kalerkantho

মঙ্গলবার। ৯ আগস্ট ২০২২ । ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১০ মহররম ১৪৪৪

সেতু ঘিরে স্বপ্ন দেখছেন শরীয়তপুরের খামারিরা

স্থানীয় বাজারে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। অথচ ঢাকায় দুধের দাম প্রায় দ্বিগুণ। সেতু চালু হলে মাত্র দুই ঘণ্টায় ঢাকায় দুধ পৌঁছে দিতে পারব। -সোহেল রানা, খামার ব্যবস্থাপক

শরিফুল আলম ইমন, শরীয়তপুর   

১৮ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেতু ঘিরে স্বপ্ন দেখছেন শরীয়তপুরের খামারিরা

পদ্মা সেতু ঘিরে স্বপ্ন দেখছে সারা দেশের মানুষ। যারা যে খাতের সঙ্গে যুক্ত, সেই খাত আরো বড় হবে, বিস্তৃত হবে, সুযোগ-সম্ভাবনা বাড়বে—এমন প্রত্যাশা সবার। এর বাইরে নন শরীয়তপুরের গবাদি পশুর খামারিরা। মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে সেতুর ওপর দিয়ে গরু ও দুধ ঢাকার বাজারে নিয়ে ন্যায্য মূল্য বিক্রি করবেন, এই আশা করছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

আর এতে ঘুরবে এই অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা, নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে হাজারো মানুষের।

শরীয়তপুর জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, উদ্যোক্তা ও খামারিদের সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুরে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৪ হাজার ২৪৮টি খামার রয়েছে। এসব খামারে লালন-পালন করা হচ্ছে দুই লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৫টি গরু, দুই হাজার ১৩০টি মহিষ, এক লাখ ২০ হাজার সাতটি ছাগল ও দুই হাজার ৩৬টি ভেড়া। এসব গবাদি পশু থেকে বছরে উৎপাদন হয় ৮১ হাজার মেট্রিক টন মাংস ও এক লাখ পাঁচ হাজার মেট্রিক টন দুধ। জেলার মোট চাহিদা মিটিয়ে ৪২ হাজার মেট্রিক টন মাংস ও ৩২ হাজার মেট্রিক টন দুধ উদ্বৃত্ত থেকে যায়।

খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরের জেলা হলেও এত দিন ফেরিঘাটের ভোগান্তির কারণে উদ্বৃত্ত এসব মাংস ও দুধ ঢাকায় বিক্রি করতে পারেননি খামারিরা। তূলনামূলক কম দামে এসব দুধ ও মাংস স্থানীয় বাজারসহ আশপাশের জেলায় বিক্রি করতে হতো। ঢাকার বাজারে দুধ লিটারপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও স্থানীয় বাজারে তা ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হন খামারিরা। এ ছাড়া ফেরিঘাটের ভোগান্তির কারণে স্থানীয়ভাবে গবাদি পশু লালন-পালন করে রাজধানীতে বিক্রি করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হতো উৎপাদনকারীদের। পদ্মা সেতু চালু হলে এসব ঝামেলা থাকবে না বলে মনে করছেন উদ্যোক্তা ও খামারিরা।

সম্প্রতি শরীয়তপুরের কয়েকটি এলাকায় কথা হয় খামারিদের সঙ্গে। তাঁদের একজন পালং এলাকার রহমান ডেইরি ফার্মের ব্যবস্থাপক সোহেল রানা। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ফেরিঘাটে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে এত দিন ঢাকায় দুধ পাঠানো সম্ভব হয়নি। আমাদের ফার্মে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। স্থানীয় বাজারে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। অথচ ঢাকায় দুধের দাম প্রায় দ্বিগুণ। সেতু চালু হলে মাত্র দুই ঘণ্টায় ঢাকায় দুধ পৌঁছে দিতে পারব। ঢাকা থেকে দুধ প্রক্রিয়াজাত কম্পানি সহজেই এখানে গাড়ি নিয়ে এসে দুধ সংগ্রহ করতে পারে। দুধ-গরুতে আমরা ন্যায্য মূল্য পাব বলে আশা করি। ’

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশন শরীয়তপুর শাখার সভাপতি ইমরান বেপারী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এত দিন ফেরি ও যোগাযোগব্যবস্থার কারণে আমাদের উৎপাদিত পণ্য ঢাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। প্রায় প্রতিবছর খামারিরা অনেক টাকা লোকসান গুনতেন। পদ্মা সেতু চালু হলে এবার কোরবানির ঈদে আমরা সহজেই ঢাকার বাজারে পশু ও দুগ্ধ বিক্রির সুযোগ পাব। ফলে বিগত বছরের লোকসান পুষিয়ে আনা সম্ভব হবে। নতুন কর্মসংস্থানে আগ্রহী হচ্ছে অনেকে। ’

শরীয়তপুরের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুবোধ কুমার দাস কালের কণ্ঠকে বলেন, একমাত্র যোগাযোগব্যবস্থার জন্য খামারিরা এত দিন ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। পদ্মা সেতু চালুর ঘোষণার পর থেকেই এই অঞ্চলে ডেইরি, অ্যাগ্রো ও পোল্ট্রি খাতে বিনিয়োগ বাড়তে শুরু করেছে।



সাতদিনের সেরা