kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

চার মাস পর শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৮ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চার মাস পর শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল

দেশে প্রায় চার মাস পর এক দিনে দুই হাজারের বেশি করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত রবিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ১০১ জন। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই তথ্য জানিয়েছে। এই ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে দুজনের।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক দিনে দুই হাজার ১৫০ রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানায়।

করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হারও উদ্বেগজনক। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয় ১৩ হাজার ৯২০টি। আর  অ্যান্টিজেন টেস্টসহ নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১৩ হাজার ৮২০টি। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার দাঁড়ায় ১৫.২০ শতাংশ।

করোনা সংক্রমণের এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে পাঁচ থেকে ১২ বছর বয়সী দুই কোটি ২০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব শিশুকে দেওয়া হবে ফাইজারের টিকা। কবে নাগাদ এই টিকা দেওয়া হবে, তা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘোষণা করবেন।

এদিকে সরকারি তথ্য অনুসারে, দেশে করোনায় গত মার্চ মাস থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত প্রায় ৬৮টি মৃত্যুহীন দিন পার করার পর গত ২০ জুন থেকে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত আট দিনের সাত দিনেই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের একজন পুরুষ, অন্যজন নারী। একজনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে এবং অন্যজনের ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে। দুজনই ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ছিলো। এ দুজনসহ দেশে ২৯ হাজার ১৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শনাক্ত হয়েছে ১৯ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৪ জন আর সুস্থ হয়েছে ১৯ লাখ ছয় হাজার ৮৬৭ জন।

ওমিক্রনের দাপটই চলছে

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরিন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে এখনো করোনার ওমিক্রন ধরন এবং এর উপধরনের সংক্রমণ চলছে। ’ 

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে মূল আলোচকের বক্তব্যে বলেন, করোনাভাইরাসের নতুন ধরন (ওমিক্রন এবং এর উপধরন) দ্রুত ও ব্যাপকভাবে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি প্রায় ১০ জনকে সংক্রমিত করতে পারে। তবে সংক্রমণের হার বাড়লেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

বর্তমান পরিস্থিতিকে করোনাভাইরাসের চতুর্থ ঢেউ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় লকডাউনের মতো পদক্ষেপের প্রয়োজন পড়বে না। তবে বেপরোয়াভাবে চলাচল বা স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করা যাবে না।

তিনি করোনার এ ঢেউ মোকাবেলা করতে মাস্ক পরার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করে সবাইকে হাত ধোয়ার অভ্যাস চর্চা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে যারা এখনো টিকা নেয়নি তাদের টিকা গ্রহণের আহ্বান জানান।

আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বর্তমান উপদেষ্টা ডা. মোস্তাক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিপদ এড়াতে হলে বদ্ধ ঘরে একসঙ্গে অনেকে থাকা যাবে না। ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। করোনা সংক্রমণ দ্রুত আরো বাড়তে পারে। মাস্ক পরা ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়া—এসব স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে অবহেলা আমাদের বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। ’

করোনার উপসর্গ থাকার পরও অনেকে পরীক্ষা করাচ্ছে না। বাসায়ই সময় পার করছে। এ ধরনের তথ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, উপসর্গ থাকলে দ্রুত পরীক্ষা করাতে হবে। কারণ অন্য কোনো কারণেও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে করোনা পরীক্ষা না করা থাকলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে।  

৫-১২ বছর বয়সীদের টিকা : করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশে পাঁচ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের ফাইজারের টিকা দেওয়া হবে। এ টিকা নিতে শিশুদের জন্ম নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে। গতকাল দুপুরে রাজধানীতে এক আলোচনাসভায় এই তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

ইউজিসির সেমিনারে একই তথ্য জানান অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, শিগগিরই পাঁচ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের করোনাভাইরাসের টিকার আওতায় নিয়ে আসার বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। তিনি বলেন, নাকে নেওয়ার কভিড ওষুধের ট্রায়াল শিগগিরই দেশে শুরু হতে পারে। বাংলাদেশ ও সুইডেনের যৌথ উদ্যোগে এই ওষুধ বাংলাদেশে তৈরি করা হবে। এই ওষুধ করোনাভাইরাসের সব ভেরিয়েন্টের বিরুদ্ধেই প্রায় শতভাগ কার্যকর হবে এবং এটি মানুষকে অনেক বেশি সুরক্ষা দেবে বলে তিনি জানান।

পাঁচ থেকে ১২ বছর বয়সীদের করোনা টিকা কবে নাগাদ দেওয়া হবে, এ প্রশ্নে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) পরিচালক ডা. মো. শামসুল হক বলেন, সময়টি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। এ সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘোষণা দেবেন। টিকার মজুদ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে পর্যাপ্ত টিকা আছে। যুক্তরাষ্ট্র আরো ৪০ লাখ ডোজ টিকা দিচ্ছে। রাতেই (গত রাত) তা পেয়ে যাব। ’

এদিকে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গতকাল বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে আরো ৪০ লাখ ডোজ ফাইজারের টিকা অনুদান দিতে পেরে গর্বিত। এ পর্যন্ত বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান দেওয়া টিকার সংখ্যা ৬৮ মিলিয়নেরও বেশি, যা বাংলাদেশ সরকারকে সারা দেশে টিকাদান ও বুস্টার ক্যাম্পেইন সম্প্রসারণ করতে এবং কভিড-১৯ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে। আমরা এখনো এ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করছি। ’

 



সাতদিনের সেরা