kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ আগস্ট ২০২২ । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১২ মহররম ১৪৪৪

রোহিঙ্গা শিবির থেকে মার্কিন অ্যাসল্ট রাইফেল, গুলি উদ্ধার

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিনিধি   

১৮ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গা শিবির থেকে মার্কিন অ্যাসল্ট রাইফেল, গুলি উদ্ধার

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবির থেকে অ্যাসাল্ট রাইফেল, পিস্তলসহ ৪৫১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে এপিবিএন। ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারে আবার আলোচনায় উখিয়ার সেই লুণ্ডাখালী পাহাড়। এখানকার রোহিঙ্গা শিবির থেকে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল, পিস্তলসহ ৪৯১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে এপিবিএন। শিবিরগুলোয় বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

২৬ বছর আগে ১৯৯৬ সালে এই পাহাড়ের একটি গুহা থেকে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ—হুজির (পরে নিষিদ্ধ) ৪১ সদস্যকে অস্ত্রশস্ত্রসহ আটক করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

অস্ত্র মামলায় ১৯৯৮ সালে তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এক মামলায় এত জঙ্গির একসঙ্গে বড় সাজা দেওয়ার ঘটনা ওটাই ছিল প্রথম।   

গতকাল শুক্রবার কক্সবাজারের উখিয়ায় ৮ এপিবিএন পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শিহাব কায়সার খান বলেন, ‘এই প্রথম রোহিঙ্গা শিবির থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি একটি অ্যাসল্ট রাইফেল ও বিপুল পরিমাণ গুলি আটক করা হলো। এ জাতীয় অস্ত্রের উপস্থিতি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। ’

পুুলিশ সুপার বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য ছিল লুণ্ডাখালীর দুর্গম পাহাড়ের ২০ নম্বর শিবিরে অস্ত্র নিয়ে যাওয়া হবে। চালানটি নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল ১৮ নম্বর শিবির থেকে। সে অনুযায়ী, এপিবিএনের বিশেষ দলটি বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ১৮ নম্বর শিবিরে অভিযান চালায়। পরে ১৫ নম্বর শিবিরেও অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে দুই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও ছয় হাজার পিস ইয়াবা। আটক ব্যক্তিরা হলেন মোহাম্মদ হোসেন (৩০) ও জাহেদ হোসেন (৩০)। পুলিশ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ’

শিহাব কায়সার খান বলেন, ‘গত বছর ২২ অক্টোবর বালুখালী ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরের একটি মাদরাসায় হামলা চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করা হয়। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রোহিঙ্গা নেতা মহিব উল্লাহকে হত্যা করা হয়। এর পর থেকে শিবিরগুলোয় রাত্রিকালীন পাহারার ব্যবস্থা করা হয়। এপিবিএনের বিশেষ এই ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। গত বৃহস্পতিবার রাতের অভিযানের সময়ও সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ’

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তের নানা সূত্র থেকে জানা যায়, রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মিয়ানমারে যাওয়া-আসা রয়েছে। অনেকে শিবির ছেড়ে অন্যত্র গাঢাকা দিয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে আরসাপ্রধান আতাউল্লাহ জুনুনি পাহাড়ি এলাকায় তাঁর ক্যাম্পে অবস্থান এবং তাঁর বাহিনীর উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

ফিরে দেখা লুণ্ডাখালী

লুণ্ডাখালীতে আগেও রোহিঙ্গা শিবির ছিল। পরিত্যক্ত সেই শিবিরের কাছাকাছি দুর্গম পাহাড়ে সেই সময় প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় আটক হয়েছিলেন হুজির সদস্যরা। তাঁদের একজন ছিলেন স্থানীয়। বাকিরা ঢাকা ও গোপালগঞ্জের। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গারা আবার এ দেশে এলে ওই পাহাড়টি ঘিরে তৈরি হয় ২০ নম্বর শিবির। প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা থাকে ওই শিবিরে। সেখানে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের আনাগোনা একটু বেশি বলে মনে করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। গত বৃহস্পতিবার রাতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলির পর এপিবিএন সদস্যরা একটি আমেরিকান অ্যাসল্ট রাইফেলসহ অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করেন। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শিহাব কায়সার খান জানিয়েছেন, ২০ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এবং অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ শিবির। এটি রোহিঙ্গা দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত।



সাতদিনের সেরা