kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

পালাউ প্রজাতন্ত্র

ডলার না, ভালো পর্যটক আশা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডলার না, ভালো পর্যটক আশা

দ্বীপদেশ পালাউ প্রজাতন্ত্রের একটি এলাকা। ছবি : সংগৃহীত

বিশ হাজারেরও কম জনসংখ্যার খুদে দ্বীপ দেশ পালাউ প্রজাতন্ত্র। কিন্তু এই গ্রহকে রক্ষা করার জন্য তারা নিয়েছে বড় উদ্যোগ। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তিন শটির বেশি ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশটি শুধু ১৯৭৯ সালে বিশ্বের প্রথম পরমাণুবিরোধী সংবিধানই গ্রহণ করেনি, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ‘পালাউ অঙ্গীকার’ও বাস্তবায়ন করেছিল। এর আওতায় বিদেশি অতিথিদের পাসপোর্টে সাঁটানো একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

এর মাধ্যমে তাঁরা পালাউয়ের শিশুদের প্রতিশ্রুতি দেবেন যে তাঁরা দ্বীপগুলোতে ‘হালকাভাবে চলাফেরা করবেন’ এবং একে ‘সংরক্ষিত’ রাখবেন।

দীর্ঘ দুই বছরের লকডাউনের পর দ্বীপপুঞ্জটি আবার পর্যটনের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। এ উপলক্ষে ‘ওলাউ পালাউ’ নামে একটি নতুন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, এটি দায়িত্বশীল পর্যটনের ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ। এর আওতায় ভ্রমণকারীরা কিভাবে দ্বীপদেশটির পরিবেশ আর সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলেন তার ভিত্তিতেই তাঁদের বিশেষ অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। তাঁরা কত মোটা অর্থ ব্যয় করেন তা দেখে নয়।

কর্মসূচিটি পরিচালিত হবে একটি বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে চালু হবে এটি। যাঁরা দ্বীপ দেশটিতে চলাফেরা ও কাজকর্মে ভদ্রতা এবং শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন তাঁদের পয়েন্ট দেওয়া হবে।

এই গ্রহণযোগ্য ও কাম্য আচরণের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন টেকসই সিদ্ধান্ত ও কাজ। যেমন—প্রবাল প্রাচীরের জন্য নিরাপদ সানস্ক্রিন ব্যবহার করা, সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শন করা (যেমন—বেলাউ জাতীয় জাদুঘর এবং বাই, যা মাইক্রোনেশিয়ার প্রাচীনতম) এবং টেকসইভাবে উৎপাদিত স্থানীয় খাবার খাওয়া।

অতিথিরা এরপর বিশেষ কিছু সাংস্কৃতিক এবং প্রকৃতিভিত্তিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে তাঁদের অর্জিত পয়েন্টগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। এগুলো সাধারণত পালাউয়ান এবং তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের জন্যই সংরক্ষিত থাকে। যেমন—অচিহ্নিত বুনো বা পাহাড়ি পথে হাইক করা, গোপন ডুবো গুহায় সাঁতার কাটা, স্থানীয়দের এবং প্রবীণদের সঙ্গে খাবার খাওয়া বা একটি নিঝুম কোনো মাছ ধরার জায়গায় ছিপ ফেলা।

এ ছাড়া এটা এমন কিছু নতুন অভিজ্ঞতারও প্রতিশ্রুতি দেয়, যা একসময় পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত ছিলই না বলা যায়। যেমন—প্রথম জন্ম উদযাপন, যা দ্বীপটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এই কর্মসূচি ও ‘পালাউ অঙ্গীকার’ উভয়ের ধারণাই প্রথম আসে ২০১৫ সালে। ওই সময় পালাউয়ে পর্যটক আসতেন বছরে দেড় লাখ, যা দেশের জনসংখ্যার সাত গুণেরও বেশি। ওই পর্যটকদের মধ্যে অনেকেই দ্বীপটির ভঙ্গুর প্রতিবেশ বা এর বাসিন্দাদের জন্য পরিবেশ টেকসই রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝতে পারেননি। পালাউয়ান সংস্কৃতি অতিথিপরায়ণতাকে গুরুত্ব দেয়। তারা বিদেশিদের সম্মানও করে। কিন্তু পরিবেশ বিষয়ে অসচেতন পর্যটকরা যেভাবে তাদের পরিবেশ নষ্ট করছেন, তা দেখে স্থানীয়রা কষ্ট পাচ্ছিল।

এই অবস্থা মোকাবেলা করার জন্য পালাউয়ে ভ্রমণকারীদের সচেতন করার দরকার হয়ে পড়েছিল, বলেন দ্বীপের বাসিন্দা লরা ক্লার্ক। পালাউয়ান জেনিফার কোসকেলিন-গিবনসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিনিই প্রতিষ্ঠা করেন ‘পালাউ লিগ্যাসি প্রকল্প’। এই সংরক্ষণ উদ্যোগগুলো এসেছে সেই প্রকল্পের মাধ্যমেই।

লরা ক্লার্ক বলেন, ‘পালাউয়ান ভাষায় ‘ওলাউ’ মানে আপনার দুয়ারে কাউকে আমন্ত্রণ জানানো। তাই যদি আপনাকে সমুদ্রসৈকতে কেউ ‘ওলাউ’ বলে ডাকে, এর অর্থ হলো, ‘আসুন, আমাদের সঙ্গে বসুন’।

পালাউ সম্প্রতি পাঁচ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বিশ্বের প্রথম জাতীয় সামুদ্রিক অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠা করেছে। সূত্র : বিবিসি

 

 



সাতদিনের সেরা