kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

পাখি

জলপাইপিঠ মৌটুসি

এমরান হাসান সোহেল, পটুয়াখালী   

২২ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জলপাইপিঠ মৌটুসি

ঝুলন্ত ডালে বাসা বেঁধেছে জলপাইপিঠ মৌটুসি । ছবি : কালের কণ্ঠ

ছোট মায়াবী চেহারার এক পাখি জলপাইপিঠ মৌটুসি। পিঠের দিকটায় জলপাই রং, তাই এই নাম। ফুলের গভীর থেকে মধু টেনে নিতে মোক্ষম কালো তীক্ষ ঠোঁট। এই হচ্ছে বাহারি জলপাইপিঠ মৌটুসি।

বিজ্ঞাপন

রূপে-রঙে মন কেড়ে নেওয়া এই পাখি গাছের ডালে কিংবা বসতঘরের নির্জন এলাকায় বাবুই পাখির আদলে বাসা তৈরি করে। বনজঙ্গল উজাড় হওয়া আর খাবারের সংকটের কারণে এই প্রজাতির পাখি এ অঞ্চলে এখন বেশ একটা দেখা যায় না। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে প্রকাশিত পাখিটির দেখা মেলে সম্প্রতি বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ধানদি গ্রামের বৃক্ষপ্র্রেমিক এম এ বাশারের বাগানে।

দৈর্ঘ্যে ১০ সেন্টিমিটার হয় এ প্রজাতির মৌটুসি। আকারে পুরুষ ও স্ত্রী পাখির মধ্যে যথারীতি পার্থক্য রয়েছে। প্রজনন সময় ছাড়া পুরুষ ও স্ত্রী পাখির মধ্যে মিল অনেক। ছেলে পাখির পিঠ জলপাই সবুজ, লেজ কালো, গলা ও বুক সাদাটে নীল, দেহতলের শেষাংশে হলুদ। পক্ষান্তরে স্ত্রী পাখির পিঠ জলপাই রঙের, লেজ কালো, দেহতলের বড় অংশ হলুদ। কিন্তু গলা ও বুকের মাঝখানে প্রশস্ত কালচে লম্বালম্বি দাগ নেমে গেছে। পুরুষ ও স্ত্রী পাখি উভয়ের চোখ কালচে। কালো ঠোঁটটি লম্বা ও বাঁকানো। পা ও পায়ের পাতা কালো। ছোট থেকে বড় পালকে সাজানো লেজ। পুরুষ পাখির লেজের পালক তুলনায় বেশি লম্বা।

ছোট ঝোপঝাড় আর উপকূলীয় প্যারাবনে বেশি বিচরণ করে এ পাখি। সাধারণত এরা জোড়ায় জোড়ায় চলে, তবে মাঝেমধ্যে দল বেঁধেও চলতে দেখা যায়। ফলদ গাছ ও ঝোপ থেকে খাবার আহরণ করে এ মৌটুসি। এদের খাদ্যতালিকায় রয়েছে ছোট পোকা ও ফুলের মধু। ‘সুইট’ ‘সুইট’ শব্দ করে গাছের ডালে বসে এরা গান করে। জানুয়ারি থেকে মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত প্রজনন মৌসুম জলপাইপিঠ মৌটুসির। সাধারণত একবারে এরা দুটি ডিম দেয়। ঘাস ও আঁশ দিয়ে অনেকটা বাবুই পাখির আদলে থলের মতো বাসা বানায়।

তবে বাবুইয়ের মতো অত বড় হয় না এদের বাসা। বিশ্বে ১৮ প্রজাতির মৌটুসি থাকলেও আমাদের দেশে মাত্র চার প্রজাতির দেখা যায়।

ধানদি গ্রামের বাসিন্দা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘ছোটবেলায় এই সুন্দর পাখিগুলো দেখতাম অনেক। কিন্তু এখন আর তেমন দেখা মেলে না। বনজঙ্গল কমে যাওয়ার কারণেই ওরা হয়তো নিরাপদ আবাসস্থল হারিয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ’

পাখি বিশেষজ্ঞ ও পটুয়াখালী সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক পীযুষ কান্তি হরি বলেন, ‘আমাদের দেশে চার প্রজাতির মৌটুসি পাওয়া যায়। এর মধ্যে জলপাইপিঠ মৌটুসি একটি। এ প্রজাতির পাখি এখন হারিয়ে যাচ্ছে। কারণ বনাঞ্চল উজাড়ের ফলে একদিকে তারা আাাশ্রয় হারাচ্ছে। অন্যদিকে ফলদ গাছের সংখ্যা কমছে। ফলে বাসা বাঁধা এবং খাদ্য আহরণের সমস্যার কারণে এর সংখ্যা দিন দিন কমছে। সরকারের উচিত বিশেষ করে এ ধরনের পাখির জন্য নিরাপদ বনাঞ্চল তৈরি করে তা সংরক্ষিত রাখা। জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশের সৌন্দর্য রক্ষার বিবেচনায় জলপাইপিঠ মৌটুসিকে টিকিয়ে রাখা জরুরি। ’



সাতদিনের সেরা