kalerkantho

রবিবার । ১৪ আগস্ট ২০২২ । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৫ মহররম ১৪৪৪

ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি রবিন

জুয়েল রাজ, লন্ডন থেকে   

৪ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি রবিন

রবিন দাস

ক্রিকেটের জন্মস্থান ইংল্যান্ড, আর ক্রিকেটের তীর্থস্থান বলা হয় লর্ডসকে। বৃহস্পতিবার থেকে লর্ডসে শুরু হয়েছে নিউজিল্যান্ড বনাম ইংল্যান্ডের প্রথম টেস্ট। ৩৮তম ওভারে ফিল্ডিং করতে নামলেন এক তরুণ। কিন্তু তাঁর জার্সিতে না আছে কোনো নাম, না আছে নম্বর।

বিজ্ঞাপন

ধারাভাষ্যকার জানিয়ে দেন, রবিন এর নাম। অনেকেই হয়তো অবাক হয়েছেন তাঁকে দেখে। ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে এর আগে কেউ নাম পর্যন্ত শোনেনি। রবিন অতিরিক্ত ফিল্ডার হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন বৃহস্পতিবার। যদিও মাত্র চারটি ডেলিভারির সময় মাঠে ছিলেন তিনি। প্রশ্ন জাগাই স্বাভাবিক। জাতীয় দলের ১৩ জনের ঘোষিত তালিকায় এই নামে তো কেউ ছিলেন না! 

মূলত রবিন যখন মাঠে নামেন, তখন লর্ডস টেস্টে প্রথম একদশে সুযোগ না পাওয়া হ্যারি ব্রুক ও ক্রেগ ওভারটন অতিরিক্ত ফিল্ডার হিসেবে মাঠে ছিলেন। বাইরে গিয়েছিলেন স্টুয়ার্ট ব্রড। এর পরও ম্যাটি পটস চোট পাওয়ায় তৃতীয় একজন ক্রিকেটার দরকার ছিল। তাঁর জায়গায়ই ফিল্ডিং করেন রবিন। পটসের অসমাপ্ত ওভার শেষ করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস। সেই ওভার শেষ হতেই মূল দলের ব্রড মাঠে ফেরেন এবং রবিন উঠে যান। মূলত সংকটময় একটা পরিস্থিতিতে তাঁকে মাঠে নামতে বলে টিম ম্যানেজমেন্ট। আর এর ফলে বিশ্ব ক্রিকেটে এক ইতিহাসের জন্ম দিলেন রবিন। প্রথম কোনো ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার ইংল্যান্ড দলের হয়ে মাঠে নামার গৌরব অর্জন করলেন। রবিনের ক্রিকেট খেলার পেছনে তাঁর বাবা মৃদুল দাস ও বড় ভাই জনির অবদান সবচেয়ে বেশি।

রবিনের জন্ম লন্ডনে, বাবা মৃদুল দাস পেশায় ব্যবসায়ী। বাবার জন্ম বাংলাদেশের সুনামগঞ্জে। টেমস নদীর পারে মেমসাহেব নামে একটি রেস্টুরেন্টের মালিক তিনি। যাঁকে দেশে-বিদেশে সবাই মনিদা নামেই চেনে।

২০ বছর বয়সী রবিনের ক্রিকেট ক্যারিয়ার খুব দীর্ঘ না হলেও ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে খেলেন এসেক্সের হয়ে। এখনো পর্যন্ত মাত্র একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন রবিন। ২০২০ সালের সেই ম্যাচে তিনি করেছিলেন ৭ রান। তবে ২০১৮ সালে এসেক্সের অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন, এসেক্স দ্বিতীয় একাদশের হয়েও খেলেছেন তিনি। ২০২০ সালের শেষ দিকে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের খেলোয়াড় ড্রাফটে নাম ছিল রবিনের। যদিও সুযোগ পাননি শেষ পর্যন্ত। ২০১৯ সালে তিনি এসেক্সের ‘একাডেমি প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ এর সম্মান পান। মাত্র চার বল ফিল্ডিং করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন রবিন দাস।

লিভার সাংবাদিক আবু সাঈদ চৌধুরী লেখেন, ‘এই দিনটির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় ছিলাম। আমার মতো যাঁরা দেশে খেলাধুলার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত ছিলেন, তাঁদের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আশা করি, সে একদিন মূল দলের একাদশে সুযোগ পাবে। রবিনের জন্য অগ্রিম শুভ কামনা। অনেক ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়ের এ দেশের মূল দলে খেলতে দেখে আক্ষেপ হতো। কবে যে একজন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এ দেশের জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করবে। আশা করি, রবিন দাসই হবে আমার আক্ষেপ ঘোচানোর হাতিয়ার। ’ এসেক্স তাদের টুইটারে ধন্যবাদ জানিয়েছে রবিনকে। তাঁর সঙ্গে এসেক্সের আরেক ক্রিকেটার নিখিল গোরান্টলাও ফিল্ডিং করেছিলেন এই ম্যাচে। তাঁকেও শুভেচ্ছা জানায় এসেক্স।

রবিনের বাবাও খুব উচ্ছ্বসিত। রবিনের এই সাফল্যের মূল কৃতিত্বটা বড় ছেলে জনিকেই দিতে চান তিনি। পাশাপাশি বলেন, ‘তার পথচলা মাত্র শুরু, এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই। ’ তিনি বলেন, ‘এখনো সংবাদ করার মতো কোনো কিছুই অর্জিত হয়নি। স্বপ্ন দেখি, ও একদিন জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামবে। ’ প্রসঙ্গত, এসেক্সের দ্বিতীয় একাদশের হয়ে খেলেন রবিনের দাদা জোনাথন জয় দাস। তিনি উইকেটরক্ষক। এসেক্সের ক্রিকেট বোর্ডের ডিরেক্টর জাওয়ার আলী বলেন, ‘ভালো লাগছে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে দেখে। আশা করব, ভবিষ্যতে রবিন ইংল্যান্ডের হয়েও খেলবে। ’

 



সাতদিনের সেরা