kalerkantho

শুক্রবার । ১ জুলাই ২০২২ । ১৭ আষাঢ় ১৪২৯ । ১ জিলহজ ১৪৪৩

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ

১৫ বছর পর নতুন কমিটি, বাধার মুখে কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৩ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১৫ বছর পর নতুন কমিটি, বাধার মুখে কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রসংসদের ‘দিবা’ ও ‘বৈকালিক’—এ দুই শাখায় সর্বশেষ কমিটি হয়েছিল ১৬ বছর আট মাস আগে। কমিটির সবাই তখন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁদের সবাই পাস করে বের হয়ে গেছেন। অনেকে চাকরি করছেন।

বিজ্ঞাপন

বিয়েও করেছেন কেউ কেউ। অথচ তাঁরাও সর্বশেষ কমিটির সুবাদে নেতৃত্বের দাবিদার ছিলেন।   

এক বছর মেয়াদের ওই দুই কমিটি আরো ১৫ বছর ধরে বহাল ছিল। মেয়াদোত্তীর্ণ ছাত্রসংসদের কমিটি দুটি অবশেষে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার আগের কমিটি বিলুপ্ত করে চলতি ২০২২-২৩ সেশনে ছাত্রসংসদের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

তবে কমিটি দেওয়ার পর থেকে বাধার মুখে পড়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার বিকেল থেকে  রাত প্রায় সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ আট থেকে ১০ জন শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। গতকাল বুধবারও দিনভর বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগকর্মীরা কলেজে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুদীপা দত্ত গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গতকাল (আগের দিন মঙ্গলবার) একটু সমস্যায় পড়েছিলাম। একটি পক্ষ (ছাত্রলীগ) দাবি করছে, তাদের কোনো প্রতিনিধি নতুন কমিটিতে নেই। আমি সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলাপ ও সমন্বয় করে তাদের (সাবেক ভিপি-জিএস) মতামতের ভিত্তিতে প্রায় ১৭ বছর পর ছাত্রসংসদের নতুন কমিটি দিয়েছি। নতুন দুটি কমিটি বাতিল করার কোনো সুযোগ নেই। ’

তিনি আরো বলেন, ‘ওরা যখন মঙ্গলবার রাতে আমার কক্ষের সামনে বসে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিল এবং আমাকে কক্ষ থেকে বের হতে দিচ্ছিল না, তখন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমি বলেছিলাম, আমি সবার সঙ্গে কথা বলব। পরে তারা (বঞ্চিত) সরে যায়। ’

আন্দোলনরত ছাত্রলীগকর্মীদের মধ্যে মোহাম্মদ সাজ্জাদ নামের এক শিক্ষার্থী গতকাল দুপুরে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ছাত্রসংসদের এডহক কমিটি গঠনে কোনো নিয়ম-নীতি অনুসরণ করা হয়নি। অছাত্রদেরও কমিটিতে রাখা হয়েছে। এটা এক পক্ষকে (স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতা) খুশি করতে কমিটি। আমরা এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অধ্যক্ষের কক্ষের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি। আমাদের কাছ থেকে এক দিন সময় নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) থেকে আমরা আবার আন্দোলনে যাব। ’

মঙ্গলবার অধ্যক্ষসহ শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বহিরাগতরা এসে হামলা চালাতে পারে—এ আশঙ্কা এবং শিক্ষকদেরও নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করে আমরা অধ্যক্ষের কক্ষের বাইরে ফটক বন্ধ করে রেখেছিলাম, যাতে ভেতরে কেউ অবৈধভাবে প্রবেশ করতে না পারে। ’

সদ্যোবিলুপ্ত হওয়া দিবা শাখার সদ্যোবিদায়ী ভিপি আবু তাহের বলেন, ‘সংসদ বিলুপ্ত করে এহডক কমিটি গঠনের একমাত্র এখতিয়ার অধ্যক্ষের। তিনি কমিটি করার লক্ষ্যে আমাদের সঙ্গে এরই মধ্যে দফায় দফায় বসে মতামত নিয়েছিলেন। আমরা বলেছি, এখানে ছাত্রলীগের দুটি পক্ষ আছে, এডহক কমিটি হলে উভয় পক্ষ থেকে রাখার জন্য। কিন্তু তিনি এক পক্ষ থেকে রেখেছেন। অন্য পক্ষের কাউকে না রাখায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ’

গত মঙ্গলবার অধ্যক্ষ সুদীপা দত্ত দুটি ছাত্রসংসদের জন্য দুটি আহ্বায়ক কমিটি দেন। এতে বলা হয়, কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা, কলেজের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা এবং শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো পরিচালনায় সহযোগিতার জন্য সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম ছাত্রসংসদ সংবিধানের ১১ ও ১২ অনুচ্ছেদের (ঘ) ধারা মোতাবেক দিবা ও বৈকালিক শাখা নিয়ে দুটি এহডক কমিটি গঠন করা হলো। একই আদেশে ২০০৫ সালের ৮ অক্টোবর (সেশন ২০০৫-০৬) গঠিত ছাত্রসংসদের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণাও করা হয়।

দিবা শাখায় ভিপি তন্ময় দাসগুপ্ত, মাকছুদুর রহমানকে জিএস করে ১৮ সদস্যের নতুন কমিটি করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। একইভাবে মো. তাহসিনকে ভিপি ও আব্দুল মোনাফকে জিএস করে ১১ সদস্যের বৈকালিক শাখা কমিটি করা হয়।

গতকাল কলেজ অধ্যক্ষ জানান, নতুন এই দুটি ছাত্রসংসদ আগামী ১ জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবে। কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালের ৮ অক্টোবর সরকারি সিটি কলেজ চট্টগ্রামের ১৮ সদস্যের দিবা শাখা গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির ভিপি ছিলেন আবু তাহের ও জিএস মারুফ আহমেদ সিদ্দিকী। একই দিনে রাজিবুল হাসান রাজনকে ভিপি ও জাহেদুল হক মার্শালকে জিএস করে বৈকালিক শাখা গঠিত হয়েছিল। গতকাল ওই দুই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

 



সাতদিনের সেরা