kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

প্রযুক্তি

পানীয় জল জোগাতে পরমাণুশক্তি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পানীয় জল জোগাতে পরমাণুশক্তি

লবণাক্ততামুক্তকরণের একটি প্লান্ট। ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘের তথ্য মতে, বিশ্বের কোনো মহাদেশেই আর এমন জনপদ নেই, যেখানে পানির অভাব নেই।

সবুজ এই গ্রহটি নীলাভ সাগর-মহাসাগরে ঘেরা হলেও গোটা পৃথিবীর পানির ভাণ্ডারের মাত্র একটি ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ (২.৫ শতাংশ) স্বাদু পানি। পানীয় জলের চাহিদা ২০৩০ সালের মধ্যে সরবরাহের চেয়ে ট্রিলিয়ন কিউবিক মিটার বেশি হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

বাড়তি চাহিদা মেটাতেই অফুরান পানির উৎস সেই সাগরের দিকেই ফেরার কথা বলছেন কোনো কোনো বিজ্ঞানী।

বিজ্ঞাপন

লবণাক্ততামুক্তকরণ প্লান্ট সমুদ্রের পানি থেকে লবণ অপসারণ করে প্রয়োজনীয় মিঠা পানি সরবরাহ করতে পারে।

তবে এই প্লান্ট পানীয় জল তৈরির সবচেয়ে ব্যয়বহুল কৌশলগুলোরই একটি। এ ব্যবস্থায় অতি উচ্চ চাপে এক ধরনের ঝিল্লির ভেতর দিয়ে পানি পাম্প করা হয়। এতে প্রয়োজন হয় বিস্তর জ্বালানি।

একটি বৈপ্লবিক সমাধান হতে পারে লবণাক্ততামুক্তকরণ ব্যবস্থাসজ্জিত ভাসমান নৌযান ব্যবহার করা। এই জাহাজগুলো চলবে পারমাণবিক চুল্লির শক্তিতে। এগুলো খরায় আক্রান্ত বিভিন্ন দ্বীপ বা উপকূলীয় অঞ্চলে ভ্রমণ করতে পারবে। বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং বিদ্যুত্শক্তি দুটিই সরবরাহ করতে পারবে এগুলো।

এ ধরনের লবণাক্ততামুক্তকরণ প্লান্টের নকশা তৈরি করেছে ‘কোর পাওয়ার’। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মাইকাল বো বলেন, ‘এসব জাহাজকে মাঝেমধ্যে প্রয়োজনের জায়গাগুলোতে নিয়ে যাওয়া যাবে। একেকবার পানির ট্যাংক ভরে সরবরাহ করে আসবে। ’

অনেকের কাছে বিষয়টি শুনতে মনে হতে পারে আকাশকুসুম কল্পনা। তবে মার্কিন নৌবাহিনী অতীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তাদের পারমাণবিক শক্তিচালিত জাহাজগুলোর সাহায্যে লবণাক্ততামুক্তকরণ পরিষেবা দিয়েছে। আর রাশিয়ার তো এরই মধ্যে একটি ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, যা দিয়ে প্রয়োজনে সাগরের পানি লবণাক্ততামুক্ত করা সম্ভব।

বিশ্বব্যাপী বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার লবণাক্ততামুক্তকরণ প্লান্ট রয়েছে। এর প্রায় সবই স্থলভূমিতে। বেশির ভাগ প্লান্টই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে অবস্থিত। যুক্তরাজ্য, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য দেশেও আছে কিছু। কিছুসংখ্যক প্রকৌশলী বলছেন, এই লবণাক্ততামুক্তকরণ  প্রযুক্তিটি সাগরে জাহাজের মধ্যে স্থাপন করা সাশ্রয়ী হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সমুদ্রের পানি পাম্প করে জাহাজে তোলা বেশি সহজ হবে।

সত্যি বলতে কী, কয়েক দশক ধরেই প্রকৌশলীরা ভাসমান, পারমাণবিক শক্তিচালিত লবণাক্ততামুক্তকরণ ব্যবস্থা তৈরির স্বপ্ন দেখে আসছেন। কোর পাওয়ার একটি ছোট কনটেইনারবাহী জাহাজের মতো একটি নৌযান ব্যবহার করতে চায়। এ ক্ষেত্রে জাহাজের কনটেইনারগুলো হবে অন্য পণ্যের বদলে প্রযুক্তির যন্ত্র উপকরণে ভরা। জাহাজটির কেন্দ্রস্থলে থাকবে পরমাণু চুল্লি যা প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ শক্তি জোগাবে।

মাইকাল বো জানান, কোর পাওয়ারের ভাসমান পারমাণবিক লবণাক্ততামুক্তকরণ যানগুলোর উৎপাদনক্ষমতা বিভিন্ন স্তরের হতে পারে—পাঁচ থেকে শুরু করে প্রায় ৭০ মেগাওয়াট পর্যন্ত। একটি পাঁচ মেগাওয়াট পারমাণবিক শক্তির প্লান্ট প্রতিদিন ৩৫ হাজার কিউবিক মিটার স্বাদু পানি পাম্প করতে পারে। এটি হচ্ছে ১৪টি অলিম্পিক সুইমিং পুলে যত পানি ধরে, তার সমান।

সৌদি আরব সবেমাত্র তিনটি লবণাক্ততামুক্তকরণ বার্জের প্রথমটির ডেলিভারি নিয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত নির্মিত সবচেয়ে বড় প্লান্ট।   সূত্র : বিবিসী



সাতদিনের সেরা