kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

পরীক্ষামূলক করোনা টিকা পেল ১৬ শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরীক্ষামূলক করোনা টিকা পেল ১৬ শিশু

শিশুদের টিকা : বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল পাঁচ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের করোনাভাইরাসের পরীক্ষামূলক টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনা সংক্রমণ রোধে পাঁচ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের পরীক্ষামূলক কভিড-১৯ ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করেছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

প্রথম দিনে পরীক্ষামূলক টিকা দেওয়া হয় আবুল বাশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬ জন শিশুশিক্ষার্থীকে। প্রথমে টিকা নেয় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নিদি নন্দিনী কুণ্ডু।

বিজ্ঞাপন

টিকা নেওয়া শেষে নিদি জানায়, প্রথমে ভয় পেলেও টিকা নেওয়ার পর শারীরিক কোনো অসুস্থতা বোধ করেনি সে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেবঞ্জানী দত্ত বলেন, ‘প্রথমে ওই শিশুদের অভিভাবকের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে শিশুর টিকা নেওয়া কতটা জরুরি, সে বিষয়টি তাঁদের জানানো হয়। অভিভাবকদের মধ্যে যাঁরা সম্মতি দেন এবং যেসব শিশুর শারীরিক কোনো অসুস্থতা নেই, তাদের মধ্য থেকে ১৬ জনকে পরীক্ষামূলক টিকা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়। ’

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আকিব আহমেদ শাওন এসেছিল মায়ের সঙ্গে। টিকা নিতে ভয় করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সে জানায়, আগেও সে অন্যান্য রোগের টিকা নিয়েছে। তাই খুব একটা ভয় পায়নি।

শাওনের মা পুষ্পিতা শারমিন বলেন, ‘স্কুলের বৈঠকে জানতে চাওয়া হয় শিশুদের কলেরা টিকা দেওয়া হয়েছে কি না। যেসব শিশু কলেরা টিকা নিয়েছে, তাদের আপাতত করোনা টিকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়। কারো কোনো অসুস্থতা আছে কি না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়। ’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘আজ (গতকাল) পরীক্ষামূলকভাবে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২৫ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী শিশুদের করোনা টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম দিকে দেওয়া হবে সিটি করপোরেশনগুলোতে। এরপর পর্যায়ক্রমে সারা দেশে দেওয়া হবে। ’

শিশুদের ফাইজারের টিকা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ টিকা শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে, খুবই নিরাপদ। যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশের শিশুদের এ টিকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আমাদের জাতীয় পরামর্শক কমিটি এবং ঔষধ প্রশাসন এটি অনুমোদন করেছে। ’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘পাঁচ থেকে ১১ বছর বয়সী দুই কোটি ২০ লাখ শিশুকে টিকা দিতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন চার কোটি ৪০ লাখ ডোজ টিকা। এরই মধ্যে আমরা ৩০ লাখ ডোজ টিকা হাতে পেয়েছি। বাকি টিকার বিষয়ে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। ’

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, দেশে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক কোটি ৩৮ লাখ ৫৩ হাজার ৬৮৭ জন। তাদের মধ্যে ৯৮ শতাংশকে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হয়েছে এবং ৮৩ শতাংশ পেয়েছে দ্বিতীয় ডোজের টিকা।



সাতদিনের সেরা