kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

অভিযোগ স্বীকার করে ৫ আসামির জবানবন্দি

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

৮ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অভিযোগ স্বীকার করে ৫ আসামির জবানবন্দি

গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাত্রীবাহী চলন্ত বাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ আসামি অপরাধ স্বীকার করে জবানবান্দি দিয়েছেন। গতকাল রবিবার ১৬৪ ধারায় দেওয়া ওই সব জবানবন্দি রেকর্ড করেন গাজীপুরের তিনজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সানোয়ার হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

অন্যদিকে আদালত সূত্র জানায়, জেলার শ্রীপুর থানার পুলিশ ভুক্তভোগী নারীকে (২১) গতকাল আদালতে হাজির করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করে।

বিজ্ঞাপন

জেলার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এর বিচারক রিফাত আরা সুলতানা ওই নারীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী নারীকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। নির্যাতনের শিকার নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত মিলেছে। গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গতকাল ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়। হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক এ এন এম আল মামুন ও সানজিদা হক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

এ বিষয়ে ডা. এ এন এম আল মামুন জানান, ‘মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা পরীক্ষা করেছেন। কিছু সাইন পজিটিভ আছে। সাইন অব স্ট্রাগল রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিনি। তাঁর সোয়াব সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ’

আসামিদের জবানবন্দির বিষয়ে আদালত সূত্র জানায়, আসামি সজিব ও শাহিনের জবানবন্দি রেকর্ড করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক এখলাস উদ্দিন। আসামি মো. রাকিব মোল্লা ও সুমন হাসানের জবানবন্দি রেকর্ড করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এর বিচারক ইসরাত জেনিফার জেরিন। আরেক আসামি সুমন খানের জবানবন্দি রেকর্ড করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪-এর বিচারক জুবাইদা নাসরিন বর্ণা।

শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আনিসুল আশেকীন জানান, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। নির্যাতনের শিকার নারীর বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলায়। তাঁর স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায়।

আনিসুল আশেকীন আরো জানান, কারখানা থেকে ছুটি নিয়ে স্বামীসহ বাবার বাড়ি গিয়েছিলেন ওই নারী। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নওগাঁ থেকে একতা পরিবহনের একটি বাসে ভালুকার উদ্দেশে রওনা হন তাঁরা। রাত ৩টার দিকে গাজীপুর নগরের ভোগড়া বাইপাসে পৌঁছে বাস থেকে নেমে ভালুকাগামী বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ওই সময় ভালুকাগামী তাকওয়া পরিবহনের একটি বাসের ওঠেন তাঁরা। ওই সময় তাঁরাসহ বাসে ছয়-সাত ছিলেন। গাজীপুর সদর উপজেলার হোতাপাড়া পৌঁছার পর দুজন যাত্রী নেমে যান। বাসটি মাওনা চৌরাস্তা পাওয়ার হওয়ার পর ওই নারীর স্বামীকে মারধর শুরু করে। এরপর স্বামীকে বাস থেকে ফেলে দেওয়া হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম আজিজুর রহমান জানান, স্বামীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার পর ওই নারীর চোখ বেঁধে ফেলা হয়। এরপর ওই নারীর ওপর পালাক্রমে নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় ওই নারীর কাছ থেকে তাঁর ব্যবহৃত একটি মুঠোফোন, ১০ হাজার ৫০০ টাকা, ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডসহ সঙ্গে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। সকাল ৭টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর ফুট ওভারব্রিজের নিচে ভুক্তভোগী নারীর হাতে ১০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বাস থেকে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর মহাসড়কের টহল পুলিশকে ঘটনার বিস্তারিত জানান ওই নারী। পুলিশ তাঁকে জয়দেবপুর থানায় পৌঁছে দেয়।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সানোয়ার হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর চান্দনা চৌরাস্তা থেকে বাসটি জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় দুজনকে। পরে ওই দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শ্রীপুর উপজেলার কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বাসা থেকে আরো তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব আসামি তাঁদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন।

 



সাতদিনের সেরা