kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

সবিশেষ

হারিয়ে যাবে নিল নদের ভাসমান বাড়ি?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩০ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



হারিয়ে যাবে নিল নদের ভাসমান বাড়ি?

পর্যটকদের কাছে খুব জনপ্রিয় মিসরের নিল নদে ভাসমান উজ্জ্বল রঙের বাড়ি বা হাউসবোটগুলো। কায়রোর সাংস্কৃতিক ও স্থাপত্য সম্পর্কিত ইতিহাসের অন্যতম অংশ এই বাড়িগুলো। কিন্তু এ সপ্তাহ থেকেই হয়তো বদলে যাচ্ছে এগুলোর ভবিষ্যৎ। নদীতীরের সৌন্দর্যবর্ধনের নামে অল্প যে কয়েকটি হাউসবোট রয়েছে, তা ধ্বংস করে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে মিসরীয় কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

নিল নদের তীর ঘেঁষে বর্তমানে হাউসবোট রয়েছে সাকল্যে ৩০টির মতো। সৌন্দর্যবর্ধনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এগুলো সরিয়ে ফেলা হবে এ যুক্তি মানতে নারাজ বহু মিসরীয়। হাউসবোটগুলোর বেশ কয়েকটিতে বর্তমানে আশ্রিত রয়েছে দরিদ্র মানুষ। কয়েকটিতে গড়ে তোলা হয়েছে অফিস, জিম, রেস্তোরাঁর মতো ব্যবসা। এ ছাড়া ব্যাপক খরচ করে ঠিকঠাক করা হয়েছে কয়েকটি।

মিসরীয় সাহিত্যিক আহদাফ সুয়েফ বলেন, ‘হাউসবোটগুলোর জীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন রকমের। আপনি প্রকৃতির মাঝে যেন একদম ডুবে আছেন। আপনার মাত্র এক মিটার নিচেই নদী। ’ সুয়েফের পারিবারিক হাউসবোটটিও সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে।

এ ধরনের বাড়িগুলো মিসরে ‘আওয়ামাত’ নামে পরিচিত। আরবি থেকে বাংলা করলে যার অর্থ দাঁড়ায় ‘ভাসমান’। সামাজিক মাধ্যমেও আওয়ামাত প্রশ্নে শুরু হয়েছে সমালোচনা।

যেমন টুইটারে নোরা জাইদ নামের একজন লিখেছেন, ‘এই হাউসবোটগুলো শুধু কয়েক দশক ধরে বসবাসরত মানুষের বাড়ি নয়, এগুলোর কোনো কোনোটি ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন। এগুলো আমাদের ইতিহাসের অংশ, যা কখনো মুছে ফেলা সম্ভব নয়। ’

হাউসবোটগুলো ধ্বংস করে ফেলার নির্দেশনা প্রসঙ্গে মিসরীয় সরকার বলছে, কয়েক দশক আগে এই বাড়িগুলো অনুমতি ছাড়া তৈরি করা হয়েছিল।

সেচ মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা নদী থেকে এ ধরনের ঘরবাড়ি সরানোর প্রচারণা অব্যাহত রাখবে। এগুলো ‘আইনের পরিষ্কার লঙ্ঘন’ হিসেবেই দেখছে তারা। সেচমন্ত্রী মোহাম্মেদ আবদেল আতি বলেছেন, এটি ‘নিল নদে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা। ’

অটোমান সাম্রাজ্যের আমলে ধনী মিসরীয় পাশারা প্রায়ই নিজেদের দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে হাউসবোট বানাতেন। অনেক সময় নাচে-গানে অতিথিদের মনোরঞ্জন করা হতো এই বাড়িগুলোতে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সেনারা থাকার জন্য এই বাড়িগুলো ব্যবহার করেছে। সূত্র : বিবিসি

 



সাতদিনের সেরা