kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

বেড়িবাঁধে ভাঙন, ঝুঁকিতে বাড়িঘর, ফসলি জমি

রংপুর অফিস   

২৩ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বেড়িবাঁধে ভাঙন, ঝুঁকিতে বাড়িঘর, ফসলি জমি

পানি বাড়তে শুরু করায় রংপুরের গঙ্গাচড়ার কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনিয়ার চরে তিস্তার ভাঙন চলছে। এতে স্থানীয়রা দিশাহারা অবস্থায় রয়েছে। গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে রংপুরের গঙ্গাচড়ার বিনবিনিয়া এলাকায় বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। রাস্তা ভেঙে গেছে। ফসলের ক্ষেতে পানি ঢুকে পড়েছে। নদীভাঙন ঠেকাতে স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি দুটি বাঁধও (গ্রোয়েন) ভাঙনের মুখে।

বিজ্ঞাপন

এতে সাড়ে চার হাজার পরিবার ঝুঁকিতে আছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিস্তার পানি প্রায় ১০-১১ দিন ধরে বাড়ছে। নদীর ডান তীরে কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিনবিনিয়াচরের পশ্চিমপাড়ায় ডান তীর রক্ষা বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভেঙে যাচ্ছে বাঁধ, বাঁশঝাড়, জমিজমা, বসতবাড়ি। প্রায় মাস দুয়েক আগ থেকে সেখানে ভাঙনরোধে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উদ্যোগে গ্রামবাসীর সহায়তায় স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রোয়েন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সেটিও পানি বাড়ার ফলে ভাঙনের মুখে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনোয়ারুল ইসলাম জানান, বিনবিনিয়া নারিকেলচর থেকে খৈখাওয়া পর্যন্ত যে বেড়িবাঁধটি ছিল সেটি গতবারের বন্যায় অর্ধেক ভেঙে গেছে। এবার পুরোটাতেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নিয়ে দুটি পয়েন্টে দুটি গ্রোয়েন বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু তিস্তার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বালুর গ্রোয়েন দুটিও ভেঙে যাচ্ছে। ’

সংরক্ষিত ইউপি সদস্য নারগিস আক্তার বলেন, এক সপ্তাহ থেকে তিস্তায় পানি বাড়ছে আবার কমছে। কিন্তু ভাঙন চলছে। পানি যদি আরো সামান্য বাড়ে তাহলে এই পুরো এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ বলেন, বেড়িবাঁধটির পূর্বের অংশ এরই মধ্যে ভেঙে গেছে। এখন খৈখাওয়া অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যদি এই ভাঙন রোধ করা না যায় তাহলে খৈখাওয়া, পাঙ্গাটারী, মধ্যপাড়া, আমিনগঞ্জসহ আশপাশের অন্তত ১০-১১টি গ্রামে ভাঙন দেখা দেবে। আউলিয়া বাজার, বিনবিনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

আব্দুর রউফ বলেন, এই ভাঙন রোধে স্থানীয়রা দুটি পয়েন্টে বালু দিয়ে গ্রোয়েন বাঁধ নির্মাণ করছে। নিজেরা চাঁদা তুলে বস্তা কিনে সেখানে ফেলছে। কিন্তু পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই দুটির মধ্যেও ভাঙন ধরেছে। আব্দুর রউফের অভিযোগ, ‘ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। এমনকি আমার ফোনও তারা ধরছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে গ্রোয়েন বাঁধ দুটি ছাড়াও বেড়িবাঁধ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার আবেদন জানিয়েছি। এটা না হলে এলাকার সাড়ে চার হাজার বাড়িঘর ভাঙনের মুখে পড়বে। হাজার হাজার হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। ’

ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা পাকার মাথা এলাকার সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় আমাদের বাড়ির একাংশ এরই মধ্যে ভেঙে গেছে। পানি আর একটু বাড়লে বাড়ির বাকি অংশও ভেঙে যাবে। আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব। অতিদ্রুত এর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ব আমরা গ্রামবাসী। ’

মিনারা বেগম বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাদের দিকে তাকায় না। আমার বাড়ির একাংশ চলে গেছে। আর বাকি অংশ নদীগর্ভে যাওয়ার বিষয়টি সময়ের ব্যাপার মাত্র। ’

স্থানীয় বাচ্চু মিয়া বলেন, বাঁধটি ভেঙে গেলে পাশেই খৈখাওয়া এলাকায় অবস্থিত সমবায় ভিত্তিতে গড়ে তোলা ২০০ একর জমির মৎস্য খামার নষ্ট হয়ে যাবে। এতে খামারের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৫০০ পরিবারের জীবিকা হুমকির  মুখে পড়বে। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন পরিদর্শনে এসেছিলেন। এলাকাবাসী হাত-পা ধরে অনুরোধ করেছে ভাঙন ঠেকানোর উদ্যোগ নিতে। কিন্তু কাজ হয়নি।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, ভাঙনকবলিত বিনবিনিয়া এলাকায় একটি টেকসই বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাব সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি সমীক্ষা করা হচ্ছে। সমীক্ষা প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘ভাঙনকবলিত এলাকার সর্বশেষ পরিস্থিতি একজন এসও গিয়ে দেখে এসেছেন। রংপুরের তিন উপজেলায় পানি বেড়ে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। রংপুর থেকে একটি টিম প্রতিনিয়ত গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছার ভাঙনকবলিত এলাকায় যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ভাঙন দেখা দেয়নি। বেড়িবাঁধের বাইরে যদি ভাঙনের খবর পাওয়া যায় সেখানেও জিওব্যাগ দেওয়া হবে। ’

 



সাতদিনের সেরা