kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

বিশ্ব কচ্ছপ দিবস

কচ্ছপ বাঁচানোই ব্রত ওদের

রফিকুল ইসলাম, কুয়াকাটা থেকে ফিরে   

২৩ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কচ্ছপ বাঁচানোই ব্রত ওদের

কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে কচ্ছপ বাঁচাতে কাজ করছেন তাঁরা। গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

লাল-নীল জালে মোড়ানো। সাগর থেকে কোনোভাবে জালে মোড়ানো কচ্ছপটি তীরে উঠে এসেছিল। সেখান থেকে বাঁচার আকুতি বড়সড় কচ্ছপটির। মাংসের লোভে কেউ কেউ হাজির হয়েছিল দা-বঁটি নিয়ে সমুদ্রের তীরে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু বাদ সাধলেন স্থানীয় তরুণরা। কচ্ছপটিকে বাঁচিয়ে শুধু সাগরে ছেড়েই দিলেন না, স্থানীয়দের সচেতন করলেন তাঁরা। নগরায়ণের প্রভাবে লুপ্তপ্রায় কচ্ছপ বাঁচানোর শপথও নিলেন তাঁরা।

কচ্ছপ বাঁচানোই এই তরুণদের ব্রত। কুয়াকাটার আশপাশের এলাকায় কচ্ছপের বাসস্থান নদী ও জলাভূমি রক্ষার কাজ করেন তাঁরা। আটকান চোরাচালান। আর এভাবেই গত এক বছরে অন্তত অর্ধশত কচ্ছপের প্রাণ রক্ষা করেছেন তাঁরা।

এই তরুণরা কুয়াকাটারই বাসিন্দা। তাঁদের নেতৃত্বে রয়েছেন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ও ডলফিন রক্ষা কমিটির সমন্বয়কারী রুমান ইমতিয়াজ তুষার ও কে এম বাচ্চু। শুধু কচ্ছপ নয়, সাগরতীরে ছুটে আসা সব ধরনের প্রাণী রক্ষায় তাঁরা উদ্ধার থেকে শুরু করে প্রাণ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁদের গঠন করা ডলফিন রক্ষাকারী কমিটি কাজ করছে প্রাণী সংরক্ষণে। লাল কাঁকড়ার আবাস রক্ষায় তাঁদের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো।

পরিসংখ্যন বলছে, কুয়াকাটা সমুদ্রের তীরে কচ্ছপ আটকে মৃত্যুর মিছিল নতুন নয়। প্রায় প্রতিদিনই বড়সড় মৃত কচ্ছপ ভেসে আসছে সাগরতীরে। বিশেষজ্ঞরা এর জন্য আধুনিক উন্নয়নের ছোঁয়া আর অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন নিয়েই আহ্লাদিত প্রশাসনকে দায়ী করেছেন। তাঁরা বলছেন, সমুদ্রতটের ভাঙন রোধ করতে প্রতিবছর তৈরি হচ্ছে কংক্রিটের বাঁধ। কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতজুড়ে তৈরি করা হয়েছে বালুর তৈরি টিউবে মোড়ানো বাঁধ।

তরুণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সৌন্দর্যায়নের নামে সৈকতকে মুড়ে দেওয়া হচ্ছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আলোয়। এ কারণে ডিম দিতে সৈকতের বালু তীরে আসতে পারছে না কচ্ছপের দল। সমুদ্রের তীর ঘেঁষে চলছে মাছ ধারার ছোট ছোট ট্রলার। কিছু কচ্ছপ এই বাধা অতিক্রম করে তীরে আসার সময় জালে আটকে গিয়ে মারা পড়ছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে অন্তত আটটি মৃত কচ্ছপ সৈকত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

কে এম বাচ্চু বলেন, ‘এর আগে ডলফিন, তিমি আর সাপ বাঁচিয়েছি। এখন থেকে নদীর কচ্ছপ যাতে মানুষের লোভের মুখে না পড়ে, সেদিকে আমরা নজর রাখছি। এগুলো ধ্বংস হলে আখেরে যে মানুষেরই ক্ষতি, সেটা সবাইকে বুঝতে হবে। কারণ কচ্ছপ ধরা-মারা বা মাংস খাওয়া যে বেআইনি এবং তাতে জেল-জরিমানা হতে পারে, সে কথাও জেলেসহ সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ’

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের সাবেক ডিন এ কে এম মোস্তফা জামান বলেন, ‘কচ্ছপ জেলেদের বন্ধু হিসেবেও পরিচিত। কারণ সেগুলো আবর্জনা ও প্রাণীর মৃতদেহ খেয়ে নেয়। ছোট মাছের শিকারি বলে পরিচিত জেলিফিশও কচ্ছপের পেটে যায়। তাই কচ্ছপের সংখ্যা কমে গেলে মাছের সংখ্যাও কমে যাবে। ’

 



সাতদিনের সেরা