kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

বাড়তি টাকায় মেলে ছাড়পত্র

কৌশিক দে, খুলনা   

২৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাড়তি টাকায় মেলে ছাড়পত্র

২১ কার্যদিবসের মধ্যে ইমারত নির্মাণের আবেদন নিষ্পত্তির কথা। অথচ ২৫০ দিন পার হওয়ার পরও আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি এমন নজির আছে। শুধু তাই নয়, নকশা, ইমারত নির্মাণ ও ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র (এনওসি) দেওয়ার ক্ষেত্রে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) প্লানিং কর্মকর্তা তানভীর আহম্মেদের বিরুদ্ধে বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

কেডিএর তথ্য অনুযায়ী, বিগত পাঁচ বছরে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি ভবন বা স্থাপনা তৈরি ও নকশার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যে ২০১৬ সালে এক হাজার ১৫২টি, ২০১৭ সালে এক হাজার ৫৮৪টি, ২০১৮ সালে এক হাজার ৩৮৯টি ও ২০১৯ থেকে চলতি বছর পর্যন্ত প্রায় তিন হাজারটি হয়েছে। চলতি বছরের মে পর্যন্ত অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় পাঁচ শ আবেদন।

ভুক্তভোগীদের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কেডিএ নির্ধারিত ফি, ফরম ও আনুষঙ্গিক কাগজপত্রসহ ভবন বা স্থাপনা তৈরি এবং নকশার অনুমোদনের জন্য আবেদন করলেও দিনের পর দিন ঘুরছেন আবেদনকারীরা। আবার অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে রাস্তার অ্যালাইনমেন্ট, ভূমিরূপ পাল্টে, খাল ভরাট ও সরু রাস্তা থাকা সত্ত্বেও অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়েছে।

বিশদ অঞ্চলের (ড্যাপ) প্রস্তাবিত রাস্তার অ্যালাইনমেন্ট পরিবর্তন করে ভূমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে (আবেদন এক হাজার ১৫৯টি)। ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা আবাসিক এলাকায় রাস্তা ছাড়াই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে (৭৯২টি)। খালপারের ভূমি ব্যবহারের অনুমতি, জমিতে প্রবেশের রাস্তা আট ফুটের কম থাকা সত্ত্বেও চারটি (৬৬, ৬৩১, ১৪৯৩ ও ৬১৩) ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। একটি আবেদনে (দুই হাজার ৫৯৯টি) খাল ভরাট করা রাস্তা দিয়ে জমিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ছাড়পত্র মিললেও আরেকটি ঝুলে রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে করা আবেদন নম্বর ৮৪৭, ৮৯৭, ৭৬৩, ১০৮৮, ১৩৫০,১৬২৩, ১৯৮৯, ২২২৩-এর ছাড়পত্রে একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে।

নগরীর বানরগাতির বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘নভেম্বরে অনলাইনে ফাইল জমা দিয়েছি। একাধিকবার  প্লানিং কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেছি। ছয় মাসেও কিছু হয়নি। তিনি জমি পরিদর্শন করবেন বলে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী জানিয়েছেন। ’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বলেন, ‘আমি আবেদন করেছি ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। এখনো অনুমোদন মেলেনি। অথচ আমার পরে পাশের লোক আবেদন করে অনুমোদন নিয়ে চারতলা ভবনের দোতলা শেষ করেছেন। এখন আমার জায়গা জলাভূমি দেখানো হচ্ছে। ’

জলাভূমির অজুহাতে আটকে আছে এক চিকিৎসকের আবেদন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘একই ব্যক্তির জমি কিনে অন্যরা অনুমতি পেয়েছেন। আমি পাচ্ছি না। ’

লিংক রোডের প্যাঁচে এক বছর আগে আবেদন করে আটকে আছেন লবণচরার এক বাসিন্দা। নাম গোপন রেখে তিনি বলেন, ‘ছাড়পত্র না পেয়ে বাধ্য হয়ে মাথা গোঁজার জন্য একটু ঠাঁই করেছি। এতেও ২৫-৩০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। যখন বাড়ির অনুমতি পাব, তখন এই টাকাটা জলে যাবে। ’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আবাসন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, ভূমি ব্যবহার ও নকশার ছাড়পত্র প্রদানে একক কর্তৃত্ব তানভীর আহম্মেদের ওপর। নগরীর মজিদ সরণিতে তিনি হোম সলিউশন নামে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান খুলেছেন। কাজল নামে এক ব্যক্তি এটি পরিচালনা করেন। সেখানে কেডিএর ডিজিটাল সার্ভে যন্ত্র, জিপিএস ব্যবহার করা হয়। ছাড়পত্র পেতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্মকর্তার হেলিকপ্টার ভাড়াও শোধ করতে হয় সেবাপ্রার্থীদের।

এসব বিষয়ে প্লানিং কর্মকর্তা তানভীর আহম্মেদ বলেন, ‘স্বচ্ছতার সঙ্গে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। কিছু লোক কাগজপত্র, রাস্তার প্রশস্ততাসহ অন্যান্য সমস্যার কারণে ছাড়পত্র পাচ্ছেন না। বিগত এক সপ্তাহে প্রায় ৭৫টি ছাড়পত্র দিয়েছি। ফলে অনেকে অনেক কিছু বলতে পারেন। সেটি অনুমাননির্ভর। সঠিক নয়। ’ ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি আরো বলেন, ‘আমার নামে দেশের কোথাও কোনো এনলিস্টেট কিছু নেই। ’



সাতদিনের সেরা