kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়ে বিষ পান করা তরুণীর মৃত্যু

এ বছর এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন লিপি

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১৬ এপ্রিল, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়ে বিষ পান করা তরুণীর মৃত্যু

লিপি খাতুন

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বখাটেদের ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়ে বিষ পান করা লিপি খাতুন (১৮) রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। তিনি এ বছর উপজেলার জালশুকা হাবিবুর রহমান ডিগ্রি কলেজ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেছিলেন। লিপি উপজেলার চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের কৈগাতী গ্রামের কৃষক ফজলুল হকের মেয়ে। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার সকালে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

 

গত ১২ এপ্রিল সকালে ওই ধর্ষণচেষ্টার পরই ছাত্রীর বাবা ফজলুল হক বাদী হয়ে পাশের রুদ্রবাড়িয়া গ্রামের বাবুল, রফিকুলসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু অভিযোগটি আমলে নেয়নি পুলিশ। তবে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে ওই ছাত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ফজলুল হকের অভিযোগটি থানায় মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছে পুলিশ।    

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিপি খাতুনকে প্রায় দুই বছর ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন দুই সন্তানের জনক বাবুল মিয়া (৪০)। কিন্তু বাবুলের কুপ্রস্তাবে সাড়া দেননি লিপি। তাঁর বাবা অতিষ্ঠ হয়ে গ্রামের মাতবরদের কাছে এর বিচার চান। কিন্তু মাতবররাও এ ঘটনার কোনো সুরাহা করতে পারেননি। বিচার চাওয়ার পর থকে আরো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বাবুল মিয়া।

গত ১২ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে ফজলুল হকের বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে বাবুল ও তাঁর সঙ্গী রফিকুল (৪২) লিপির ঘরে প্রবেশ করেন। এরপর অস্ত্রের মুখে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান বাবুল। নিজেকে রক্ষা করতে লিপি চিৎকার করলে আশপাশের বাড়ির লোকজন ছুটে এলে বাবুল ও রফিকুল সটকে পড়েন।

এ ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত লিপি সকাল ১০টার দিকে ঘরে থাকা আগাছা দমনের বিষ পান করেন। স্বজনরা তাঁকে প্রথমে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে ওই দিনই বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরের দিন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে লিপি মারা যান।

লিপির বাবা ফজলুল হক বলেন, ‘মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার বিচার গ্রামের মাতবরদের কাছে চেয়েও পাইনি। থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ খোঁজখবর নেয়নি। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। আমার মেয়ের মতো যেন আর কারো মেয়েকে এভাবে জীবন দিতে না হয়। ’

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, অভিযোগটি তদন্ত সাপেক্ষে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



সাতদিনের সেরা