kalerkantho

সোমবার । ২৭ জুন ২০২২ । ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৬ জিলকদ ১৪৪৩

বাণিজ্যমন্ত্রী বললেন

সয়াবিন তেল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সয়াবিন তেল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

দেশের ভোগ্য পণ্য বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি  হয়েছে এটা বৈশ্বিক সমস্যা, এতে উদ্বেগের কিছু নেই; তবে সবাই মিলে এই সংকট মোকাবেলা করতে হবে। এ কথা বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ভারত থেকে গম আমদানিতে বাংলাদেশের কোনো সমস্যা নেই। ‘সরকার টু সরকার’ আমদানিতে কোনো বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

‘সয়াবিন তেল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ জন্য বিকল্প হিসেবে অন্য তেলের পাশাপাশি রাইস ব্র্যান তেলের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনাসংক্রান্ত টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে গেল গেল

একটি রব উঠেছে। এটা আমাদের সংস্কৃতি। শ্রীলঙ্কার উদাহরণ দিয়ে যা বলা হচ্ছে সেটা ঠিক নয়। কারণ শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ এক নয়। ’

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, টাস্কফোর্সের বৈঠকে ভোজ্য তেল, লবণ, পেঁয়াজ ও গম নিয়ে আলাপ হয়েছে। ভারত থেকে গম আমদানিতে বাংলাদেশের কোনো সমস্যা নেই। দেশে প্রয়োজনীয় ভোজ্য তেল মজুদ রয়েছে। পর্যাপ্ত ভোজ্য তেল পাইপলাইনে রয়েছে, সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। ভোজ্য তেলের সংকট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

তিনি বলেন, ‘ভোজ্য তেলের ৯০ শতাংশ আমরা আমদানি করে থাকি। আর আমদানিনির্ভর থাকতে চাই না। বিকল্প হিসেবে সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রাইস ব্র্যানের ভোজ্য তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশের চাহিদা পূরণের জন্য সরকার কাজ করছে। ’

মন্ত্রী সয়াবিনের বিকল্প তেল হিসেবে অন্য তেলের পাশাপাশি রাইস ব্র্যান তেলের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। তিনি জানান, স্থানীয়ভাবে সাত লাখ মেট্রিক টন রাইস ব্র্যান তেল উৎপাদন করা সম্ভব, যা দেশের মোট চাহিদার ২৫ শতাংশ পূরণ করতে পারবে। সে জন্য রাইস ব্র্যানের সুফল সম্পর্কে প্রচার করতে হবে। ডাক্তারদের এ নিয়ে কথা বলতে হবে। পাশাপাশি সরিষার উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ ও সরবরাহ রয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ সংকট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। দেশীয় পেঁয়াজ উৎপাদনকারীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে পেঁয়াজ আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বেড়েছে। আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। এ জন্য পেঁয়াজের নতুন জাত উদ্ভাবন করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, টিসিবি দেশের এক কোটি পরিবারকে বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি অব্যাহত রাখবে। আগামী জুন মাসের প্রথমার্ধেই এ পণ্য বিক্রি শুরু হবে। নির্ধারিত ডিলারের মাধ্যমে দোকান থেকে এসব পণ্য বিক্রি হবে। প্রয়োজনে নির্ধারিত স্থানে ট্রাক থেকেও বিক্রি করা হবে। এ পণ্য বিক্রি সুশৃঙ্খল করা হয়েছে, সব কার্ডহোল্ডার এ পণ্য পাবেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব) মো. আফজাল হোসেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম আলী আহাদ খান, টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান, এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মো. আমীন হেলালী প্রমুখ।

 



সাতদিনের সেরা