kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

প্রদর্শনী

কবিগুরুর ছবিতে ‘রবীন্দ্রনামা’

সালেহ ফুয়াদ   

২৮ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কবিগুরুর ছবিতে ‘রবীন্দ্রনামা’

কিবরিয়া ছাপচিত্র স্টুডিওর আয়োজনে গতকাল রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কলাকেন্দ্রে ৬৮ শিল্পীর ছাপচিত্র নিয়ে ‘রবীন্দ্রনামা’ শীর্ষক প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন দর্শনার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

চিত্রশিল্পের ইতিহাস বলে, মানুষ আঁকতে শেখার শুরু থেকেই স্বজাতের প্রতিকৃতি আঁকার বিশেষ চেষ্টা করে আসছে। সমকালীন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি থেকে শুরু করে প্রিয়জনের মুখাবয়ব আঁকার সেই যে শুরু, আজও তা চলছে। অবিকল মুখটি আঁকার ধারার বাইরে গিয়ে ব্যক্তির ভেতরটা চিত্রে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টাও করেন অনেক শিল্পী।

দেশের বিখ্যাত ৬৮ জন শিল্পীর আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি নিয়ে কিবরিয়া ছাপচিত্র স্টুডিও ‘রবীন্দ্রনামা’ শিরোনামে আয়োজন করেছে শিল্প প্রদর্শনীর।

বিজ্ঞাপন

শিল্পীরা কবিগুরুর মুখ এঁকেছেন এচিং ফর্মে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কলাকেন্দ্রে গতকাল শুক্রবার এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। প্রদর্শনী ঘুরে দেখে তাঁর মনে হয়েছে, এটি যেন রবীন্দ্রচিত্রের একটি মূল্যবান মালা। মফিদুল হক বলেন, ‘প্রত্যেকের রুচি অনুযায়ী আমাদের ভেতর আলাদা আলাদা রবীন্দ্রনাথের বসবাস। এখানে শিল্পীরা নিজেদের মতো করে কবিকে এঁকেছেন। কারো সঙ্গেই কারো মিল নেই। রবীন্দ্রপ্রেমীরা হয়তো এর মাঝে নিজের পছন্দের রবীন্দ্রনাথকে পেয়ে যাবেন। ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন নিসার হোসেন বলেন, একটা চেহারা কতভাবে যে আঁকা যেতে পারে, তার একটা উদাহরণ এই প্রদর্শনী।

শিল্পসমালোচক মইনুদ্দীন খালেদের মতে, ‘রবীন্দ্রনাথ কারো কাছে গুরুদেব, কারো কাছে সৌম্যকান্তি ঋষি। কিন্তু তিনি নিজেই এমন কোনো প্রতিমায়নে আদৌ বিশ্বাসী ছিলেন না। অন্য শিল্পীদের আঁকা রবীন্দ্রনাথ প্রায়ই শান্ত, সন্ত কিংবা মুখর অভিব্যক্তির ব্যাকুল বাউল। অথচ আত্মপ্রতিকৃতি রচনা করতে গিয়ে কবি ও চিত্রকর রবীন্দ্রনাথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যখনই তিনি নিজের মুখটা আঁকা শেষ করে এনেছেন তখনই তাতে একদলা কালি লেপ্টে দিয়েছেন। নিজের আঁকা ছবি নিজেই চূর্ণ করে দিয়ে এভাবে শিল্পের এক অভূতপূর্ব লীলায় মেতেছেন চিত্রশিল্পী রবীন্দ্রনাথ। ভাঙন ও বিনির্মাণ যে শিল্পের এক অবিশ্বাসী সূত্র, তার প্রধান উৎস রবীন্দ্রনাথ। ’

রবীন্দ্রনাথ তাঁর আত্মজীবনী ‘জীবন-স্মৃতি’তে ছবি আঁকা নিয়ে লিখেছিলেন, ‘স্মৃতির পটে জীবনের ছবি কে আঁকিয়া যায় জানি না। কিন্তু যেই আঁকুক সে ছবিই আঁকে। অর্থাৎ যাহা কিছু ঘটিতেছে তাহার অবিকল নকল রাখিবার জন্য সে তুলি হাতে বসিয়া নাই। সে আপনার অভিরুচি অনুসারে কত কী বাদ দেয় কত কী রাখে। কত বড়োকে ছোটো করে, ছোটোকে বড়ো করিয়া তোলে। সে আগের জিনিসকে পাছে ও পাছের জিনিসকে আগে সাজাইতে কিছুমাত্র দ্বিধা করে না। ’

এই প্রদর্শনীতে যে ছবিগুলো রয়েছে, সেগুলো রবীন্দ্রনাথের এ কথাকেই সত্যায়িত করেছে। শিল্পী রফিকুন নবী, হামিদুজ্জামান খান, আবুল বার্ক আলভী, শহীদ কবির, ঢালী আল মামুন, ওয়াকিলুর রহমান, নিসার হোসেন, বীরেন সোম, সমরজিৎ রায়চৌধুরী, শিশির ভট্টাচার্যসহ অন্য শিল্পীদের চিত্রকর্ম প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে।

কিবরিয়া ছাপচিত্র স্টুডিও সূত্রে জানা গেছে, রবীন্দ্রনাথের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২০১১ সালে এই ৬৮ শিল্পীর আঁকা ছবি দিয়ে একটি বই করা হয়। সেই ছবিগুলোসহ রবীন্দ্রনাথের আঁকা আরো কিছু ছবি নিয়ে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। প্রদর্শনী চলবে ১২ জুন রাত ৮টা পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

 



সাতদিনের সেরা