kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

কিছু ক্ষেত্রে সফলতা এসেছে অনেক কিছু করার আছে

জহিরুল ইসলাম   

১৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কিছু ক্ষেত্রে সফলতা এসেছে অনেক কিছু করার আছে

ঐতিহ্য, আধুনিক, সুশাসন, সচল ও উন্নত ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। নির্বাচনী প্রচারণায় পাঁচটি রূপরেখা তুলে ধরে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ওয়ার্ডভিত্তিক সমস্যার সমাধান, খাল উদ্ধার ও সংস্কার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসন করা। মেয়র পদে গত দুই বছর এসব প্রতিশ্রুতির কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন দক্ষিণের মেয়র? এই প্রশ্নের মুখে আজ সোমবার পূর্ণ হলো মেয়র তাপসের দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছর।

বিজ্ঞাপন

এই দুই বছরের সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার নির্বাচনী ইশতেহারে ঢাকাকে একটি ঐতিহ্যের, আধুনিক, উন্নত, সচল ও সুশাসিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ঘোষণা করেছিলাম। করোনা মহামারির মধ্যেও দায়িত্বভার গ্রহণের এই দুই বছর নিয়ে এটুকু বলতে পারি, রূপরেখা অনুযায়ী সব কাজ এগিয়ে চলছে। ’

তিনি বলেন, ‘রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, সুশাসন নিশ্চিত করা, পরীক্ষামূলক বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম চালু করা, খাল ও বক্স কালভার্ট থেকে বর্জ্য অপসারণ করা, জলাবদ্ধতা নিরসনে ১২৫টি হটস্পটে অবকাঠামো নির্মাণ, খালগুলো থেকে বর্জ্য ও পলি অপসারণে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে বছরব্যাপী মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে এরই মধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ’

মেয়র তাপস বলেন, ‘আগামী দিনে ঢাকা মহানগরীর জন্য সমন্বিত মহাপরিকল্পনার আওতায় মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রকল্প গ্রহণ করব। এর মাধ্যমে ঢাকা শহরকে আমরা একটি আধুনিক, উন্নত ও বাসযোগ্য রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে আশাবাদী। ’

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ইচ্ছা থাকলেও মহামারি করোনার কারণে স্বাধীনভাবে উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। থমকে যাওয়া বিশ্বের মতো সিটি করপোরেশনের অনেক উন্নয়ন কাজও ধমকে ছিল। তার পরও নাগরিক ভোগান্তি যাতে না হয় সে জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিধন কাজ চলমান ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সব সময় মাঠে ছিলেন।

যানজট নিরসন, মশক নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন নগরীতে সবুজায়ন, খাদ্য, জলাবদ্ধতা, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, সড়ক বাড়ানো ও উন্নয়ন, খাল উদ্ধারের মতো চ্যালেঞ্জগুলোর কিছু ক্ষেত্রে সফলতা এসেছে। তবে এখনো অনেক কিছু করা বাকি।

নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছিল, ৪০০ বছরের পুরনো ঢাকার নিজস্ব ইতিহাসের উজ্জ্বল ছবি, ঐতিহ্যের গভীর শিকড় ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব রয়েছে। মেয়র নির্বাচিত হলে সবাইকে নিয়ে সমন্বিত প্রয়াসে মহাপরিকল্পনা ও সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করে ঢাকাকে তার স্বকীয় গৌরবে সাজিয়ে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা হবে। তবে এই উদ্যোগগুলোও এই দুই বছরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

আর সচল ঢাকা গড়তে নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যানজট কমাতে গণপরিবহনের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কিছু রাস্তায় দ্রুতগতির যানবাহন, কিছু রাস্তায় শুধু মানুষ চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। নদীর পারে থাকবে সুপ্রশস্ত রাস্তা, যেখানে হেঁটে চলা যাবে, চালানো যাবে সাইকেল, রিকশা ও ঘোড়ার গাড়ি। দ্রুতগামী যানবাহনের জন্য থাকবে আলাদা পথ, থাকবে নিরাপদ সড়কব্যবস্থা। এই বিষয়গুলো এখনো মহাপরিকল্পনায় আটকে আছে।

আবার করোনা মহামারির মধ্যেও নগর উন্নয়নে বেশ কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ হয়েছে। এর মধ্যে খাল উদ্ধার ও সংস্কার, যানজট নিরসনে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির মাধ্যমে সীমিত আকারে নগর পরিবহন চালু অন্যতম।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানা গেছে, নতুন সংযুক্ত ওয়ার্ডগুলো নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান তৈরিসহ বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনে রাজধানীর বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের কাজও শুরু হয়েছে। বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল পুনরুদ্ধার করে দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই দুই বছরে বেদখল হওয়া ৬৬.৩৩ একর জমি উদ্ধার করেছে ডিএসসিসি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে ৫১টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) স্থাপনে ১১টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে গত দুই বছরে ২৬টির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।

ঢাকা শহরকে ঝুলন্ত তারের জঞ্জালমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো তা সফল হয়নি।

তবে মার্কেটগুলো দখলমুক্ত করতে চারটি মার্কেটে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

নতুন ১৮ ওয়ার্ডের পরিস্থিতি

২০১৭ সালে দক্ষিণ সিটির সঙ্গে ১৮টি নতুন ওয়ার্ড যুক্ত হয়েছিল। দক্ষিণ সিটির ৫৭টি ওয়ার্ডের সঙ্গে সাবেক শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, ডেমরা, মাণ্ডা, দক্ষিণগাঁও ও নাসিরাবাদ ইউনিয়নকে যুক্ত করে মোট ৭৫টি ওয়ার্ড করা হয়। দীর্ঘদিন পরও এই নতুন ওয়ার্ডগুলোয় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

তবে গত দুই বছরে এই ওয়ার্ডগুলোয় এক হাজার ১৫০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে সেখানকার নাগরিকরা সুফলও পেতে শুরু করেছেন।

নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উন্নয়নকাজ ইতিবাচক। এটি আরো পরিকল্পিতভাবে করলে আরো বেশি সুফল পাওয়া যেত। এখনো বেশির ভাগ এলাকায় সড়কবাতি না থাকায় মাদক ও অপরাধ কর্মকাণ্ড অব্যাহত আছে। জলাবদ্ধতাও কাটেনি। রয়েছে যানজটের মহা যন্ত্রণা।

ডিএসসিসি প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডে গত দুই বছরে দুটি প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব এলাকায় ২৪৯.২৪ কিলোমিটার সড়ক, ২৩৩.৪৪ কিলোমিটার নর্দমা, ১৬.৭৬ কিলোমিটার ফুটপাত এবং ছয়টি নতুন সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া এসব এলাকায় এ পর্যন্ত আট হাজার ২০১টি সড়কবাতি বসানো হয়েছে।

ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ গতকাল কালের কণ্ঠকে হলেন, ‘নতুন প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য আমাদের পরিকল্পনা করা আছে। কোনো কোনো ওয়ার্ডে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে, বাকিগুলোতে আগামী মাসে (জুন) শুরু হবে। জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়কবাতি স্থাপন, কমিউনিটি সেন্টার, খেলার মাঠ—এসবও করা হবে পর্যায়ক্রমে। এসব ওয়ার্ডে সড়কবাতি স্থাপনে ১০০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। ’

 



সাতদিনের সেরা