kalerkantho

সোমবার । ২৭ জুন ২০২২ । ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৬ জিলকদ ১৪৪৩

যানজটে স্থবির চট্টগ্রাম শহর

প্রতিনিয়ত সড়ক কাটছে ওয়াসা, আছে যত্রতত্র অবৈধ পার্কিং

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

২৪ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যানজটে স্থবির চট্টগ্রাম শহর

৩২ বর্গমাইল আয়তনের চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২০০১ সালে জনসংখ্যা ছিল ২৬ লাখ। ২০২২ সালে জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০ লাখে। মানুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে যানবাহন। কিন্তু বাড়েনি সড়ক।

বিজ্ঞাপন

এর ওপর আছে খোঁড়াখুঁড়ি, নির্মাণকাজ, হকার, অবৈধ পার্কিং ও আন্দোলন। সব মিলিয়ে যানজটে এই শহর মাঝেমধ্যে স্থবির হয়ে পড়ে।

গত রবিবার ও গতকাল সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে যানজট ও অব্যবস্থাপনার চিত্র প্রত্যক্ষ করেছেন এই প্রতিবেদক। দেখা গেছে, মুরাদপুর এলাকায় সড়কে বিশাল আকারের গর্ত করে পানির কাজ করছেন ওয়াসার ঠিকাদার নিয়োজিত কর্মীরা। ফলে মুরাদপুর ছাড়াও বহদ্দারহাট ও ষোলশহর ২ নম্বর গেটসহ আশপাশের এলাকায় যানজট প্রকট আকার ধারণ করে।

এদিকে গতকাল দুপুরে বায়েজিদ বোস্তামী সড়ক বন্ধ করে অবরোধ করেন পোশাক শ্রমিকরা। পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকার আনোয়ার ড্রেস মেকারে কর্মরত প্রায় দুই হাজার শ্রমিক বেতন না পেয়ে সড়কে অবস্থান নেন। এতে বায়েজিদ বোস্তামী সড়কসহ ষোলশহর ২ নম্বর গেট, ওপরের ফ্লাইওভারেও যানজট তৈরি হয়। শিল্প ও থানা পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

চট্টেশ্বরী সড়কে অবস্থিত অভিজাত চট্টগ্রাম গ্রামার স্কুল। এই স্কুলের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের গাড়ি আছে। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানে গাড়ি পার্কের স্থান নেই। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গাড়ি দুপুর হলেই অবস্থান নেয় সড়কে। ফলে যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে চকবাজার, চট্টেশ্বরী, সার্সন, বাদশা মিয়া সড়কসহ আশপাশের এলাকা। একইভাবে খাস্তগির স্কুল, বাওয়া স্কুল, চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে দীর্ঘ যানজট হয়।

যানজট নিরসনে আখতারুজ্জামান ও বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। ফ্লাইওভারের ওপরে যানজট না থাকলেও নিচে দীর্ঘ যানজট। একই সড়কে রিকশা, ভ্যান, সাইকেল, অটোরিকশার সঙ্গে চার চাকার যানবাহন চলে কচ্ছপগতিতে।

এ ছাড়া লালখানবাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়ালপথ নির্মিত হচ্ছে। সেখানে ধুলোঝড়ের সঙ্গে স্থবির যানজটে যাত্রীদের নাকাল অবস্থা। একইভাবে নির্মাণ কার্যক্রম না থাকলেও নিউ মার্কেট ও স্টেশন রোডে ব্যবসা করেন হকার ও ফলের আড়তদাররা।

গত রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় মেহেদীবাগ মোড়ে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন মোটরসাইকেলচালক নাজিম উদ্দিন ও আরোহী হাবিবুল ইসলাম। মাথার ওপর তখন প্রখর রোদ। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস থেকে ফোনে জানা গেল, এই মুহূর্তে তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন রোদে হাঁসফাঁস করতে করতে মোটরসাইকেলে বসে আছেন নাজিম। মাথার হেলমেটও কিছুটা ওপরের দিকে তুলে দিয়ে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করছেন। জানতে চাইলে বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘এই শহরে ট্রাফিক পুলিশ বলে কিছু আছে নাকি? যানজট তো হবেই। ’

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর ট্রাফিক পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) নাছির উদ্দিন বলেন, ‘ট্রাফিক পুলিশ তো আর চেইনের মতো করে পুরো নগরীতে দাঁড় করিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ’ তিনি জানান, সরকারি-বেসরকারি কোনো কর্তৃপক্ষই পার্কিংব্যবস্থা রাখেনি। টার্মিনালও গড়ে তোলেনি। এ অবস্থায় যানজট নিরসন কিভাবে সম্ভব?

মহানগরীর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) শ্যামল কুমার নাথ বলেন, ‘যানজট নিরসনের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন গুরুত্বপূর্ণ ৩৮টি স্থানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিল। এখনো সেগুলো নির্মিত হয়নি। ওয়াসা প্রায়ই সড়ক কাটে। উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ফ্লাইওভার নির্মাণ করে। এ ছাড়া অনেক আগে লাগানো ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি অকার্যকর। সব মিলিয়ে শুধু ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে যানজট নিরসন করা অসম্ভব। ’

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, ‘সড়ক কাটার প্রয়োজন হলে ট্রাফিক পুলিশকে জানানো হয়। ’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘মানুষ ও গাড়ি বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। কিন্তু সড়ক বাড়েনি। তাই যানজট স্থায়ী রূপ নিয়েছে। ’

 



সাতদিনের সেরা