kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

চার হলের শিক্ষার্থীদের রাতভর সংঘর্ষ

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

২ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চার হলের শিক্ষার্থীদের রাতভর সংঘর্ষ

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) চারটি হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কয়েক দফায় ধাওয়াধাওয়ি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, প্রধানমন্ত্রীর ছবিসহ জাতীয় নেতাদের ছবি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আহতদের মধ্যে ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী আনজারুল ইসলামসহ পাঁচ-ছয়জনকে দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আনজারুলের পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আগের কোনো এক ঘটনার জের ধরে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরি-২ হলের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী আনজারুল ইসলামকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৮-১০ জন শিক্ষার্থী মারধরসহ ছুরিকাঘাত করেন। এতে আনজারুলকে দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনা জানাজানি হলে ওই রাতেই ৮-১০ জন শিক্ষার্থী শেখ রাসেল হলে আশ্রয় নেন। এ সময় ডরমিটরি-২ হলের শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে শেখ রাসেল হলে গিয়ে হামলা চালান। এতে উভয় হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়াধাওয়ি শুরু হয়।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করে এবং ঘটনাটির একটা মীমাংসা করে দেয়। মীমাংসা চলাকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের এক শিক্ষার্থী ডরমিটরি-২-এর সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ওই হলের শিক্ষার্থীরা তাঁকে চড়থাপ্পড় দেন। পরে শেখ রাসেল হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ডরমিটরি-২ আবাসিক হলের ভেতরে ঢুকে ধাওয়া দেন এবং ভাঙচুর চালান। এরপর ডরমিটরি-২ ও তাজউদ্দীন আহমদ হলের শিক্ষার্থীরা একত্র হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে হামলা চালান। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে তাঁরা ওই হলের ভেতরে ভাঙচুর চালান। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেন।

সংঘর্ষে ওই চার হলের ৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার বিধান চন্দ্র হালদারকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সংঘর্ষকালে ডরমিটরি-২-এর কয়েকজন ছাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের কলাপসিবল গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় তাঁরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় চার নেতা, হাজী মোহাম্মদ দানেশের ছবি ভাঙচুর করেন। এতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির টাইলসের কিছু অংশ ভেঙে গেছে। এ ছাড়া ভাঙচুর থেকে হলের সিঁড়ির সব থাই, মোটরসাইকেল, সিসিটিভি, ক্যান্টিনের গ্লাস, ছাদের দরজা, ক্যান্টিনের দরজা, হলের সামনে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, ডাস্টবিন, পানি খাওয়ার কলসহ বাদ যায়নি কোনো কিছুই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বেশ কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মেয়েকে ইভ টিজিংকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর মুখে কেউ কিছু না বললেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর মামুনুর রশিদ বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে হামলা করল, প্রধানমন্ত্রীর ছবিতে কারা হামলা করল। যারা এই ধরনের কর্মকাণ্ড করেছে সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ ও সার্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ’

বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জসীম উদ্দিন বলেন, রাতে আহত অবস্থায় প্রায় ৪০ জন ছাত্র প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। শুক্রবার সকালে আরো কয়েকজন আহত শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচ-ছয়জন বেশি আহত হওয়ায় দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 



সাতদিনের সেরা