kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ট্রাফিক সার্জেন্টের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বাইকে আগুন দিলেন চালক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

৯ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রাফিক সার্জেন্টের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বাইকে আগুন দিলেন চালক

সড়কে মোটরসাইকেল আটকানোয় ট্রাফিক সার্জেন্টের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে রাজশাহীতে নিজের বাইকে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন আশিক আলী নামের এক ব্যক্তি। গতকাল সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর কোর্ট মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আশিক এবং তাঁর বাবা আসাদ আলীকে ট্রাফিক অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের বাড়ি নগরীর কাঁঠালবাড়িয়া এলাকায়।

বিজ্ঞাপন

আশিক একজন বালু ব্যবসায়ী। তিনি টিভিএস অ্যাপাচি আরটিআর-১৬৬ সিসির একটি বাইক ব্যবহার করতেন। ছয় মাস আগে টিভিএসের রাজশাহীর পরিবেশকের কাছ থেকে তিনি নতুন বাইকটি কেনেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পেছনে বাবাকে নিয়ে রাজশাহী কোর্ট এলাকার দিক থেকে মোটরসাইকেলে বাড়িতে যাচ্ছিলেন  আশিক। এ সময় সার্জেন্ট আব্দুল কাইয়ুম বাইক থামিয়ে কাগজপত্র দেখতে চান। আশিক বলেন, কাগজপত্র বাসায় আছে। একটু পরে তিনি বাসা থেকে নিয়ে এসে দেখাতে পারবেন। এতে আপত্তি জানিয়ে সার্জেন্ট মোটরসাইকেলটি আটক করেন। একপর্যায়ে আশিক তাঁর বাইকের ফুয়েল পাইপ খুলে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে বাইকটি দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে। পরে স্থানীয় লোকজন পানি দিয়ে আগুন নেভায়। তবে আগুনে বাইকটি পুড়ে গেছে। পরে আশিক ও তাঁর বাবাকে পুলিশের গাড়িতে তুলে ট্রাফিক অফিসে নেওয়া হয়।

আশিক জানান, ছয় মাস আগে তিনি নতুন বাইকটি কিনেছেন। এখনো নিবন্ধন হয়নি। এই ছয় মাসে ট্রাফিক পুলিশ তাঁকে পাঁচ-ছয়টি মামলা দিয়েছে। এতে তাঁর প্রায় ৪০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে। একের পর এক এমন হয়রানির ক্ষোভ থেকে তিনি বাইকেই আগুন দিয়েছেন।

ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করছিলেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট আবদুল কাইয়ুম। তিনি বলেন, ‘সড়ক আইন লঙ্ঘন করে আশিক আলী বাইকে আরো দুজনকে তুলেছিলেন। কারও মাথায় হেলমেট ছিল না। সে জন্য থামানো হয়। এ সময় কাগজপত্র চাইলে তিনি সেটিও দিতে পারেননি। তাই গাড়িটি জব্দ করে ট্রাফিক অফিসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

তখনই রেগে গিয়ে তিনি আগুন ধরিয়ে দেন। ’

আরএমপির মুখপাত্র রফিকুল আলম বলেন, সঙ্গে কাগজ না থাকলে মামলাই দেওয়া যায় না। তাই গাড়ি জব্দ করা হচ্ছিল। তখনই আশিক বাইকে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন। আশিকের সঙ্গে তাঁর বাবাও ছিলেন। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁর ছেলের মাথা গরম। যখন তখন যা তা করেন।

আশিক আলী ও তাঁর বাবা আসাদ আলীকে ট্রাফিক অফিসে কেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে জানতে চাইলে রফিকুল আলম বলেন, ‘এটা আমি এখনো জানি না। ঘটনা সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানার জন্য তাঁদের নিয়ে যেতে পারেন। তাঁদের সঙ্গে হয়তো কথা বলছেন। ’

 



সাতদিনের সেরা