kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সুইস ব্যাংকে টাকা

‘তথ্য পাওয়ার পথ থাকলেও চুক্তি করেনি বাংলাদেশ’

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১১ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘তথ্য পাওয়ার পথ থাকলেও চুক্তি করেনি বাংলাদেশ’

নাথালি শুয়ার্ড

সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা টাকার বিষয়ে তথ্য পেতে বাংলাদেশকে চুক্তির পথ দেখিয়েছে সুইজারল্যান্ড সরকার; কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এখনো এ বিষয়ে চুক্তি করেনি। এমনকি বাংলাদেশিদের টাকার বিষয়ে সুইজারল্যান্ডের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যও চায়নি বাংলাদেশ।

ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি শুয়ার্ড গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিকাব আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে সুইস রাষ্ট্রদূত সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানতসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন।

বিজ্ঞাপন

গত জুনে সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশিরা প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ গত অর্থবছরে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে জমা করেছেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশিদের আমানত দাঁড়িয়েছে ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ (প্রায় আট হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা)। এটি এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ।

তবে ওই পরিমাণ মোট জমার একটি অংশ মাত্র—এমন ইঙ্গিত মিলেছে সুইস রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে। রাষ্ট্রদূত বলেন, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার পরিমাণ সম্পর্কিত তথ্য পুরোপুরি অনুমাননির্ভর। সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আসলে কত টাকা জমা আছে, সে বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও অন্যান্য প্রতিবেদন থেকে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছা যাবে না।

রাষ্ট্রদূত নাথালি শুয়ার্ড বলেন, ‘সুইজারল্যান্ড দুর্নীতির টাকার নিরাপদ স্বর্গ নয়। যখন সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশি অর্থ থাকার বিষয় আসে তখন তা ব্যক্তিবিশেষের জমা আমানত বোঝায়। এটি শুধু বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি তহবিলের একটি দিক। ’

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার বিষয়ে তথ্যবিনিময়ের সুযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে সুইস রাষ্ট্রদূত বলেন, আন্তর্জাতিক মান বাস্তবায়নে সুইজারল্যান্ড সত্যিই অঙ্গীকারবদ্ধ। আন্তর্জাতিক মান অনুসারে, এ ধরনের বিনিময়ে সুনির্দিষ্ট বিধান ও চুক্তি থাকতে পারে। এ ধরনের একটি ব্যবস্থা দুই দেশের মধ্যে চালু করা উচিত।

রাষ্ট্রদূত বলেন, কিভাবে চুক্তি করা যায়, সে বিষয়ে সব ধরনের তথ্য তাঁরা বাংলাদেশ সরকারকে দিচ্ছেন। তবে কোনো বিশেষ তহবিলের বিষয়ে এখন পর্যন্ত অনুরোধ তাঁরা পাননি।

জমা অর্থের বিষয়ে সুইস রাষ্ট্রদূত বলেন, সুইজারল্যান্ডে সুইস ব্যাংক নয়, বিশ্বজুড়ে সুইস ব্যাংকগুলোতে ব্যক্তিগত আমানতের পরিমাণ কমছে। তিনি বলেন, আমানত এ দেশ থেকে সুইস ব্যাংকে চলে যাক, নিঃসন্দেহে তাঁরা তা চান না। সুইস ব্যাংক সবচেয়ে নামি ও আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত ব্যবস্থা। রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশিরা কত টাকা জমা রেখেছে, ওই তথ্য প্রতিবছর সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক দিয়ে থাকে। ওই অর্থ অবৈধ পথে আয় করা হয়েছে কি না, এটি আমাদের পক্ষে বলা সম্ভব নয়। ’

দুই দেশের মধ্যে গত এক দশকে বাণিজ্য বেড়েছে এবং বর্তমানে এর পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি ডলার বলে জানান সুইস রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক সুইস কম্পানির উপস্থিতি আছে এবং আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির চেষ্টা করছি। ’

রাষ্ট্রদূত জানান, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য সুইজারল্যান্ড কাজ করছে এবং তাদের জন্য মানবিক সহায়তা দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এই সমস্যার সমাধান চাই। এর জন্য রাখাইনে যে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করার প্রয়োজন, সেটি এখনো তৈরি হয়নি। আমরা সেটি সবাই মিলে করার চেষ্টা করছি। ’

জাতীয় প্রেস ক্লাবে ওই অনুষ্ঠানে ডিকাব সভাপতি রেজাউল করিম লোটাস এবং সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মঈনুদ্দিন বক্তব্য দেন।

 

 



সাতদিনের সেরা