kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

ইউপি নির্বাচনে অর্থ আত্মসাৎকারী পেলেন আ. লীগের মনোনয়ন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি   

১৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইউপি নির্বাচনে অর্থ আত্মসাৎকারী পেলেন আ. লীগের মনোনয়ন

জালিয়াতি করে ৯ লাখ টাকার বিপরীতে ৮৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান চাঁনের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠিও দিয়েছিলেন তৎকালীন মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু। তদন্তে চাঁনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতাও মিলেছে। অথচ অভিযুক্ত সেই আসাদুজ্জামান চাঁনকেই দেওয়া হয়েছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলাকানাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, আসাদুজ্জামান চাঁন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি কখনো আওয়ামী লীগ করেননি। আওয়ামী লীগের নেতারা দলীয় পরিচয়ে তাঁকে চেনেনও না। তাঁর মতো বিতর্কিত ব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হতাশাজনক।

জানা গেছে, মনোনীত প্রার্থীর তালিকায় চাঁনের নাম রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুর রশীদ এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু।

চাঁনের বিরুদ্ধে সাইদুল করিম মিন্টু অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুললেও কয়েক মাসের ব্যবধানে তিনিই আবার চাঁনের মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে সুপারিশ পাঠান।

অ্যাডভোকেট আবদুর রশীদের বাড়ি পাগলাকানাই ইউনিয়নে। তিনিও জনপ্রতিনিধি বাছাই করতে চাঁনকেই বেছে নেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম হিরন বলেন, ‘চাঁনের ব্যাপারে সুপারিশ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রশীদ। কী বুঝে তিনি চাঁনকে পছন্দ করলেন তা বুঝতে পারছি না। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি সুপারিশপত্রে সই করেছি। এ ছাড়া আমার উপায় ছিল না। চারজনের তালিকায় চাঁনের নাম থাকলেও তাতে আমি বাধ্য হয়ে সই করি। ’ তাঁর দাবি, এই মনোনয়নপ্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র থাকতে পারে।

অ্যাডভোকেট আবদুর রশীদ বলেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে চারজন প্রার্থীর নাম সুপারিশ করা হয়েছিল। আবু সাঈদ বিশ্বাস, আসাদুজ্জামান চাঁন, আছাদুজ্জামান সুজন ও আতিক। সাধারণত ১ নম্বর প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এবার এটির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হয়েছে। ’

জানা গেছে, পৌরসভার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে ৩১ লাখ ৪৪ হাজার ৮১৯ টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান চাঁন উত্তোলন করেন। এর মধ্যে ২৮ লাখ টাকার চেক জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। ২০১২ সাল থেকে ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২টি চেকের মাধ্যমে ওই টাকা স্থানীয় জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে উত্তোলন করা হয়। অথচ পৌরসভার ক্যাশ বইয়ে মাত্র তিন লাখ ৪৪ হাজার ৮১৯ টাকা দেখানো হয়েছে।

পৌরসভার যে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, সেই কর্মকর্তাকেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।



সাতদিনের সেরা