kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন

রিফাতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ আওয়ামী লীগকে এক করা

আবদুর রহমান, কুমিল্লা   

১৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রিফাতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ আওয়ামী লীগকে এক করা

আরফানুল হক রিফাত

২৫ এপ্রিল কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নগরজুড়ে প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল মেয়র পদে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কে পাচ্ছেন? সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আঞ্জুম সুলতানা সীমাসহ ১৪ জন নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটে। কুসিক নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে আরফানুল হক রিফাতের নাম ঘোষণা করে দলটি। রিফাত কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

বিজ্ঞাপন

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের বিশ্বস্ত লোক হিসেবে তিনি সবার কাছে পরিচিত। দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর এখন নগরজুড়ে নতুন আলোচনার বিষয় রিফাতের বিরুদ্ধে দলের কেউ কি বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন? সেই শঙ্কাও কেটেছে। মনোনয়ন না পাওয়া হেবিওয়েট প্রার্থীদের সবাই বলেছেন, তাঁরা কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন না। সবাই দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন। তবে কুমিল্লা নগরীতে আওয়ামী লীগ দুই ধারায় বিভক্ত হওয়ায় দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। অনেকে বলছেন, রিফাতের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ কুমিল্লা আওয়ামী লীগের দুই ধারাকে এক করা। কারণ, দলীয় কোন্দলে গত দুই সিটি নির্বাচনে হেরেছে আওয়ামী লীগ।      

মনোনয়নপ্রত্যাশী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা বলেন, ‘নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমরা সবাই নৌকার প্রার্থীর জন্য কাজ করব। ’

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ওমর ফারুক বলেন, ‘আমি কখনো দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে না। নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, সেটা মেনে নিয়েছি। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করব। ’

মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক নূর উর রহমান মাহমুদ তানিম বলেন, ‘নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করব। ’

কুমিল্লা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাসুদ পারভেজ খান ইমরান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রার্থী দিয়েছেন, তাই নৌকার প্রার্থীকে মেনে নেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। ’

মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মিঠু এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রিফাতকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সফিকুল ইসলাম শিকদার ও তাঁর ভাই মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক কবিরুল ইসলাম শিকদারও একই ধরনের কথা বলেছেন।

তৃণমূলে দলের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুসিক নির্বাচনে নৌকার মাঝি হলেও রিফাতের সামনে এখন অনেক চ্যালেঞ্জ। গত দুই নির্বাচনে দলীয় কোন্দলের কারণে কুসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হতে পারেননি। এবারও আওয়ামী লীগকে এক করার ওপরই নির্ভর করছে ভোটের ফলাফল। রিফাত কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপির বিশ্বস্ত লোক। বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত আফজল খানের সঙ্গে এমপি বাহারের ছিল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ। নব্বই দশক থেকে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ বাহারকে বেছে নিলে আফজল স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। আবার আফজলকে বেছে নিলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বাহার। আফজল খান মারা যাওয়ার পর তাঁর পরিবারের সঙ্গে এমপি বাহারের সেই রাজনৈতিক বিরোধ এখনো বর্তমান। এই দুই পক্ষ এক হতে পারলে কুমিল্লা নগরীতে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘দলের সভাপতি শেখ হাসিনা এবার তৃণমূলে পোড় খাওয়া একজন নেতাকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন। রিফাতের পক্ষে দলের প্রায় সবাই ঐক্যবদ্ধ। ফলে কুমিল্লায় আর কোনো বিভক্তি হবে না। ’

মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুল্লাহ খোকন বলেন, ‘দলীয় প্রতীক একজন ত্যাগী নেতার হাতে এসেছে। নেতাকর্মীরা আনন্দিত। আশা করছি সবাই রিফাতের পক্ষে কাজ করবেন। ’

আর মনোনয়ন পাওয়া আরফানুল হক রিফাত বলেন, ‘আমি সারা জীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। জামায়াত-শিবিরের হাতে অনেক জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছি। জননেত্রী আমার রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগের মূল্যায়ন করেছেন। আমি কৃতজ্ঞ। আমি আমার রাজনৈতিক অভিভাবক আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপির সার্বিক নির্দেশনায় সুন্দরভাবে নির্বাচন পরিচালনা করে নেত্রীকে নৌকার বিজয় উপহার দিতে চাই। আশা করছি এবার সবাই নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন। ’



সাতদিনের সেরা