kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সনদ লুট হওয়ার অভিযোগ তরুণীর, আটকে গেছে ভর্তি

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি   

৯ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সনদ লুট হওয়ার অভিযোগ তরুণীর, আটকে গেছে ভর্তি

মূল সনদ না থাকায় দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি নার্সিং কলেজে সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে পারছেন না দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী লিপি আক্তার। তাঁর অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশী আল আমিন নামের এক যুবক আসবাবের সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতার সব মূল সনদ লুট করে নিয়ে গেছেন।

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ওই গ্রামের রাজমিস্ত্রি নাজিম উদ্দিনের মেয়ে লিপি আক্তার।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। বিষয়টি মিটমাটে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যের উপস্থিতিতে সালিস-বৈঠক করা হয়। এর পরও লুট হওয়া সনদ ফিরে পাননি বলে জানান লিপি।

থানায় করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জমি নিয়ে লোচনপুর গ্রামের দুই প্রতিবেশী নুর নবী ও নাজিম উদ্দিনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে ২৬ জুন তাঁদের মধ্যে মারামারি বেধে যায়। এতে দুই পক্ষের লোকজন আহত হয়। ঘটনার পরদিন নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে নুর নবীসহ তাঁর স্ত্রী এবং দুই ছেলে শাহাজান ও আল আমিনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন আল আমিন ও তাঁর ভাই মিলে নাজিম উদ্দিনের ঘর থেকে আসবাব, অর্থ ও সোনার গয়নার সঙ্গে তাঁর মেয়ে লিপির এসএসসি ও এইচএসসির মূল সনদ, একটি পেনড্রাইভসহ অন্য কাগজপত্র দিয়ে যান।

লিপির ভাষ্য, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী  বিশ্ববিদ্যালসহ একটি নার্সিং কলেজে চান্স পেয়েছি। সামনে আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশী আল আমিন ঘর থেকে মালপত্রের সঙ্গে আমার এসএসসি ও এইচএসসির সার্টিফিকেট, একটি পেনড্রাইড ও অন্য কাগজপত্র লুট করেছেন। মূল সনদ ছাড়া ভর্তি হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। থানায় অভিযোগ ও সালিস-বৈঠক করেও ফিরে পাইনি সার্টিফিকেট। ’

তিনি বলেন, ‘আমি দরিদ্র ঘরের সন্তান। অভাব-অনটনের মধ্যেও সব পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছি। আমার স্বপ্ন, উচ্চশিক্ষা শেষ করে পরিবারের পাশে দাঁড়াব। ’ এ ব্যাপারে প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা চান লিপি।

জমি নিয়ে লিপিদের সঙ্গে বিরোধ থাকার কথা স্বীকার করে শাহাজান মিয়া জানান, ওই শিক্ষার্থীর সনদ তাঁর ভাই আল আমিন নেননি। তাঁদের হয়রানি করার জন্য এই অভিযোগ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

উত্তর বাখরনগর ইউপি সদস্য শব্দর আলী জানান, সালিসে বসে দুই পক্ষের জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়েছে। লিপি নামের ওই শিক্ষার্থীর সনদ নেওয়ার বিষয়টি আল আমিন অস্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি।

রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবুল কামাল আজাদ বলেন, ‘নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে প্রতিপক্ষ আল আমিন ও শাহাজানের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিরোধ মিটিয়ে দিয়েছেন। ’ তিনি আরো বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা। পরে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা সালিসে আপস-মীমাংসা করে দেন। সার্টিফিকেটসহ আসবাব লুটের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হয়নি। সার্টিফিকেট লুটের বিষয়ে কোনো অভিযোগও পাইনি ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে। ’

 



সাতদিনের সেরা