kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

বিজ্ঞান

ঝড় তাড়া করা বিজ্ঞানীরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঝড় তাড়া করা বিজ্ঞানীরা

এভাবেই বিমান নিয়ে ঝড়ের পেটে ঢুকে যাচ্ছেন গবেষকরা। ছবি : বিবিসি

বিজ্ঞানীদের কত রকম বিচিত্র কাজই না করতে হয়! এই যেমন যুক্তরাজ্যের রেডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু গবেষকরা আর্কটিক অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের পেছনে ছুটছেন এখন। যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে সবুজে ছাওয়া ছায়া সুনিবিড় ক্যাম্পাসগুলোর একটি তাঁদের। আর তাঁরাই কিনা ধূসর তুষারের নিঃসীম রাজ্যে তাড়া করে চলেছেন ঝোড়ো মেঘের দলকে।

ব্রিটিশ এই জলবায়ু গবেষকদের কাজের জায়গাটা নরওয়ের উত্তরে, বরফে ছাওয়া সাগরের ওপরের আকাশে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞানীদের দলটি সোজা গ্রীষ্মকালীন ঘূর্ণিঝড়ের মধ্য দিয়ে তাদের ছোট গবেষণা বিমানটি নিয়ে উড়ছে। বিমানটি ওড়ানো হয় খুব নিচু দিয়ে। এ কাজটি করতে তাঁদের ভরসা একজন বিশেষজ্ঞ পাইলট।

রেডিংয়ের বিশেষজ্ঞরা যে মাপজোখ করবেন তা ঝড় সমুদ্রের বরফের সঙ্গে কিভাবে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া করে তার একটি চিত্র তৈরি করতে সহায়তা করবে।

অধ্যাপক জন মেথভেন বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এটাই হচ্ছে আর্কটিকের প্রধান আবহাওয়া ব্যবস্থা। এই ঝড় খুব দ্রুত চারপাশের বরফ উড়িয়ে নিতে পারে। এর ফলে দ্রুত বরফের আচ্ছাদন নষ্ট হয়ে যায়। ’

বিজ্ঞানীরা বলে আসছেন, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়া বিশ্বজুড়ে পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

রেডিং ইউনিভার্সিটির আবহাওয়াবিদরা ব্যাখ্যা করে বলেছেন, মেরু অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের প্রবাহ এক দ্বিমুখী প্রক্রিয়ার সূত্রপাত করে। একদিকে ঝড় বরফকে প্রভাবিত করে। একই সঙ্গে বরফের কঠিনতা, তাপমাত্রা আর সঞ্চরণশীলতা প্রভাব ফেলে ঝড়ের আচরণের ওপর।

অধ্যাপক মেথভেন বলেছেন, ‘এই মিথস্ক্রিয়াটিই সম্ভবত আর্কটিক অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ুর পূর্বাভাস মডেলের সবচেয়ে দুর্বল যোগসূত্র। ’

পিএইচডির ছাত্র হানা ক্রোড এই গবেষণাকদলের এক সদস্য। বিবিসি রেডিও ফোরের ইনসাইড সায়েন্স অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, তাঁদের গবেষণা বিমানটিকে অনেক সময় সমুদ্রে ভাসমান বরফের মাত্র ৩০০ ফুটেরও কম উঁচু দিয়ে উড়তে হয়। ঝড় এবং বরফের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া নিখুঁতভাবে ধরার জন্য এ ছাড়া আর উপায়ও নেই। ভাসন্ত বরফের রাজ্যে তো আর আবহাওয়া অফিস বানানো সম্ভব নয়!

‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরফের স্তর ক্রমশ পাতলা হয়ে যাচ্ছে। এ এলাকায় ভবিষ্যতে আমরা মানুষজনের আরো কার্যকলাপ ও আরো বেশি জাহাজ চলাচল দেখব। তাই আরো সঠিক আবহাওয়া পূর্বাভাসের প্রয়োজন’ বলেন হানা ক্রোড।

বিমানের ভেতরে বসানো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে গবেষকদলটি সরাসরি আর্কটিকের ঘূর্ণিঝড়ের মধ্য দিয়ে উড়ে বাতাসের গতি, মেঘের আচ্ছাদন এবং তোলপাড়ের মাত্রা পরিমাপ করছে।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ঘূর্ণিঝড় নিয়ে কাজ করছেন অধ্যাপক মেথভেন। তবে আর্কটিক অঞ্চলের গ্রীষ্মকালীন ঘূর্ণিঝড়কে লক্ষ্য করে বিমানযোগে এটাই প্রথম গবেষণা।

অধ্যাপক মেথভেন বললেন, মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে দ্রুত বদলে যাচ্ছে আর্কটিকের পরিবেশ। নব্বইয়ের দশক থেকে আর্কটিক সমুদ্রের বরফের পরিমাণ গ্রীষ্মকালে নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

মেথভেন জানান, আগে বরফ ঠিক ঠিক সোয়ালবাডের উপকূল ঘেঁষে ছিল। তবে গত দুই দশকে এটি অনেকটাই দূরে সরে গেছে। এখন সমুদ্রের বরফের প্রান্ত সেখান থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে।

এই পরিবর্তন এবং পাতলা হয়ে যাওয়া বরফের অনেক বেশি সঞ্চরণশীল আর গতিশীল হওয়াটাও আর্কটিক ঘূর্ণিঝড়ের আচরণের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

‘দৈনন্দিন আবহাওয়া এবং জলবায়ু উভয়টি বোঝার জন্যই আমাদের এ বিষয়টা বুঝতে হবে’ বলেন অধ্যাপক জন মেথভেন। সূত্র : বিবিসি

 



সাতদিনের সেরা