kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

উদ্যোগ

ইতিহাসের ভিন্ন রকম সংগ্রহশালা

গোলাম রববিল, রাবি প্রতিনিধি   

১১ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইতিহাসের ভিন্ন রকম সংগ্রহশালা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ‘হেরিটেজ : বাংলাদেশের ইতিহাসের আর্কাইভস’ নামে ভিন্ন রকম এক সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছেন অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন অক্ট্রয় মোড় থেকে সরু গলি ধরে উত্তর দিকে কিছুদূর হাঁটলেই হাতের বাঁয়ে চোখে পড়বে ‘হেরিটেজ : বাংলাদেশের ইতিহাসের আর্কাইভস’ নামের এক সংগ্রহশালা। ইতিহাসের উপকরণ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ২০০২ সালের মার্চ মাসে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় এই প্রতিষ্ঠানটি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইতিহাস বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাহবুবর রহমান এর প্রতিষ্ঠাতা।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরার তাগিদ থেকেই এই আর্কাইভ গড়ে তোলেন অধ্যাপক মাহবুবর রহমান।

বিজ্ঞাপন

‘হেরিটেজ : বাংলাদেশের ইতিহাসের আর্কাইভস’ সংগ্রহশালার যাত্রা শুরু হয় ২০০২ সালের মার্চ মাসে। অধ্যাপক মো. মাহবুবর রহমান তাঁর ডাচ বন্ধু আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ভেলাম ভ্যান সেন্দেলের সঙ্গে ২০০১ সালে কক্সবাজার-রাঙামাটি বেড়ানোর সময় এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। এর নাম ঠিক করা হয় ‘হেরিটেজ : আর্কাইভস অব বাংলাদেশ হিস্ট্রি’। বাংলায় বলা হচ্ছে ‘হেরিটেজ : বাংলাদেশের ইতিহাসের আর্কাইভস’। প্রতিষ্ঠানটির সংক্ষিপ্ত নাম ‘হেরিটেজ আর্কাইভস’।

শিক্ষা ও গবেষণার জন্য আর্কাইভ বা মহাফেজখানার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। পুরনো নথিপত্র, প্রতিবেদন, বইপত্র ইত্যাদি সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করাই একটি আর্কাইভের কাজ। হেরিটেজ আর্কাইভসের প্রধান উদ্দেশ্য বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণামূলক কাজে সহায়তা করা।

তিন তলাবিশিষ্ট এই মহাফেজখানা ঘুরে দেখা গেছে, এখানে সংগৃহীত আছে বাংলাদেশের সব সক্রিয় ও বিলুপ্ত রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন, শ্রমিক, কৃষক, নারী, নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী, পেশাজীবী ইত্যাদি সংগঠনের সব ধরনের নথিপত্র, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নানা ধরনের প্রকাশনা, বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা, পুস্তিকা, বুলেটিন, প্রচারপত্র ইত্যাদি। এ ছাড়া সংরক্ষিত আছে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার স্থানীয় ইতিহাসগ্রন্থ, লোকগীতি, লোকছড়া, পল্লী অঞ্চলের কবি-সাহিত্যিকদের লেখা গ্রন্থ, জীবনীগ্রন্থ, স্মৃতিকথা, গ্রামবাংলার যেকোনো বিষয়ের ওপর প্রকাশিত লেখা বা পাণ্ডুলিপি, নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী ও নারী বিষয়ে যেকোনো লেখা, ছড়া, কবিতা, মানচিত্র, চিত্রকলা, আলোকচিত্র, ব্যঙ্গচিত্র, স্মারকচিহ্ন ইত্যাদি। বিভিন্ন সাময়িক পত্রিকা, লিটল ম্যাগাজিন, গবেষণা জার্নাল, অপ্রকাশিত এমফিল ও পিএইচডি থিসিস, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম সম্পর্কিত ইতিহাসগ্রন্থ, বাংলাদেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কিত গ্রন্থ ইত্যাদিও পাওয়া যাবে এখানে।

হেরিটেজ আর্কাইভসের একটি অংশ জুড়ে রয়েছে পারিবারিক জাদুঘর। এখানে পারিবারিক জীবনের বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সামগ্রী সংরক্ষিত রয়েছে। এসব দুষ্প্রাপ্য জিনিসের মধ্যে রয়েছে হুঁকা, হারিকেন, কুপিবাতি, কলের গান (গ্রামোফোন), পুরনো টেলিফোন সেট, রেডিও, কলম, কালির দোয়াত, টাইপরাইটার, সাইক্লোস্টাইল মেশিন, পুরনো ক্যামেরা, টেপরেকর্ডার, জাঁতা, খড়ম, পানের বাটা, কাঁসার তৈজসপত্র, মাটির জিনিসপত্র, কৃষি যন্ত্রপাতি, মুদ্রা, সেকালের বিয়ের কার্ড, বিয়ের শাড়ি, আমন্ত্রণপত্র ইত্যাদি।

সংগ্রহশালাটি সপ্তাহে ছয় দিন গবেষকদের জন্য সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা থাকে। দেশ-বিদেশের অনেক গবেষক এখানে এসে কাজ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাঁদের পড়াশোনার কাজে এই আর্কাইভে আসেন।

সংগ্রহশালাটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমি সংগ্রহ শুরু করার সময় ভেবেছিলাম, বাংলাদেশের লাইব্রেরিগুলোতে সাধারণত যেসব সংগ্রহ করা হয় না, তা হেরিটেজ আর্কাইভে সংগ্রহ করা হবে। বাংলাদেশের কোথাও কেউ লিফলেট, পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন বা স্মরণিকা সংগ্রহ করে না। একমাত্র হেরিটেজ আর্কাইভেই তা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়। কারণ এগুলোরও ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে। ’

 



সাতদিনের সেরা