kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

প্রকৃতি

চারুকলার আগুনরঙা ফুল

মোহাম্মদ আসাদ   

৫ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চারুকলার আগুনরঙা ফুল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে ফুটেছে আগুনরঙা ফুল। ছবি : কালের কণ্ঠ

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় অবস্থিত রবীন্দ্রনাথের গড়া শিক্ষাতীর্থ শান্তিনিকেতন। প্রকৃতির কোলে প্রতিষ্ঠিত এ ভিন্নধর্মী শিক্ষায়তনকে ফুলের রাজ্য বললে বাড়িয়ে বলা হবে না মোটেও। কবিগুরু সেখানে লাগিয়েছিলেন অগুনতি ফুলের গাছ। সেই সব গাছ-ফুল-লতার কথা উঠে এসেছে তাঁর রচনাকর্মে।

বিজ্ঞাপন

পরিসরে অনেক ছোট হলেও শান্তিনিকেতনের অনুপ্রেরণায়ই যেন নানা ব্যতিক্রমী বৃক্ষ-লতায় সেজে উঠছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ। বেশ উৎসাহের সঙ্গে এই সবুজায়নে যুক্ত চারুকলা অনুষদের ডিন শিল্পী নিসার হোসেন। প্রকৃত প্রকৃতিপ্রেমীর আগ্রহে বৃক্ষ-লতার পেছনে সময় দেন তিনি। তাঁর সহকর্মীদলের শিল্পী শিশির ভট্টাচার্য আগ্রহ নিয়ে পরিচর্যা করেন গাছগুলোর। তাঁদের উৎসাহ-উদ্দীপনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যেখানেই দৃষ্টিনন্দন বা দুর্লভ গাছগাছালি পান, এনে রোপণ করেন চারুকলা অনুষদ অঙ্গনে।

চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণের ছোট জলাশয়টির বেঞ্চে বসে পূর্ব দিকে তাকালে চোখে পড়বে লকলকিয়ে ওপরে উঠতে থাকা তরতাজা একটি লতা। তার শাখায় আগুনরঙা ফুল। অনেকের কাছেই নতুন মনে হবে এ ফুল। বহুবর্ষজীবী শক্ত লতাটির পাতাগুলো নৌকা বা চোখ আকৃতির। পাতার মধ্যে তিনটি শিরা বোঁটা থেকে অগ্রভাগ পর্যন্ত গিয়ে মিলেছে। দেখতে অনেকটা তেজপাতার মতো। শাখার আগায় থোকায় থোকায় ফুল ফুটে আছে। নবীন ফুলের রং হলুদ। ফুলের বয়স বাড়লে কমলা থেকে লাল রং ধারণ করে। হলুদ-কমলা-লাল ফুল একসঙ্গে দেখলে মনে হয় গাছে আগুন লেগেছে। ফুলের গড়ন জারুল ফুলের মতো। এতে পাঁচটি পাপড়ি।

অনুসন্ধানে জানা গেল, লতাটি লাগিয়েছেন চারুকলা অনুষদের শিক্ষক তরুণ শিল্পী ঝোটন চন্দ্র রায়। প্রকৃতিপ্রেমী এই শিক্ষক বললেন, ‘নানা জায়গা থেকে দুর্লভ গাছ-লতা এনে আমার সংগ্রহ সমৃদ্ধ করেছি। আমি দুর্লভ গাছ-লতার জন্য অনলাইনে অনেকগুলো গ্রুপে খোঁজখবর রাখি। একটি গ্রুপে এই লতাটিসহ বিরল কিছু গাছের খোঁজ পাই। এর উদ্যোক্তা তানভির আহমেদ বলেছেন, তিনি সিঙ্গাপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে পাঁচটি লতা এনেছিলেন। আমি তাঁর কাছ থেকে একটি সংগ্রহ করি। উনি বলেছেন, এর বৈজ্ঞানিক নাম  Bauhinia coccinea। ’

শিল্পী ঝোটন চন্দ্র রায় বলেন, তিনি প্রথমেই সিদ্ধান্ত নেন, সুন্দর এই ফুল চারুকলায় থাকলেই ভালো হবে। লতাটি ২০১৮ সালে এনে লাগিয়েছিলেন। ২০২০ সাল থেকে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। এ বছর গাছের বৃদ্ধি বেশি হয়েছে এবং ফুলও ফুটেছে বেশি। ঝোটন চন্দ্র জানান, পরে তিনি শুনেছেন সিঙ্গাপুর থেকে আনা পাঁচটি গাছের মধ্যে শুধু এই গাছটিই বেঁচে আছে।

 



সাতদিনের সেরা