kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

বাড়ি থেকে দুই শিশুসহ মায়ের লাশ উদ্ধার

নরসিংদী প্রতিনিধি   

২৩ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাড়ি থেকে দুই শিশুসহ মায়ের লাশ উদ্ধার

নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বাবলা গ্রামে গতকাল গৃহবধূ রহিমা বেগম ও তাঁর দুই শিশুর লাশ উদ্ধারের পর স্বজনদের আহাজারি। ছবি : কালের কণ্ঠ

নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে এক নারী ও তাঁর দুই শিশু সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে উপজেলার বাবলা গ্রামের ওই বাড়ি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের সবার শরীরে ধারালো অস্ত্রের জখমের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ওই নারীর স্বামী গিয়াস উদ্দিন শেখকে আটক করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রী-সন্তানদের হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

হত্যার শিকার তিনজন হলো গিয়াসের স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৬), একমাত্র ছেলে রাব্বি শেখ (১২) ও একমাত্র মেয়ে রাকিবা শেখ (৭)। রহিমা কাপড় সেলাইয়ের কাজ করতেন। রাব্বি স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়ত। রাকিবা পড়ত স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিক সুরতহালে নিহত তিনজনের শরীরেই ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ও শ্বাসরোধে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নিহত রহিমার শরীরে আঘাতের চিহ্ন সবচেয়ে বেশি। তাঁর মাথা, গলা, বুক ও হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

গতকাল সন্ধ্যায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ‘গিয়াস জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ছুরি মেরে ও ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে। পরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে। ’ পুলিশ সুপার আরো বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের সময় গিয়াস গাজীপুরে ছিলেন—জিজ্ঞাসাবাদে এমন দাবি করলেও আমরা তাঁর মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে জানতে পারি তিনি (গিয়াস) ওই সময় ঘটনাস্থলেই ছিলেন। এ ছাড়া একজন নারীর সঙ্গে তাঁর মুঠোফোনে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার বিষয়টিও আমরা নিশ্চিত হয়েছি। ’

পুলিশের হাতে আটক হওয়ার আগে রহিমার স্বামী গিয়াস সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে জেঠাতো ভাই রেনু মিয়া ভাড়াটিয়া খুনি এনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তবে পুলিশ ও স্থানীয় একটি সূত্র বলেছে, স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে গিয়াস-রহিমা দম্পতির মধ্যে একাধিকবার ঝগড়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এই দ্বন্দ্ব থেকে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রংমিস্ত্রি গিয়াস উদ্দিন শেখের বাড়ির লাগোয়া কোনো বাড়ি নেই। বাড়ির পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে তাঁর দুটি মাটির ঘর। এর মধ্যে পশ্চিম দিকের ঘরে থাকত গিয়াস ও রহিমা এবং দক্ষিণ দিকের ঘরে থাকত ছেলে রাব্বি ও মেয়ে রাকিবা। গিয়াস বেশির ভাগ সময় গাজীপুরে থাকেন। আর দুই সন্তানকে নিয়ে রহিমা বেগম গ্রামের এ বাড়িতেই থাকতেন। গত শনিবার বিকেলে গিয়াস উদ্দিন গাজীপুরে যান। গতকাল সকালে স্থানীয় এক নারী বানাতে দেওয়া পোশাক আনতে যান রহিমার বাড়িতে। বাইরে থেকে দরজা আটকানো দেখে বেশ কয়েকবার ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজার নিচ দিয়ে তাকান। এ সময় তিনি রক্ত দেখতে পেয়ে চিৎকার দেন। তখন গিয়াস উদ্দিনের বড় ভাই নাসির উদ্দিনসহ স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশী ওই ঘরের একটি জানালা ভেঙে ঘরের ভেতরে লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাফায়েত হোসেন পলাশের নেতৃত্বে  পুলিশ তিনটি লাশ উদ্ধার করে।

খবর পেয়ে পিবিআইয়ের নরসিংদী পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্না, জেলা পুলিশের নরসিংদী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আবুল বাশারসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাঁরা সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গিয়াসসহ তিনকে আটক করেছে।

ঘটনাস্থলে গিয়াসের বড় ভাই নাসির উদ্দিন শেখ বলেন, ‘আমার বাড়ি একটু দূরে। রাত ২টা-আড়াইটার দিকে গিয়াসের বাড়িতে কুকুরের ডাকের শব্দ শুনতে পেয়েছি। তখন ভাবলাম হয়তো চোর আসছে কাঁঠাল চুরি করতে। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আমার স্ত্রী ডেকে বলে, গিয়াসের বাড়িতে কী যেন হয়েছে। গিয়ে দেখি তিনজনের লাশ। ’

বেলাব থানার ওসি সাফায়েত হোসেন পলাশ বলেন, লাশ তিনটি ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান বলেন, ‘শনিবার দিবাগত রাতের শেষ দিকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বাইরে থেকে দরজা আটকে দেওয়া হয়। ’

 

 



সাতদিনের সেরা