kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

জমি দখলে চার কাউন্সিলর

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২৮ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জমি দখলে চার কাউন্সিলর

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের চার কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধেও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। লিখিত অভিযোগ করেও এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সুরাহা পাচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘোড়ামারা বাজারে ব্যাংকে মর্টগেজ দেওয়া দুই শতাংশ জমি আদালতের মাধ্যমে কিনে নেন হারুন অর রশিদ।

বিজ্ঞাপন

প্রায় ১০ বছর আগে ৪২ লাখ টাকা দেনা পরিশোধ করে ওই জমি কিনে নামজারিসহ খাজনা পরিশোধ করছেন। সম্প্রতি জমিটি দখল করেছেন স্থানীয় ১২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আহসান হাবিব হাসান। হাসান দাবি করেন, তিনি জমিটির মূল মালিক আসাদুজ্জামানের ওয়ারিশদের কাছ থেকে আরো আগে জমিটি কিনেছেন। সোনা মসজিদ স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ার সুবাদে আহসান হাবিব হাসান আমার জায়গাটি জোর করে দখল করে আছেন। ’

নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহাদৎ হোসেন শাহু একসময় সাইকেলের মেকার ছিলেন। এখন তিনি শত কোটি টাকার মালিক। নওদাপাড়ায় রয়েছে তাঁর নামে-বেনামে অন্তত ৫০ বিঘা জমি। যেগুলোর বেশির ভাগ জোর করে দখল করা। এই শাহুর বিরুদ্ধে নগরীর শাহ মখদুম থানা ও সিটি মেয়রের কাছে অন্তত ১০টি অভিযোগ রয়েছে জমি দখলের। এলাকার বাসিন্দা মাজেদুর রহমান ও নাইমুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘শাহুর দোকান থেকে রড সিমেন্ট না নিলে বাড়ি করতে বাধা দেওয়া হয় জমি মালিকদের। ’ তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কাউন্সিলর শাহাদৎ হোসেন শাহু বলেন, ‘আমি পরিশ্রম করে সম্পদ গড়েছি। কারো জমি দখলের প্রশ্নই আসে না। যেসব অভিযোগ হয়েছে এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। ’

এদিকে তেরোখাদিয়ায় জমি কেনাবেচা করেন ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনার হোসেন আনার। একসময় মুদি দোকানদার ছিলেন। এখন ওই এলাকায় রয়েছে তাঁর অন্তত ১০ বিঘা জমি। আছে দামি গাড়িও। তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে জমি দখলের অভিযোগ। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘জমি কেনাবেচা করলেও কেউ বলতে পারবে না কারো জমি দখল করেছি। আমি বৈধ পথেই আয় করি। ’

১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে ছয় কাঠা জমি দখলের অভিযোগ করেছেন মান্দা কলোনির অলোক হোসেন। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমির বিষয়টি সুরাহার জন্য মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন সময় নিয়েছেন। অলোক হোসেন বলেন, ‘আমাদের জমি কোনো কাগজ ছাড়াই দখল করেছেন বেলাল। দ্রুত জমি ফেরত না পেলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করব। ’ তবে বেলাল হোসেন বলেন, ‘জমিটি আমার কেনা সম্পত্তি। দখলের কোনো সুযোগ নাই। ’

জমির বিরোধে খুনোখুনিও হয়। গত বছরের ৩০ জুন দাশপুকুরে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেনের অনুসারীদের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়। এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়। একটি মামলায় কাউন্সিলর কামাল হোসেন এক নম্বর আসামি।

এ বিষয়ে মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সম্প্রতি থানায় যেসব অভিযোগ আসছে, তার মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশই জমির দ্বন্দ্ব। এর মধ্যে অনেক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আসছে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অনেক অভিযোগ পুলিশ সুরাহার চেষ্টা করছে। ’

 



সাতদিনের সেরা