kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট তলিয়েছে হাসপাতাল

সিলেট অফিস ও সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

২০ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট তলিয়েছে হাসপাতাল

পানি ঢুকে গেছে হাসপাতালেও। রোগীকে কাঁধে নিয়ে পানি ভেঙে বাইরে আনা হচ্ছে। গতকাল সুনামগঞ্জের ছাতকের কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতাল থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দি মানুষ পর্যাপ্ত ত্রাণ পাচ্ছে না। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস না থাকায় বাসা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছে লোকজন। সুনামগঞ্জে তিনটি হাসপাতালসহ অর্ধশতাধিক কমিউনিটি ক্লিনিকে পানি উঠে গেছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সিলেট নগরের উপশহর এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তাঘাট জলমগ্ন। বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় সেখানে সন্ধ্যা নামলেই ভূতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজের খাবার নষ্ট হয়ে গেছে। খাবারের মজুদ আর নেই। মোবাইল চার্জ দিতে প্রতিদিন কোমর সমান পানি মাড়িয়ে রাস্তায় নামতে হচ্ছে। অনেক বাসায় গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্নাও করা যাচ্ছে না। বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। এলাকার বেশির ভাগ দোকান বন্ধ। যেগুলো খোলা আছে সেগুলোতে অতিরিক্ত দাম হাঁকা হচ্ছে। বাসিন্দাদের অনেকেই বাসা ছেড়ে অন্যত্র স্বজনদের বাসায় আশ্রয় নিচ্ছে। একই অবস্থা দেখা গেছে নগরের তেরো রতন, মেন্দিবাগ, যতরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায়।

উপশহর এলাকার ই ব্লকের ৬ নম্বর রোডের বাসিন্দা ব্যবসায়ী রিপন আহমেদ ফরিদী বলেন, ‘বিদ্যুৎ আর বিশুদ্ধ পানির সংকট সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে আমাদের। শিশু আর বৃদ্ধরা বেশি সমস্যায় পড়েছে। ’

সিলেট জেলায় নগর ও উপজেলায় বন্যার কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অনেকটা বিপর্যস্ত। বিভিন্ন উপজেলার কয়েক লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায়। নগর এলাকায়ই ৩৮ হাজার মানুষ বিদ্যুেসবা থেকে বঞ্চিত। সিলেট বিভাগীয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও ২-এর কর্মকর্তারা এসব তথ্য দিয়েছেন।

বিভাগীয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আরাফাত আল-মাজিদ বলেন, ‘উপশহর এলাকায় আমাদের পাঁচ-ছয় হাজার গ্রাহক রয়েছেন। তাঁরা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। নগরের দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দিতে আমাদের বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বন্যার পানি ঢুকে যাওয়ায় সেটি বন্ধ থাকায় আরো ৩২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুত্হীন আছেন। পরিস্থিতির উত্তরণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ’

সিলেটের ১৩টি উপজেলা এখন কমবেশি বন্যাকবলিত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর উপজেলা। এসব উপজেলার সব কটি গ্রামেই বন্যার পানি ঢুকেছে। তবে গতকাল বিকেল পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলায় আগের দিনের তুলনায় পানি কিছুটা নেমেছে বলে জানা গেছে। বাকি উপজেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

কয়েক দিন ধরে উপজেলাগুলো পানিতে নিমজ্জিত থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। যারা বাড়িতে আছে তাদের খাবারের  মজুদ ফুরিয়ে গেছে। যারা আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে তারাও খাদ্যসংকটে আছে। উপজেলাগুলোতে বন্যার শুরু থেকেই ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে সিলেটের জেলা প্রশাসন। তবে বিভিন্ন উপজেলার জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, প্রশাসন শুরু থেকেই ত্রাণ দিলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বিপরীতে তা খুব কম।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের আলমগীর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ত্রাণ নিয়ে খুব বিপাকে আছি। আমার ইউনিয়নে ভোটার ২৫ হাজার, পাঁচ হাজার পরিবার। আর ত্রাণ পেয়েছি মাত্র দুই টন চাল আর শুকনা খাবার ৫০ প্যাকেট। ’

এ বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘আমাদের কাছে যা আসছে তা আমরা সঙ্গে সঙ্গে চাহিদা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী উপজেলাগুলোতে বণ্টন করে দিচ্ছি। আমাদের হাতে কিছু নেই। ’

যুক্তরাজ্য থেকে সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী গতকাল দেশে ফিরেছেন। সকাল ১১টায় দেশে ফিরেই তিনি বন্যাকবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘সিসিকের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রের মানুষকে খাবার, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ চলছে। ’

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ২০ শয্যা কৈতক হাসপাতালের পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের আবাসিক ভবনও নিমজ্জিত হয়েছে। এতে সেবাদান ও সেবাগ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে। সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকও নিমজ্জিত হওয়ায় তৃণমূল মানুষের স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। নলকূপ তলিয়ে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ও কৈতক হাসপাতালে বানের পানি ঢুকেছে। তাহিরপুর উপজেলা হাসপাতাল চত্বরও তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ২৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ছাতক, দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জ সদরের অন্তত অর্ধশত কমিউনিটি ক্লিনিকের চত্বর নিমজ্জিত হয়েছে। কৈতক হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সাইদুর রহমান বলেন, ‘তিন দিন ধরে আমার হাসপাতালে হাঁটু সমান পানি। এতে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ’

 



সাতদিনের সেরা