kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

ভোজ্য তেল

আরো ৬১ হাজার লিটার উদ্ধার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আরো ৬১ হাজার লিটার উদ্ধার

ভোলার লালমোহনে ডিলারের কাছ থেকে উদ্ধার করা সয়াবিন তেল গতকাল ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে গতকাল শনিবার ৬১ হাজার লিটারেরও বেশি ভোজ্য তেল উদ্ধার করা হয়েছে। ভোজ্য তেল মজুদ ও বেশি দামে বিক্রি এবং বোতলজাত তেল খোলাবাজারে বিক্রির অপরাধে দোকানি ও ডিলারদের কাছ থেকে সাড়ে আট লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে। গতকাল সিরাজগঞ্জ থেকে সবচেয়ে বেশি ২৯ হাজার ৫০০ লিটার তেল উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এসব অভিযান চালায়।

বিজ্ঞাপন

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর উপজেলায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের গোডাউনে অবৈধভাবে মজুদ করার অভিযোগে পৃথক অভিযানে ২৯ হাজার ৫০০ লিটার বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেল জব্দ করেছে প্রশাসন। পাশাপাশি ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছ থেকে দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। উল্লাপাড়ার নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জল হোসেন জানান, শনিবার দুপুরে উপজেলার ঘোষগাতি পাটবন্দরের পাইকারি মুদি দোকান মালিক স্বপন দত্তের গোডাউন থেকে ১২ হাজার ৫০০ লিটার এবং অশোক সরকারের গোডাউন থেকে ১৪ হাজার লিটার অবৈধভাবে মজুদকৃত বোতলজাত সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়। এ সময় দুই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয়। অন্যদিকে তিনটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তিন হাজার লিটার খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন তেল জব্দ এবং এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

সিলেট ও মৌলভীবাজারে পৃথক তিন অভিযানে ১৩ হাজার ৮৬৮ লিটার সয়াবিন তেলের সন্ধান পেয়েছে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর। গতকাল দুপুর ও বিকেলে পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব তেলের সন্ধান মেলে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশপাশি কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে বোতলের গায়ের দামে ক্রেতাদের কাছে সব তেল বিক্রি করা হয়।

এ ছাড়া পটুয়াখালীর বাউফল পৌর শহরের বাজার রোড এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ছয় হাজার ৭০০ লিটার তেল। এসব তেল মজুদ রাখার অপরাধে লোকনাথ ভাণ্ডার নামের এক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার, গৌতম সাহার দোকানে মূল্যতালিকা ও লাইসেন্স না থাকার অপরাধে পাঁচ হাজার ও মা কালী ভাণ্ডারে একই অপরাধে ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল আমিন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওই জরিমানা করেন।

ফরিদপুরে বিকেল ৩টা পর্যন্ত শহরের হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজার ও শোভারামপুর এলাকায় এ অভিযান চালিয়ে চার হাজার ৮০০ লিটার তেল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা তেল গায়ের দামে এলাকাবাসীর মধ্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে জেলা ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সোহেল শেখ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। পরে ২০০৯ সালের ভোক্তা অধিকার আইনের ৪০ ও ৪৫ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ওই ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

ফেনীতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সোহেল চাকমা গোপন সংবাদে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করার খবর পেয়ে অভিযান চালান। এ সময় ইসলামপুর সড়ক সংলগ্ন কমলাপট্টি মিরাজ অ্যান্ড ব্রাদার্স ও পানপট্টি বাশার এন্টারপ্রাইজে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচ লিটার সান সয়াবিন তেলের বোতলের আগের ৭৬০ টাকা দাম মুছে নতুন ৯৮৫ টাকা দামে বিক্রি করা হচ্ছে। তাদের মোট সাত হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানার কর্ণফুলী মার্কেটে দুই দোকানে ১৬০ টাকা দরের বোতলজাত সয়াবিন তেল মজুদ করে ১৯৮ টাকা দরে বিক্রি করছিল ওই প্রতিষ্ঠানগুলো। এ অপরাধে তাদের মোট এক লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মজুদ সয়াবিন তেল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে খুচরা ক্রেতাদের কাছে লিটার ১৬০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে।

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে দুই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তিন হাজার ৯৭২ লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার করে। পরে উদ্ধারকৃত তেল সাধারণ মানুষের কাছে বোতলের ওপর লেখা দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়। দুই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

বাগেরহাটের কচুয়ার বাঁধাল বাজারের চৈতন্য স্টোরে অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই হাজার লিটার তেল মজুদের অপরাধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে ভোলার লালমোহন উপজেলায় রূপচাঁদা সয়াবিন তেলের ডিলারের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ লিটার তেল উদ্ধার করে গায়ের মূল্যে বিক্রি করে দিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা। যদিও তেলের ডিলার মো. ফয়সালের দাবি, তাঁর এসব তেল বিক্রি হচ্ছে না। ইঁদুরে খেয়ে ফেলেছে, যার জন্য গোডাউনে রেখে দিয়েছেন তিনি। তবে এমন অদ্ভুত অজুহাত দেখিয়ে তেল মজুদ করার দায়ে ডিলার ফয়সালকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন অধিদপ্তরের ভোলার সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান।

এসব জায়গা ছাড়াও হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গফরগাঁও, মানিকগঞ্জ, ফেনী ও জয়পুরহাটে অভিযান চালিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

(প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা)



সাতদিনের সেরা