়িতে রাখিনি। স্থানীয় মানুষরাই রেখেছে। ’

স্থানীয় বাসিন্দা সাদিকুল ইসলাম প্রধান বলেন, ‘আমরা বিচার ও পাওনা টাকা আদায়ের জন্য দবিরুলের মরদেহ জুলফিকারের উঠানে রেখেছিলাম। আমরা চাই, আর যেন কেউ এভাবে কারো সঙ্গে প্রতারণা করার সাহস না পায়। ’

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে জুলফিকারের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সাতমেরা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘সকালে মৃতের দাফন করা হয়েছে। ’

 



সাতদিনের সেরা