kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ জুলাই ২০২২ । ২১ আষাঢ় ১৪২৯ । ৫ জিলহজ ১৪৪৩

করোনাভাইরাস

আরো একজনের মৃত্যু, ফের হাজার ছাড়িয়েছে শনাক্ত

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৩ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আরো একজনের মৃত্যু, ফের হাজার ছাড়িয়েছে শনাক্ত

দেশে দ্রুত বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। সেই সঙ্গে বাড়ছে শনাক্তের হার। প্রতিদিন কারো না কারো মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।  

সরকারের কভিড-১৯ বিষয়ে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘পরিস্থিতি ফের উদ্বেগজনক।

বিজ্ঞাপন

আমরা আবারও খারাপ অবস্থার দিকে যাচ্ছি। এখনো যারা স্বাস্থ্যবিধি মানছে না বা করোনার টিকা নেওয়া থেকে বিরত রয়েছে, তারা নিজের সঙ্গে অন্যদেরও বিপদ ডেকে আনছে। ’ 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে এক হাজার ১৩৫ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শনাক্ত হয়েছিল এক হাজার ৪০৬ জন। এর পর থেকে প্রতিদিন সংক্রমণের সংখ্যা হাজারের নিচে নেমে আসে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআরের তথ্য বলছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ১৩.৩০ শতাংশ। এ সময় আট  হাজার ৫৩৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

এ ছাড়া সর্বশেষ  ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি পুরুষ এবং তাঁর বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। তিনি সিলেটে একটি বাসায় মৃত্যুবরণ করেন। এর আগের দুই দিনও প্রতিদিন একজন করে মারা গেছে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত ২৯ হাজার ১৩৪ জন করোনায় মারা গেল। করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৯ লাখ ছয় হাজার ১০৫ জন।

এদিকে কভিড-১৯ বিষয়ে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা অবশ্য খারাপ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছি। করোনা সংক্রমণ সম্পর্কে যে তথ্য মিলছে তা উদ্বেগের। গত ১৯ মার্চ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সংক্রমণ ছিল ১০০-এর নিচে। সেটা কয়েক দিনের মধ্যে এক হাজারের ওপরে পৌঁছে গেছে। আমরা দীর্ঘ সময় করোনায় মৃত্যুহীন দিন পেয়েছি। এখন আবার প্রতিদিনই মৃত্যুর দুঃসংবাদ পাচ্ছি। সংক্রমণের হারও পৌঁছে গেছে ১৩ শতাংশের ওপরে। এ ছাড়া করোনার ওমক্রিন ধরনের উপধরনও শনাক্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি ভুলে গেছি। ’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা তো  লকডাউন বা গণপরিবহন বন্ধ রাখার মতো কঠোর বিধি-নিষেধের পরামর্শ দিচ্ছি না। আমরা মাস্ক পরতে বলছি। যত দূর সম্ভব সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলছি। কিন্তু এটাও মানতে চাচ্ছে না অনেকে। ’

অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ বলেন, ‘সম্প্রতি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারের দুজনের শরীরে করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরনের নতুন উপধরন (বিএ.৪ ও ৫) শনাক্ত হয়েছে। এটা আমাদের চিন্তায় ফেলেছে। এ ধরনের পরীক্ষা বা জিনোম সিকোয়েন্স আরো বেশি হলে আমরা বুঝতে পারব করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণটা কী? আইইডিসিআর নিশ্চয় এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া মনে হচ্ছে, করোনার নমুনা পরীক্ষাও কম হচ্ছে। অনেকের সর্দি-কাশি ও জ্বর হলে তা আড়াল করে রাখছে। করোনা পরীক্ষা করাচ্ছে না। এ প্রবণতা অন্যদের ক্ষতির কারণ হতে পারে। ’

এদিকে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এস এম আলমগীর গত মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে জানিয়েছিলেন, করোনায় আক্রান্তদের নমুনা নিয়ে তাদের জিনোম সিকোয়েন্সের সর্বশেষ ফলাফল দ্রুত প্রকাশ করা হবে। এতে দেশে ওমিক্রনের নতুন উপধরন সংক্রমণের বিষয়টি আরো স্পষ্ট হতে পারে। গতকাল তিনি জানান, আগামী শনিবার এ ফলাফল প্রকাশ করা হতে পারে।  

 



সাতদিনের সেরা