kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

ট্রাকের ভেতর ৪৬ অভিবাসনপ্রত্যাশীর লাশ যুক্তরাষ্ট্রে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রাকের ভেতর ৪৬ অভিবাসনপ্রত্যাশীর লাশ যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের মেক্সিকো সীমান্তসংলগ্ন স্যান অ্যান্টোনিও শহরে একটি পরিত্যক্ত ট্রেইলার ট্রাক থেকে ৪৬ অভিবাসনপ্রত্যাশীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অবৈধ অভিবাসী ইস্যুটি ওই এলাকায় পরিচিত বিষয় হলেও একসঙ্গে এত বেশি মানুষের মৃত্যুর ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য ও শোকের সৃষ্টি করেছে। সেই সঙ্গে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে বাইডেন সরকারের অভিবাসননীতি নিয়েও।

স্যান অ্যান্টোনিও শহরের যেখানে স্থানীয় সময় গত সোমবার লাশবাহী ট্রাকটি পাওয়া গেছে, তা অভিবাসী পাচারের পরিচিত রুটের খুব কাছে।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে রিমান্ডে নেওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন ট্রাকচালক। পুলিশ, অগ্নিনির্বাপণ কর্মী ও অ্যাম্বুল্যান্সের সমন্বয়ে উদ্ধারকাজ চালানো হয়।

স্যান অ্যান্টোনিও ফায়ার সার্ভিসের প্রধান চার্লস হুড বলেন, ‘আমরা ৪৬ জনের লাশ উদ্ধার করেছি। এ ছাড়া চার শিশুসহ ১৬ জনকে যখন হাসপাতালে পাঠানো হয়, তখন তারা জীবিত ও সচেতন ছিল। প্রাথমিকভাবে মৃতদের বয়স বা জাতীয়তাসংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ’

চার্লস হুড আরো বলেন, ‘উদ্ধারকৃতদের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল। তারা অতিরিক্ত গরমের কারণে অবসাদ এবং হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিল। ট্রাকটিতে কোনো পানীয় জল ছিল না। এতে দৃশ্যত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকলেও সক্রিয় কোনো কুলিং ইউনিট ছিল না। ’

স্যান অ্যান্টোনিও শহরের মেয়র রন নিরেনবার্গ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আজ সন্ধ্যায় আমরা একটি ভয়ংকর দুঃখজনক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছি। মৃত ব্যক্তি ও তাদের স্বজনদের জন্য প্রার্থনা করতে সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এই মানুষগুলোকে এমন অমানবিক পরিস্থিতিতে ফেলার জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করা হবে। ’

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণের প্রতিবেশী মেক্সিকোর সীমান্ত থেকে মাত্র ২৫০ কিলোমিটার দূরে স্যান অ্যান্টোনিও শহর। এটি মানবপাচারকারীদের বহুল ব্যবহৃত রুট। ওই অঞ্চলে বর্তমানে তীব্র দাবদাহ চলছে। গত সোমবার এই এলাকায় ৩৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

স্যান অ্যান্টোনিওতে হাইওয়ে আই-৩৫-এর কাছে ট্রাকটি পাওয়া যায়। এটি একটি বড় সড়ক, যা মেক্সিকো সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত।

স্যান অ্যান্টোনিও শহরের পুলিশের প্রধান উইলিয়াম ম্যাকম্যানাস বলেন, ‘ঘটনাস্থলের পাশের একটি ভবনে কর্মরত এক ব্যক্তি সাহায্যের জন্য আর্তনাদ শুনতে পান। পরে তিনি খোঁজ নিতে এসে পেছনের দরজা আংশিক খোলা অবস্থায় ট্রাকটি দেখতে পান। দরজা খোলামাত্রই তিনি বেশ কয়েকজনের লাশ দেখতে পান। ’

এ ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তর। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, মানবপাচারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

রাজনৈতিক দোষারোপ

এদিকে এ ঘটনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দায়ী করেছেন টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। এই রিপাবলিকান নেতার ভাষ্য, এই ঘটনা ডেমোক্র্যাটদের ‘উন্মুক্ত সীমান্তনীতির ফল’।

মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সেলো এবরার্ড এই ঘটনাকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীদের জাতীয়তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি; কিন্তু বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন গুয়াতেমালার বাসিন্দা।

২০১৭ সালে একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল স্যান অ্যান্টোনিওতে। ওই ঘটনায় ট্রাকে গাদাগাদি করে ২০০ জন যাত্রী বহন করা হয়েছিল। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বিকল হয়ে পড়ায় এবং কোনো বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় গরমে ও দম বন্ধ হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ধারণা করা হয়, গাড়ি থামার পর বেশির ভাগ যাত্রীই পালিয়ে গিয়েছিল। পরে এসব মৃত্যুর দায় স্বীকার করেন ট্রাকচালক। সূত্র : এএফপি



সাতদিনের সেরা