kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

দুই দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বাড়ল ১০ টাকা

সজীব আহমেদ   

২৪ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে




দুই দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বাড়ল ১০ টাকা

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামেও এত দিন বাজারে ক্রেতার নাগালেই ছিল পেঁয়াজ। অথচ মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি সেই পেঁয়াজ ৪০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা। বর্তমানে খুচরায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ কিনতে ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে ৫০ টাকা। আর খুচরা ব্যবসায়ীরা পাইকারি বাজার থেকে কিনছেন ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজিতে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে বন্যা ও বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা কমেছে। ফলে কিছু সবজির দাম কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শ্যামবাজার, কারওয়ান বাজার ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

কৃষকের লাভের কথা চিন্তা করে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছেন সরকার। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে লাভবান হচ্ছেন পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা। দেশে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও কোনো কারণ ছাড়াই পাইকারি ব্যবসায়ীরা কেজিতে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ১০ টাকা। বাজারে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বাড়ায় ক্ষুব্ধ ক্রেতাসাধারণ। জোয়ারসাহারা বাজারে সিরাজুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজারে অন্যান্য জিনিসের তুলনায় পেঁয়াজের দাম কিছুটা সহনীয় ছিল। এটি খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা মেনে নিতে পারছিলেন না। তাই তাঁরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। ’   

পেঁয়াজ আমদানিকারক ও শ্যামবাজার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি মো. মাজেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পাইকারি বাজারেও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। গত দুই দিনের ব্যবধানে পাইকারিতে কেজিপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দুই দিন আগে মানভেদে পেঁয়াজ বিক্রি করেছিলাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। সেটি এখন ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে। ’

পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দেশের চাষিরা এত দিন লোকসান দিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। এখন পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়ায় তাঁরা লাভবান হবেন। পেঁয়াজ চাষে উৎসাহী হবেন। লস দিলে তাঁরা আর পেঁয়াজ চাষ করতে চাইবেন না। তবে বাজারে অন্য নিত্যপণ্যের চেয়ে এখনো পেঁয়াজের দাম ক্রেতার নাগালেই আছে। ’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই। কৃষকের কাছে এখনো যে পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে তা দিয়ে আরো তিন থেকে চার মাস চলবে।

কারওয়ান বাজারের খুচরা ও পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম শেখ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুই দিনের ব্যবধানে বাজারে পেঁয়াজ ও আলুর দাম অনেক বেড়েছে। বর্তমানে পেঁয়াজ পাইকারি ৪৪ টাকা কেজি বিক্রি করছি, আর  খুচরা বিক্রি করছি ৫০ টাকা কেজি। দুই দিন আগেও পেঁয়াজ পাইকারি ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা কেজি, খুচরায় ৪০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। ’ 

তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে আলু পাইকারি ২২ টাকা কেজি বিক্রি করেছি, এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ২৭ টাকা কেজি। খুচরায় বিক্রি করেছি ২৫ টাকা কেজি, বর্তমানে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে। ’

বন্যা ও বৃষ্টির কারণে বাড়ছে সবজির দাম

সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বেশকিছু জেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার সব ধরনের শাক-সবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে। যে কারণে রাজধানীর বাজারে শাক-সবজি ও মাছের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। বাজারে অনেক সবজির দাম কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

কারওয়ান বাজার কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী রবিউল আওয়াল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যার কারণে কারওয়ান বাজারে আগের তুলনায় সবজি কম আসছে। এ কারণে বেগুন, শসা, লাউ, চালকুমড়া, লতিসহ কয়েকটি সবজির দাম বেড়েছে। খুচরায় প্রতি কেজি শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা, করলা, কাঁকরোল, পটোল ৪০ টাকা, লাউ পিস ৫০ টাকা, চালকুমড়া পিস ৩০ টাকা, লতি ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, চায়না গাজর ১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ’

জোয়ারসাহারা মাছবাজার ঘুরে দেখা গেছে, নলা রুই (৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম) প্রতি কেজি ২১০ টাকা, রুই (৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম) প্রতি কেজি ২৩০ টাকা, এক থেকে দেড় কেজি ওজনের রুই ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, দুই থেকে তিন কেজি ওজনের রুই প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাতল তিন থেকে চার কেজি ওজনের ৩৫০ টাকা কেজি, পাঙ্গাশ ১৫০ টাকা, শরপুঁটি ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৭০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, শিং সাইজভেদে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতার নাগালের বাইরে ইলিশ মাছ। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে।

মুরগির বাজার অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্রয়লার কেজি ১৫০ টাকা, সোনালি ২৭০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগির ডিমের ডজন ১৩০ টাকা। গরুর মাংস কেজি ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকা, খাসির মাংস ৯০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

ওই বাজারের মাছ ব্যবসায়ী উজ্জ্বল মিয়া ও শিপন বর্মণ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজারে মাছের সরবরাহ কিছুটা কম। সব মাছের দামও আগের তুলনায় বেড়েছে। মাছের দাম সামনে আরো বাড়তে পারে। ’

 



সাতদিনের সেরা