kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় একটি রাবার বাগানে বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিল দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী। সেখানে তার বন্ধুকে বেঁধে রেখে তাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েক যুবকের বিরুদ্ধে। গত বুধবার বিকেলের এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুলাউড়া থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা। এদিন রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কথিত প্রেমিকের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলের ঘটনায় এদিন সন্ধ্যায় কথিত প্রেমিকসহ তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ মামলার আসামি মুরাদুজ্জামান মকুলকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মুরাদুজ্জামান উপজেলার জালশুকা হাবিবর রহমান ডিগ্রি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের প্রভাষক এবং শৈলমারি গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে। তিনি বগুড়া জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন।

কুলাউড়ায় গ্রেপ্তার ২

কুলাউড়ায় গ্রেপ্তার দুজন হলেন উপজেলার ব্রাহ্মণবাজারের বাসুদেবপুরের মৃত মাহমুদ মিয়ার ছেলে মুকিদ মিয়া (৩৫) ও লংলা খাস নতুন বস্তির বাসিন্দা মো. শমশের মিয়ার ছেলে আব্দুছ ছত্তার (১৯)। মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে বিদ্যালয় ছুটি শেষে ওই ছাত্রী (১৭) বন্ধুর সঙ্গে হিঙ্গাজিয়া রাবার বাগানে ঘুরতে যায়। এ সময় সেখানে মুকিদ মিয়া, হিঙ্গাজিয়া চা বাগানের বাসিন্দা জামাল মিয়ার ছেলে জসিম মিয়া (২৮), আব্দুছ ছত্তার, হিঙ্গাজিয়া চা বাগানের বড় লাইন এলাকার মছদ্দর আলীর ছেলে মোস্তফা মিয়া (২৫) ও অজ্ঞাতপরিচয় একজন ছিলেন। তাঁরা ছাত্রী ও তার বন্ধুকে একা পেয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাগানের নির্জন স্থানে নিয়ে যান। ছাত্রীর বন্ধুকে হাত-মুখ বেঁধে ফেলেন। এরপর তাকে ধর্ষণ করেন। এতে সে জ্ঞান হারালে যুবকরা চলে যায়। জ্ঞান ফেরার পর ছাত্রী রাতে বাড়িতে ফিরে অভিভাবককে বিষয়টি জানায়। তাকে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠানো হয়।

কুলাউড়া থানার ওসি বিনয় ভূষণ রায় বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার মুকিদ ও ছত্তার ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

কিশোরীকে ধর্ষণ

সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের পোগলদিঘা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। আটককৃতরা হলেন উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের সোনামুই গ্রামের আসর উদ্দিনের ছেলে নুর মোহাম্মদ (২৮) এবং তাঁর দুই সহযোগী একই গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে মিলন মিয়া (১৯) ও চর ভাদাই গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে ফরিদুল ইসলাম (২৮)।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিবাহিত নুর মোহাম্মদ নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে সম্প্রতি কিশোরীটির (১৪) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি দুই বন্ধুসহ কিশোরীকে নিয়ে পোগলদিঘার নির্জন স্থানে বেড়াতে যান। এক পর্যায়ে তিনি কিশোরীকে বিয়ের কথা বলে ধর্ষণ করেন।

তারাকান্দি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শক) আব্দুল লতিফ বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে নুর মোহাম্মদকে প্রধান আসামি করে থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। গতকাল সকালে ভুক্তভোগী কিশোরীকে মেডিক্যাল চেকআপের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ধুনটে প্রভাষক বরখাস্ত

ধুনট উপজেলার জালশুকা হাবিবর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ লায়লা খাতুন গতকাল সকালে জানান, বিধি মোতাবেক ২৪ মে অনুষ্ঠিত কলেজ পরিচালনা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুরাদুজ্জামান মকুলকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরে আদালতের রায়ে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে বিধি অনুযায়ী তাঁকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ধুনট পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় সপরিবারে থাকতেন মুরাদ। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বাসার মালিকের কিশোরী মেয়েকে কৌশলে জড়িয়ে ধরে মুঠোফোনে ছবি তোলেন তিনি। সেই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মুরাদ গত ৩ মার্চ তাকে ধর্ষণ করেন। ১২ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি একই কৌশলে মেয়েটিকে কয়েকবার ধর্ষণ ও মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন।

এ ঘটনায় কিশোরীর মা ১২ মে মুরাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। ওই দিনই মুরাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন কুলাউড়া (মৌলভীবাজার), সরিষাবাড়ী (জামালপুর) ও ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি]

 



সাতদিনের সেরা