kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

সাধু মেলা

কবে সাধুর চরণধূলি লাগবে মোর গায়

সালেহ ফুয়াদ   

১৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কবে সাধুর চরণধূলি লাগবে মোর গায়

পূর্ণিমা তিথির সাধু মেলার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বাউলকুঞ্জে সাধু মেলার ৩৬তম আসরে লালন সাঁইজির গান পরিবেশন করছেন বাউলশিল্পীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ। নিচে সবুজ ঘাসে গোল হয়ে বসা একদল মানুষ। সন্ধ্যাবাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে গানের মিষ্টি সুর। তন্ময় হয়ে সে সুরে বিভোর মানুষগুলো।

বিজ্ঞাপন

যাঁরা গাইছেন, তাঁদের পরিধেয় বলে দেয় তাঁরা সাধুগুরু মানুষ। মঞ্চ নয়, ঘাসের ওপর সামান্য চাদর বিছিয়ে বসেছেন সবাই। মিষ্টি ধূপের গন্ধ গানের গভীর বাণী শ্রোতাদের মর্মে পৌঁছে দিতে আরো বেশি সহায়তা করে।

রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির বটতলা বাউলকুঞ্জে গতকাল রবিবার সন্ধ্যার এই মনোরম দৃশ্যের অবতারণা হয়। পূর্ণিমা তিথির সাধু মেলার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল বসেছিল ৩৬তম আসর। শিল্পকলা একাডেমির প্রযোজনা বিভাগের উদ্যোগে গতকালের এই আয়োজনে পুরো দেশের বাউলশিল্পীরা অংশ নিয়েছিলেন। ২০১৯ সাল থেকে প্রতি পূর্ণিমায় সাধু মেলার আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমি। প্রতিষ্ঠানটির সমকালীন নিয়মিত কার্যক্রমের মধ্যে এটি উল্লেখযোগ্য। করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর মেলা হয়েছিল অনলাইনে। করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে থাকায় এবার সরাসরি আয়োজন।

শিল্পকলার বটতলায় লালন সাঁইয়ের প্রতিকৃতিতে সান্ধ্যবাতি জ্বালিয়ে শুরু করা হয় অনুষ্ঠান। শুরুতে লালনদর্শন ও তাঁর জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনা করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের অধ্যাপক জাহিদুল কবির লিটন। আর সাধু মেলার এই আসরে সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান আলোচককে উত্তরীয় পরিয়ে দেন একাডেমির সচিব মো. আছাদুজ্জামান।

অধ্যাপক জাহিদুল কবির লিটন বলেন, ‘লালন বাঙালির চিন্তা ও মননে যে পরিবর্তন এনেছেন তা তাঁর প্রেমের মাধ্যমে। তাঁর প্রেম সর্বজনীন। তাঁর প্রেমে নেই বর্ণ বা সম্প্রদায়ভেদ। এই প্রেমের শক্তি অতুলনীয়। আজ আকাশে যে পূর্ণিমার চাঁদ, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান কেউ তাতে ধর্ম দিয়ে বিভেদ তৈরি করছে না। এই চাঁদ সবার মধ্যে সুন্দরের আলো বিলিয়ে দিচ্ছে। আমাদের প্রেম হতে হবে পূর্ণিমার এই চাঁদের মতো সর্বজনীন। ’

এরপর বাউলশিল্পীরা দলীয়ভাবে পরিবেশন করেন ‘কবে সাধুর চরণধূলি লাগবে মোর গায়’ গানটি। লালন সাঁইয়ের ভাববাণী নিয়ে আসেন বাউল আয়নাল হক। তিনি পরিবেশন করেন সাঁইজির ‘মুখে পড় রে সদাই লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ...’ গানটি। শিল্পী লাভলী শেখ পরিবেশন করেন ‘এক দিকে রাখলে নজর আরেক দিক অন্ধকার হয়। ’ আর মানিক দেওয়ান পরিবেশন করেন ‘খোদা রয় আদমে মিশে, কার জন্য মন হলি হত, সেই খোদা আদমে আছে। ’ এরপর শফি মণ্ডল, অনিমা মুক্তি গোমেজ, সমির বাউল, কুষ্টিয়ার টুন টুন ফকির, রাজ্জাক বাউল, ময়মনসিংহের সুনীল কর্মকার, নাটোরের বাউল আলাউদ্দিন একে একে পরিবেশন করতে থাকেন লালনের নানা মেজাজের গান।

সাধুমেলার এই আয়োজনে প্রায় ২০ জন শিল্পী একক সংগীত পরিবেশন করেন। আর সমবেত সংগীত পরিবেশন করেন আরো ২৫ জন। পুরো আয়োজনটির সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন আব্দুল্লাহ বিপ্লব।

 

 



সাতদিনের সেরা