kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

কয়েক জেলায় তীব্র শীত, বিপর্যস্ত জনজীবন

কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কয়েক জেলায় তীব্র শীত, বিপর্যস্ত জনজীবন

তীব্র শীতে কাঁপছে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া। শীতের মধ্যেও গতকাল কাজের সন্ধানে বাইরে বেরিয়েছে মানুষ। ছবি : কালের কণ্ঠ

এ মৌসুমের এখন পর্যন্ত তীব্র শীতে কাঁপছে একাধিক জেলা, রেকর্ড হয়েছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার। ঘন কুয়াশা আর হিম ঠাণ্ডা বাতাসে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। একাধিক জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ, যা আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং বিস্তার লাভ করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বিজ্ঞাপন

রংপুর ও রাজশাহী বিভাগসহ একাধিক জেলার তাপমাত্রাই ৭ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, যশোর, কুষ্টিয়া জেলাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে এবং বিস্তার লাভ করতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

কুড়িগ্রাম জেলাজুড়েই বইছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষ। কুয়াশা ও ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে বোরো বীজতলা ও আলুক্ষেত নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষক। তীব্র ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে কৃষকরা বোরো রোপণের কাজ করছেন।

কুড়িগ্রামের হলোখানা ইউনিয়নের টাপুরচরের কৃষক আবদার হোসেন বলেন, ‘এবারে অনেক খরচ করে আলু লাগিয়েছি। তীব্র ঠাণ্ডার কারণে সদ্য বেড়ে ওঠা আলুক্ষেত নিয়ে চিন্তায় আছি। ’ তবে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দিন মিঞা জানান, শৈত্যপ্রবাহ ক্ষণস্থায়ী হওয়ায় আবাদের তেমন কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এক দিনের ব্যবধানে এ জেলায় তাপমাত্রা কমেছে ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সঙ্গে বেড়েছে বাতাসের আর্দ্রতা ও গতিবেগ। ফলে বেশ শীত অনুভূত হচ্ছে।

আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, শৈত্যপ্রবাহটি আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তাপমাত্রা আরো কমতে পারে।

উত্তরের জেলা পঞ্চগড়েও বেড়েছে শীতের তীব্রতা। কুয়াশার পরিমাণ অনেকটা কমে গেলেও ঠাণ্ডা বাতাসে হাড়কাঁপা শীত অনুভূত হচ্ছে জেলাটিতে। জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। গত পাঁচ দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। গতকাল জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

গত দুই দিনের শীতের দাপটে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে অনেকে কাঠ ও খড় জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। ভ্যানচালক বশির উদ্দিন বলেন, ‘গত কয়েক দিনে ঠাণ্ডা খুব বেড়েছে। বাইরে বের হতেই ইচ্ছা করে না। কিন্তু পেটের দায়ে বের হতে হয়। ঠাণ্ডা বাতাসে হাত-পা অবশ হয়ে আসে। ’

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, এই শীতে এখন পর্যন্ত জেলার অসহায় দরিদ্রদের মাঝে ৪০ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। আরো শীতবস্ত্রের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। তা পাওয়া মাত্রই বিতরণ করা হবে।

নীলফামারীতে গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হঠাৎ প্রচণ্ড শীত অনুভূত হওয়ায় বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। সেচনির্ভর বোরো আবাদের ভরা মৌসুমে কৃষকরা নামতে পারছেন না ক্ষেতখামারের কাজে। গ্রামের হাট-বাজার ও শহরে লোকসমাগম কমেছে।

জেলার ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের মির্জাগঞ্জ গ্রামের কৃষক অধীর চন্দ্র রায় (৬০) বলেন, ‘আজিকার ঠাণ্ডা হামাক কাবু করি ফেলাইছে বাহে। এমন ঠাণ্ডাত ঘরের বাইরোত যাওয়া যাছে না। ’

সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লোকমান হাকিম জানান, আগামী দু-তিন দিন নীলফামারী অঞ্চলে একই রকম তাপমাত্রা বিরাজ করবে।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিরা। ]

 

 



সাতদিনের সেরা