kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

বাংলাদেশিদের তথ্য কেন জানতে চায়নি সরকার : হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশিদের তথ্য কেন জানতে চায়নি সরকার : হাইকোর্ট

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে অর্থ জমা করা বাংলাদেশিদের তথ্য সরকার কেন জানতে চায়নি, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী রবিবারের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) এর ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে সুইস রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ডের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ নজরে এলে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

বিজ্ঞাপন

দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মানিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘সুইস রাষ্ট্রদূতের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে বক্তব্য এসেছে, সেটার সত্যতা জানতে চেয়েছেন আদালত। সুইস ব্যাংকে অর্থ জমাকারী বাংলাদেশিদের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আদৌ কোনো তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে কি না, এটা আমাদের জানাতে বলেছেন আদালত। বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেনস ইউনিটের (বিএফআইইউ) সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। বিএফআইইউ যে তথ্য আমাদের দেবে, সে তথ্য রবিবার আদালতে উপস্থাপন করা হবে। ’

এই আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘এর আগেও সুইস ব্যাংক নিয়ে আদেশ হয়েছে। সেই রিটেও রাষ্ট্রপক্ষ বক্তব্য দিয়েছে। বিএফআইইউ এগমন্ট ফোরাম থেকে অর্থপাচারকারীদের তথ্য জানতে পারে। ’

১০ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবে কূটনৈতিক বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন ডিক্যাব আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’-এ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবারে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এসব বিষয়ে (তথ্য পাওয়ার বিষয়ে) কিভাবে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো যায়, সে ব্যাপারে সরকারকে সব ধরনের তথ্য আমরা দিয়েছি। কিন্তু আলাদাভাবে অর্থ জমা করার তথ্যের বিষয়ে কোনো অনুরোধ আসেনি। ’

সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল শেষে সেখানকার ব্যাংকে বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা অর্থের পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাংক, যা আগের বছরের চেয়ে ৫৪.৭৫ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় ওই অর্থের পরিমাণ প্রায় আট হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

বিদেশি ব্যাংক, বিশেষ করে সুইস ব্যাংকে পাচার করা ‘বিপুল পরিমাণ’ অর্থ উদ্ধারের যথাযথ পদক্ষেপের নির্দেশনা চেয়ে গত বছর ১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম খান ও সুবীর নন্দী দাস। বিচারাধীন সেই রিটে কয়েক দফা শুনানি ও আদেশ হয়। গত ৩০ জানুয়ারি আদেশে আদালত সুইস ব্যাংকসহ অন্যান্য বিদেশি ব্যাংকে দেশের কারা অর্থ জমা রেখেছে বা পাচার করেছে, তা জানতে চান। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চেই মামলাটি বিচারাধীন।



সাতদিনের সেরা