kalerkantho

রবিবার । ৩ জুলাই ২০২২ । ১৯ আষাঢ় ১৪২৯ । ৩ জিলহজ ১৪৪৩

ইজারা এক জায়গার, বালু তোলা হচ্ছে তিন জায়গায়

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

২৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইজারা এক জায়গার, বালু তোলা হচ্ছে তিন জায়গায়

কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর চাকমারকুল পয়েন্টে অবৈধভাবে ড্রেজার ও এক্সকাভেটর দিয়ে বালু তুলে নিচ্ছে একটি মহল। ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর ১৬৮ শতাংশের বালুমহাল ইজারা নিয়ে নদীর আরো দুই জায়গায় ড্রেজার ও খননযন্ত্র বসিয়ে এক মাস ধরে বালু তোলা হচ্ছে। স্থানীয় যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে এভাবে বালু তোলায় কবরস্থান, মহাসড়ক ও ফসলি জমির অস্তিত্ব হুমকিতে পড়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, নদীর বালু উত্তোলনের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় শত বছরের পুরনো একটি কবরস্থান, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অংশবিশেষ এবং নদীর তীরের দুই কিলোমিটার বাঁধ। নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীতীরের বসতবাড়িও ভাঙনের মুখে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

রামু উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিগ্যান চাকমা জানিয়েছেন, রামুর চাকমারকুল মৌজার ১৬৮ শতাংশের চাকমারকুল বালুমহালটি ১৪২৯ বাংলা সনের ৩০ চৈত্র পর্যন্ত মেয়াদে জেলা প্রশাসন পাঁচ লাখ ৮০ হাজার টাকায় ইজারা দেয়। নদীর যে স্থানটি বালুমহাল হিসেবে এক বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে সেখানে বালু তোলা হচ্ছে। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ইজারা নেওয়া বালুমহাল থেকে আরো আধা কিলোমিটার দূরত্বে নদীর আরো একটি পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চাকমারকুল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াপাড়া নামক স্থানে বালুমহাল ইজারা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সালেহ আহমদপাড়া নামক স্থানেও নদীর আরেক পয়েন্ট থেকে তোলা হচ্ছে বালু। আশপাশের পাহাড় ও ফসলি জমির মাটিও কেটে নেওয়া হচ্ছে। নদীতে ড্রেজার এবং তীরে খননযন্ত্র বসিয়ে বালু তোলা থেকে শুরু করে ট্রাকে বালু বিক্রিসহ যাবতীয় কাজে জড়িত চাকমারকুল ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি আবদুল্লাহ আদর। তাঁর সঙ্গে আছেন স্থানীয় আহমদ কামাল, আজিজুল্লাহসহ আরো অনেকে।

এসব বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা আবদুল্লাহ আদর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নদীর একটি বালুমহালের কাগজ দিয়ে আরো একটি পয়েন্ট ছাড়াও পাহাড় ও ফসলি জমির মাটি বিক্রির কাজও আমাকে সামাল দিতে হয়। এ জন্যই আমার রয়েছে দুই ধরনের কাগজ। একটি টোকেন, অন্যটি বালুমহালের ইজারার কাগজ। এ ব্যবসার জন্য থানা, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অফিসকে মাসোহারা দিয়ে টোকেন নেওয়া হয়। ’

খালেদ হোসেন টাপুর নামে বালুমহালটি ইজারা নিয়েছেন জানিয়ে আবদুল্লাহ বলেন, ‘এ জন্য আরো ২২ জন টেন্ডারদাতাকেও টাকা দিতে হয়েছে। সব বিনিয়োগই আমার। ’ 

সরকারি দপ্তরের ‘টোকেন’ কেন নিতে হয়, জানতে চাইলে আবদুল্লাহ বলেন, একটি ড্রেজারের অনুমতি নিয়ে কয়েকটি বসানো হয়েছে। এক্সকাভেটরের (খননযন্ত্র) কোনো অনুমতি নেই। একটি বালুমহালের কাগজে নদীর সব বালু এবং পাহাড় ও জমির মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। এ ছাড়া যেসব ট্রাক দিয়ে বালু পরিবহন করা হয়, কোনোটারই বৈধ কাগজ নেই। তাই মামলা থেকে রক্ষা পেতে ‘টোকেন’ নিতে হয়।

এসব বিষয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রণয় চাকমা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি ওই এলাকায় বেশ কয়েকবার অভিযানে গিয়েছি। প্রতিবারই আমাকে বালুমহাল ইজারার কাগজ দেখিয়েছে ওরা। ’ উপজেলা পরিষদের অফিস থেকে ‘টোকেন’ দেওয়ার কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, এবার অভিযান চলবে।

রামু থানার ওসি অনোয়ারুল হোসেন বলেন, ‘আমার সঙ্গে এসবের কোনো অবৈধ লেনদেনের প্রশ্নই ওঠে না। ’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক শেখ নাজমুল হুদার মুঠোফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।



সাতদিনের সেরা