kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

ফুল

ভাদ্রা যেন এক হলদে পাখি

মোহাম্মদ আসাদ   

২৮ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাদ্রা যেন এক হলদে পাখি

গাছে ফুটে আছে ভাদ্রা ফুল। ছবি : কালের কণ্ঠ

ভাদ্রা লতা ভারতীয় উপমহাদেশের উদ্ভিদ প্রজাতি হলেও আমাদের দেশের বাগানে বা বুনো জায়গায় কমই দেখা যায়। কাঁটাযুক্ত শক্ত এই লতা দেখতে অনেকটাই বাগানবিলাস লতার মতো। ফুল না ফুটলে বাগানবিলাস আর ভাদ্রা লতা আলাদা করা কঠিন। বলা হয়, বাংলা বর্ষপঞ্জির ভাদ্র মাসে বেশি ফুল ফোটে বলেই এর নাম ভাদ্রা।

বিজ্ঞাপন

ভাদ্রা লতার শাখার ডগায় ছোট কলার মোচার মতো কলি ঝুলে থাকে। ফ্যাকাসে-খয়েরি সেই কলি অনেক মোড়ক মিলে তৈরি। প্রতিটি মোড়কের নিচ থেকে ফানেলের মতো হলুদ ফুল ফোটে। ফুলের মুখ চার সেন্টিমিটারের মতো চওড়া, পাপড়ি জড়ানো এবং ফুলের অগ্রভাগ অসমান।

ফুটে থাকা ভাদ্রা ফুল হঠাৎ দেখলে মনে হতে পারে, কলার মোচায় ছোট একটি হলুদ রঙের পাখি ঝুলে আছে। মঞ্জরির ওপর দিক থেকে ফুল ফুটতে ফুটতে নিচের দিকে গিয়ে শেষ হয়। একসঙ্গে অনেক ফুল ফুটলে পরিবেশটাই বদলে যায়। হয়ে ওঠে ঝলমলে। ফুলের মধু খেতে পিঁপড়ার দল ভিড় করে ভাদ্রা লতায়। ভাদ্রা ফুল ফুটতে শুরু করে গ্রীষ্মকাল থেকে। গাছে ফুল থাকে শরৎ পর্যন্ত।

ভাদ্রা লতা দ্রুত বর্ধনশীল চিরসবুজ কাঁটাযুক্ত কাষ্ঠল লতা জাতীয় উদ্ভিদ। গাছটি কোনো কিছুতে ভর করে বেড়ে ওঠে কিংবা বেড়ে ওঠার জন্য কিছু ধরার ব্যবস্থা করে দিতে হয়। ভবনের গেটের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য লাগানো হয় বেশি। অনেকে দেয়ালের পাশেও লাগিয়ে থাকে। বাগানের মধ্যখানে ভাদ্রার ঝাড় তৈরি

করলেও চমৎকার লাগে দেখতে। একবার এই লতা লাগিয়ে দিলে বছরের পর বছর ফুলে ফুলে সেজে থাকে। শুধু প্রতি বছর নিয়ম করে কেটেছেঁটে ঠিক রাখতে হয়। ফুল শেষে সবুজ রঙের বরই আকৃতির ফলের দেখা মেলে।

কাঁটাযুক্ত হওয়ায় গবাদি পশুরা খেতে পারে না বলে ভাদ্রাকে কেউ কেউ বেড়া হিসেবেও ব্যবহার করে। প্রাকৃতিকভাবে ভাদ্রা ফুল ফোটার স্থান মূলত জঙ্গল ও পাহাড়ি অঞ্চল। এ কারণে উদ্যান ও ব্যক্তিগত বাড়ির বাইরে হারিয়ে যাচ্ছে সুন্দর এই ফুলটি।

বীজ থেকে তৈরি করা চারা ও ডাল কাটিং পদ্ধতির মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার করা যায়। আমাদের দেশে ফুলটির চাষ হয় মূলত কলমের মাধ্যমে। রাজধানীতে মিরপুর জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান, রমনা পার্ক, বলধা গার্ডেনের পাশাপাশি কিছু বাড়ির সামনে দেখা মেলে ভাদ্রা ফুলের। এখন গাছগুলো ফুলে ফুলে সেজে আছে। সুন্দর এই ফুলটির বৈজ্ঞানিক নাম  Gmelina hystrix।



সাতদিনের সেরা