kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ জুলাই ২০২২ । ২১ আষাঢ় ১৪২৯ । ৫ জিলহজ ১৪৪৩

১৯ জেলায় দেড় লাখ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



১৯ জেলায় দেড় লাখ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে

চলতি বন্যায় ফসলি জমি, গবাদি পশু ও মৎস্যসম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে মাথায় হাত পড়েছে হাজারো কৃষক ও খামারির। কৃষি মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গতকাল বুধবার পর্যন্ত ১৯ জেলায় এক লাখ ৪৩ হাজার ৭৮০ হেক্টর ফসলি জমি ডুবে গেছে। এর মধ্যে আউশের জমি ৭৪ হাজার ৬৪৮ হেক্টর, রোপা আমন বীজতলা ৯০৪ হেক্টর, বোনা আমন ২৪ হাজার ৪৯৮ হেক্টর, সবজি ১৩ হাজার ২৯৩ হেক্টর এবং অন্যান্য ফসলি জমি ৩০ হাজার ৪৩৭ হেক্টর।

বিজ্ঞাপন

বন্যায় প্লাবিত জেলাগুলো হচ্ছে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হবিগঞ্জ জেলায় ৩১ হাজার ৯৩৭ হেক্টর ফসলি জমি। এরপর সিলেট জেলায় ২৮ হাজার ৯৪৪ হেক্টর, সুনামগঞ্জে ১৩ হাজার ৮০৩ হেক্টর, মৌলভীবাজারে ১২ হাজার ৯১৪ হেক্টর। উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৮৫১ হেক্টর জমির ফসল।

সিলেট অফিস জানায়, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় চলতি বন্যায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ফসল, গবাদি পশু ও মাছের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে শুধু কৃষিতে। এ ছাড়া শুধু সিলেট জেলায় প্রায় ৭১ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে বন্যার পানিতে। গবাদি পশুর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১১ কোটি ৬৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্ট  দপ্তরগুলোর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কৃষি অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক মোহাম্মদ কাজী মজিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবারের বন্যায় দুই জেলায় কৃষির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির এ চিত্র পাওয়া গেছে। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এখনো আমরা নির্ধারণ করিনি। তবে তা ৫০০ কোটি টাকার ওপরে হবে। ’

এদিকে বন্যায় সিলেট জেলায় ভেসে গেছে ৩০ হাজার ২৫৫টি পুকুর ও খামারের মাছ। এতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট জেলার মধ্যে জকিগঞ্জ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। উপজেলার ছয় হাজার ৪০০টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এরপর বেশি ক্ষতি বিশ্বনাথ ও কানাইঘাট উপজেলায়।

সিলেট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বিপুলসংখ্যক মৎস্য খামারি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আমরা ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ঊর্ধ্বতনদের অবগত করেছি। এসংক্রান্ত কোনো বরাদ্দ এলে খামারিদের সহায়তা দেওয়া হবে। ’

এদিকে চলতি বন্যায় সিলেটে গতকাল পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় হাঁস-মুরগিসহ তিন হাজারের বেশি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে গবাদি পশুর ৭১০টি খামার। তবে এ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘এই ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও পুরো জেলায় গোখাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গো-চারণভূমি ডুবে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। এটি সহজে কাটবে না। জরুরি সভা শেষে আমরা মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠিয়েছি। ’ তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র বন্যার পানি নেমে গেলে বোঝা যাবে বলে তিনি জানান।

হবিগঞ্জ

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, হবিগঞ্জে বন্যায় ১৫ হাজার ৭১০ হেক্টর জমির আউশ, ১৪ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমির বোনা আমন, এক হাজার ৫৯৭ হেক্টর জমির শাক-সবজি এবং ৫০ হেক্টর জমির অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার বন্যাকবলিত এলাকা আরো বেড়েছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. শামছুদ্দিন বলেন, জেলায় ১১ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭৭৮ হেক্টর জমির। আউশের পাশাপাশি শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এখন রোপা আমনের বীজতলা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বন্যার পানি দ্রুত না নামলে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এদিকে জেলায় ৪০০টি খামারের মাছ ভেসে গেছে বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় বন্যায় এ পর্যন্ত ১৫ হাজার ৮০০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এই ফসলের বেশির ভাগই পাট। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আব্দুর রশিদ জানান, সদর উপজেলায় গতকাল বুধবার পর্যন্ত ১৫ হাজার ৮৫২ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৫২১ হেক্টর জমির পাট, তিন হাজার ৫৮০ হেক্টর জমির আউশ ধান, এক হাজার ৬৬১ হেক্টর জমির সবজি রয়েছে। সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের কদমতলা, সিতাইঝাড়, গারুহারা, উত্তর নওয়াবশ গ্রামের সব পটোলক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। ওই এলাকায় পটোল চাষের ওপর নির্ভর করে অনেক কৃষক পরিবার। কদমতলা গ্রামের কৃষক মোক্তার আলী জানান, তাঁর ৯ বিঘা জমির পটোল নষ্ট হয়েছে। কয়েক লাখ টাকার পটোলক্ষেতের ক্ষতি হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।    

বগুড়া

বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় এ পর্যন্ত তিন হাজার ১০৫ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ওই সব জমির ফসল আর উদ্ধার করা যাবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাইফুল ইসলাম জানান, সারিয়াকান্দি পৌরসভার আংশিক এবং নদীতীরবর্তী এলাকার ৭৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দুই হাজার ৪৬৯ হেক্টর ফসলি জমি বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে ছয় হাজার হেক্টরের বেশি জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাবুল কুমার সূত্রধর জানান, পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার পাঁচটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ছয় হাজার ৯২ হেক্টর জমির আউশ ধান, পাট, ধঞ্চে, তিল, কাউন, বাদামসহ উঠতি ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

অন্যদিকে গো-চারণভূমিগুলো বন্যাকবলিত হওয়ায় কৃষক ও খামারিদের বিপদ আরো বেড়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গৌরাঙ্গ কুমার তালুকদার জানান, জেলায় ৯ লাখ গরু, সাড়ে তিন লাখ ছাগল ও দুই লাখ ভেড়া রয়েছে। এ ছাড়া ঈদের জন্য প্রায় চার লাখ গবাদি পশু প্রস্তুত করেছেন কৃষক ও খামারিরা। পানি বৃদ্ধির ফলে গো-চারণভূমিগুলো বন্যাকবলিত হওয়ায় কৃষক ও খামারিদের ঘাসের অভাব দেখা দিয়েছে।

গাইবান্ধা

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, এ পর্যন্ত বন্যাকবলিত চার উপজেলার এক হাজার ৩৪০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা যায়নি। প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, এখন পর্যন্ত গবাদি পশুর কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে বন্যার পানিতে ডুবে গিয়ে দুই লাখ টাকা মূল্যের ২৫ টন খড় ও দুই লাখ ৩০ হাজার টাকার ১০ টন কাঁচা ঘাস নষ্ট হয়েছে। মৎস্য বিভাগের হিসাব মতে, এখন পর্যন্ত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটার সাড়ে চার হেক্টর জমির ৩৫টি পুকুরের ১৭ টন মাছ ভেসে গেছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ ২৭ লাখ টাকা নিরূপণ করা হয়েছে।

শেরপুর

শেরপুরে চলতি বন্যায় কৃষি ও মৎস্য সম্পদের প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। গতকাল বিকেলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর শেরপুর খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মো. হুমায়ুন কবীর জানান, জেলার পাঁচ উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের ৪৩৫ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ১৭০ হেক্টর জমির আউশ আবাদ, ১৯০ হেক্টর জমির শাক-সবজি ও ৭৫ হেক্টর জমির আমন বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অঙ্কে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকার মতো। জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম জানান, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে প্রাথমিকভাবে জেলার চার উপজেলায় এক হাজার ৩১টি পুকুর/মৎস্য খামারের মাছের পোনা ও খাবারযোগ্য মাছ ভেসে গিয়ে ৭০৪ জন মৎস্য চাষির প্রায় তিন কোটি ৩৪ লাখ টাকার মৎস্যসম্পদ ও অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে পাঁচ উপজেলায় গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি ও সেসবের খাদ্য, প্লাবন ভূমিসহ মোট ক্ষতির পরিমাণ ১৩ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতি ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

রাজবাড়ী

পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় রাজবাড়ী জেলার নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তলিয়ে যাচ্ছে নতুন নতুন ফসলি জমি। এতে নষ্ট হচ্ছে নিম্নাঞ্চলের আবাদি ফসল ও গো-খাদ্য। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে অপরিপক্ব তিল, পাট, নতুন আবাদি রোপা আমন ধান, বাদামসহ অন্যান্য ফসল। গত কয়েক দিনের পানিতে এ অঞ্চলের কয়েক হাজার একর ফসল পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। সেই সঙ্গে চরাঞ্চলের গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

ফেনী

ফেনীর পরশুরামে বন্যায় ৭০ থেকে ৭৫ হেক্টর জমির আউশ ধান এবং প্রায় ২০ হেক্টর জমির শাক-সবজির ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে প্রায় ১৫টি মাছের ঘের। ফুলগাজী উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জমির ফসলসহ মৎস্য খাত। সেখানে প্রায় ৪৪ হেক্টর আয়তনের ২৪৫টি পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।

পরশুরাম উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পিন্টু দাশ বলেন, এখন মাঠে বড় ধরনের কোনো ফসল নেই। তার পরও চলমান বন্যায় উপজেলায় ৭০ থেকে ৭৫ হেক্টর জমির আউশ ধান এবং প্রায় ২০ হেক্টর শাক-সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে চূড়ান্ত ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে। পরশুরাম উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অ.দা) সৈয়দ মোস্তফা জামান বলেন, পানিতে প্রায় ১৫টির মাছের ঘের পানিতে ভেসে গেছে।

টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলে বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলার ১২টি উপজেলায় আট হাজার ৭৬৪ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা হয়নি।

জেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা যায়, চলতি বছরের বন্যায় ৩৫১ পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার বিগত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমার ৫৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আরো কয়েক দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। ভাঙন রোধে আমাদের প্রস্তুতি চলছে। ’

কুমিল্লা

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি আর উজানের ঢলে কুমিল্লার গোমতী নদীর চরে তলিয়ে গেছে অন্তত পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের সবজি। কয়েক দিন পরেই চরের এই সবজিগুলো বাজারজাত করার কথা ছিল; কিন্তু চোখের সামনে বিনিয়োগ করা পুঁজি পানির নিচে চলে যাওয়ায় কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে। কুমিল্লা সদর, বুড়িচং, দেবীদ্বার, মুরাদনগর, তিতাস ও দাউদকান্দি উপজেলার কমপক্ষে তিন হাজার কৃষক গোমতীর চরে সবজি চাষ করে আসছিলেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, গত রবিবার থেকে গোমতীর পানি বাড়তে শুরু করে। এক দিনের ব্যবধানে সোমবার গোমতীর চর পুরোপুরি তলিয়ে যায়। এতে সবজি চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

জেলার বুড়িচং উপজেলার ভান্তি এলাকায় গোমতীর চরে গিয়ে দেখা যায়, ডুবে যাওয়া সবজিক্ষেত থেকে মুলা তুলতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সফিকুল ইসলাম। সফিকুল জানান, এবার ৪০ শতক জমিতে আগাম মুলা চাষ করেছেন তিনি। এতে তাঁর ব্যয় হয়েছে ২০ হাজার টাকা। তাঁর মতো ওই এলাকায় আরো অন্তত ৫০ জন কৃষক চরে মুলা, ঢেঁড়স, পুঁইশাক, লাউ, চাল কুমড়া, চিচিঙ্গা, বরবটিসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেছেন। বৃষ্টি আর উজানের ঢলে গোমতীর চরে ডুবে তাঁদের ফসল তলিয়ে গেছে। এতে তাঁরা পুঁজি হারিয়ে এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা এখন জরিপ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি কতজন কৃষকের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। তাঁদের তালিকা করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতিপূরণে যা করার দরকার তা-ই করব। কৃষি বিভাগ থেকে গোমতী চরের সবজি চাষিদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।

 



সাতদিনের সেরা