kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ আগস্ট ২০২২ । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১২ মহররম ১৪৪৪

বিএসএফের অতিরিক্ত মহাপরিচালক

সীমান্তে অপরাধ মোকাবেলার কৌশল বদলেছে বিএসএফ

মেহেদী হাসান, কলকাতা থেকে   

১ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সীমান্তে অপরাধ মোকাবেলার কৌশল বদলেছে বিএসএফ

বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তে অপরাধ মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে কৌশল বদলেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। একান্ত বাধ্য না হলে মারণাস্ত্র ব্যবহার না করতে লিখিত ও মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে  বিএসএফ সদস্যদের। গত বুধবার বিকেলে কলকাতায় বিএসএফের ইস্টার্ন কমান্ডের বিশেষ মহাপরিচালকের কার্যালয়ে এ কথা জানান বিএসএফের অতিরিক্ত মহাপরিচালক যোগেশ বাহাদুর কুর্নিয়া।

কালের কণ্ঠের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সীমান্তে অপরাধ কমেছে।

বিজ্ঞাপন

সেই সঙ্গে বিএসএফের বিরুদ্ধে অভিযোগও কমেছে। আত্মরক্ষায় একান্ত বাধ্য না হলে সীমান্তে মারণাস্ত্র ব্যবহার না করার লিখিত ও মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বিএসএফ সদস্যদের।

যোগেশ বাহাদুর কুর্নিয়া বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে গত ১৫ দিনে বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তে দুজন নিহত হয়েছে। ওই দুজনই ভারতীয়। সীমান্তে হতাহতের ঘটনা অনেক কমেছে। বিএসএফ এ সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে চায়। তিনি বলেন, রাতের অন্ধকারে একজন বিএসএফ সদস্যকে ১৫ থেকে ২০ জন ঘিরে ধরে তাঁর ওপর হামলা চালায়। চোরাকারবারিদের হামলায় বিএসএফ সদস্যদেরও মৃত্যু হয়েছে।

কুর্নিয়া বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত বন্ধু রাষ্ট্র। সীমান্তেও বন্ধুত্ব পুরোপুরি বজায় রাখতে চায় বিএসএফ। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী পাকিস্তান সীমান্তেও দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু সেই সীমান্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের চেয়ে পুরোপুরি আলাদা।

কুর্নিয়া বলেন, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে বিএসএফের খুব ভালো সম্পর্ক আছে। চোরাকারবারিদের তালিকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা নিয়মিত তথ্য আদান প্রদান করে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুই বাহিনী ও সীমান্তবর্তী জনগণের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সীমান্তে যৌথ পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে ফুটবল, ভলিবল ম্যাচ আয়োজন করা হচ্ছে। এ ছাড়া মৈত্রী সাইকেল শোভাযাত্রাও আয়োজন করা হয়েছে।

বিএসএফের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জরুরি মানবিক দিক বিবেচনা করে দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার লোকজনের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সীমান্তের দুই পাড়ের বাসিন্দাদের অনেকেই পরস্পরের আত্মীয়। কিন্তু তাঁরা সহজে একে অন্যের বাড়িতে যেতে পারেন না। কারণ তাঁদের বাড়িগুলোর অবস্থান দুটি ভিন্ন দেশে। কিছুদিন আগে ভারতীয় এলাকায় মৃত্যুশয্যায় থাকা এক নারী তাঁর ছেলেকে বললেন, সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে থাকা তাঁর মেয়ের সঙ্গে তিনি শেষ দেখা করতে চান। তা না হলে তিনি মরেও শান্তি পাবেন না। মৃত্যুশয্যায় থাকা সেই নারীর পরিবারের কাছ থেকে খবর পেয়ে বিএসএফ তাঁদের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেছিল। বিএসএফ বিষয়টি বিজিবিকে জানায়। বিজিবি তাতে সাড়া দেয়। এরপর সীমান্ত রেখার দুই প্রান্তে দুই পরিবারের সদস্যরা বিজিবি-বিএসএফের উপস্থিতিতে জড়ো হয়।

কুর্নিয়া বলেন, এই ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর তারা বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছেন। এ ধরনের অনুরোধ আরো আসছে। এ ছাড়া সীমান্তের এ পাড়ে কারো মৃত্যুর পর ওপারের স্বজনদেরও এভাবে দেখানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

কুর্নিয়া বলেন, ‘আইনের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ যতটা সম্ভব আমরা এমন মানবিক উদ্যোগ নেব। সীমান্ত দুই দেশের মানুষকে বিভক্ত করেছে। তাঁদের প্রয়োজন, বিশেষ করে মানবিক প্রয়োজনগুলোর দিকে বিএসএফের দৃষ্টি আছে। ’

বিএসএফের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আরো বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বিএসএফ আরো কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। যেমন কেউ অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে ঢুকে গেলেই তাকে আটক করে আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করা ব্যক্তির কাছে যদি নিষিদ্ধ কোনো কিছু না থাকে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে যদি অন্য কোনো অপরাধের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া না যায় তবে সেখান থেকেই বিজিবিকে ডেকে তাকে হস্তান্তর করে বিএসএফ।

কুর্নিয়া বলেন, ধরা পড়া ব্যক্তির পরিচয় যাচাইয়ে এপার থেকে বেশি সময় নেওয়া হলে তাদের কিছু করার থাকে না। কারণ বিএসএফ কাউকে ২৪ ঘণ্টার বেশি আটকে রাখতে পারে না। ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তের যেসব অংশে মানবপাচার বেশি হচ্ছে সেসব অংশে মানবপাচারবিরোধী ইউনিটের সদস্যদের মোতায়েন করেছে বিএসএফ। অতিরিক্ত মহাপরিচালক কুর্নিয়া বলেন, ওই সদস্যরা বিভিন্ন আইন বিষয়ে প্রশিক্ষিত। বিশেষ করে, নারী ও শিশুরা পাচারের শিকার হচ্ছে কি না সেদিকে তাদের বিশেষ দৃষ্টি থাকে। একই সঙ্গে মাদক চোরাচালান রোধেও তৎপর রয়েছে বিএসএফ।

 

 



সাতদিনের সেরা