kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

কিডনি বেচাকেনা চক্রের সাত দালাল গ্রেপ্তার

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

১৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিডনি বেচাকেনা চক্রের সাত দালাল গ্রেপ্তার

অবৈধভাবে কিডনি বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে জেলার গোয়েন্দা পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। গতকাল শনিবার তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কালাই উপজেলার থল গ্রামের  সাহারুল (৩৮), উলিপুর গ্রামের ফরহাদ হোসেন (৩১), জয়পুর বহুতি গ্রামের মোশারফ হোসেন (৫৪) ও মোকারম হোসেন (৫৪), ভেরেন্ডি গ্রামের শাহারুল ইসলাম (৩৫) ও দুর্গাপুর গ্রামের সাইদুল ফকির (৪৫) এবং সদর উপজেলার বম্বু গ্রামের সাদ্দাম হোসেন (৪০)।

বিজ্ঞাপন

কালাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের নিরীহ ও অভাবী দুই শতাধিক মানুষকে প্রলুব্ধ করে অবৈধভাবে কিডনি বিক্রির অভিযোগে ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত দালালচক্রের ১২১ জন সদস্যের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

গতকাল শনিবার দুপুরে জয়পুরহাট পুলিশ লাইনসের ড্রিল শেডে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে কিডনি বেচাকেনা চক্রের সাতজনকে গ্রেপ্তার ও তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মাছুম আহাম্মদ ভূঞা। এ সময় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ জেলার পাঁচ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সুপার জানান, জেলায় কিডনি বেচাকেনা চক্রের প্রধান দুই হোতা কালাই উপজেলার আব্দুস ছাত্তার ও কাউছার হোসেন বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করে ভারত ও দুবাইয়ে কিডনি পাচার করছেন। পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করতে না পারলেও চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। চক্রটি জেলার অভাবী মানুষদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার প্রলোভন দিয়ে কিডনি বিক্রিতে প্ররোচিত করে। তাদের ফাঁদে পড়ে কালাইয়ের অভাবী মানুষ কিডনি বিক্রিতে সম্মত হয়। তাদের ভারত ও  দুবাই নিয়ে গিয়ে কিডনি গ্রহীতার কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নেয় দালালচক্র। কিন্তু কিডনিদাতাদের সামান্য টাকা দিয়ে পুরোটাই তারা পকেটস্থ করে। অভাবী মানুষকে কিডনি বিক্রিতে প্রলুব্ধ করার এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে ওই সাতজনকে গ্রেপ্তার করে।

কালাই এলাকার একাধিক সূত্র দাবি করেছে, দীর্ঘ এক যুগ ধরে কালাইয়ে অন্তত ১০০ অভাবী মানুষ গোপনে কিডনি বিক্রি করেছে। এখনই লাগাম টেনে ধরতে না পারলে চক্রটি আরো সক্রিয় হয়ে উঠবে।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার আইনের পাশাপাশি কিডনি বিক্রি ঠেকাতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে মানুষকে সচেতন করতে সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন, রাজনীতিবিদসহ সব মহলকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।



সাতদিনের সেরা