kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

উন্নয়নশীল দেশে অপ্রতুল ডায়াবেটিসের চিকিৎসা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উন্নয়নশীল দেশে অপ্রতুল ডায়াবেটিসের চিকিৎসা

উন্নয়নশীল দেশে ডায়াবেটিস চিকিৎসায় সঠিক ব্যবস্থাপনা বড় বাধা। কারণ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। একই সঙ্গে দেখা যায়, এসব দেশে খাওয়ার ওষুধের স্বল্পতা, ইনসুুলিন, ইনজেকশনের সরঞ্জাম ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ঘাটতি রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘প্রথম জাতীয় অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ’ সম্মেলনের সমাপনী দিন ‘সীমিত সম্পদ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীর ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এক গবেষণায় এসব তথ্য তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহজাদা সেলিম।

বিজ্ঞাপন

শাহজাদা সেলিম বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশের জন্য টাইপ-১ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর একটি অন্যতম কারণ অনেক রোগীর ইনসুলিন বা ইনজেকশন কেনার সামর্থ্য থাকে না। এ কারণে ডায়াবেটিক রোগীর মৃত্যুও হয়। মধ্য ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে জনসংখ্যা, জীবন যাপন ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে ডায়াবেটিক রোগীর বোঝা উত্তরোত্তর বাড়ছে।

বিএসএমএমইউয়ের এই সহযোগী অধ্যাপক তাঁর গবেষণায় বলেন, ২০০০ সালে বিশ্বে মোট জনসংখ্যার ৬৭ শতাংশ ডায়াবেটিক রোগী বা ডায়াবেটিস রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ৭৮ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দক্ষ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্সের সংখ্যা বৃদ্ধি ও একটি আদর্শ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।

বিএসএমএমইউয়ের নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুভাষ কান্তি আরেক গবেষণাপত্র তুলে ধরে বলেন, ‘ঢাকায় মাত্র দুটি সরকারি ও পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতালে স্ট্রোক রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার সুবিধা রয়েছে।

স্ট্রোকে রোগীর মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব কমাতে সারা দেশে এই সুবিধা চালু করা দরকার। বাংলাদেশে স্ট্রোক রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার বাধা নিয়ে গবেষণা করেন সুভাষ কান্তি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মৃত্যুর প্রধান কারণ স্ট্রোক। প্রায় ৮৫ শতাংশ স্ট্রোক ইশকেমিকজনিত (মস্তিষ্কে অক্সিজেনবাহিত রক্ত সঞ্চালনে বাধা) এবং এই রোগের জরুরি চিকিৎসা দরকার হয়। তাই এর চিকিৎসা অতি দ্রুত করার ব্যবস্থা করতে হবে।

দিনের চতুর্থ পর্বে হেলথ সিস্টেম ফর এনসিডিসে বিভিন্ন গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। সার্ভিক্যাল ক্যান্সার (জরায়ুমুখ) বিষয়ক এক গবেষণায় বলা হয়, দারিদ্র্যের কারণে চিকিৎসা শেষ করতে পারে না সার্ভিক্যাল ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীরা। সারা দেশে সার্ভিক্যাল ক্যান্সারে আক্রান্ত ৮৫ শতাংশ নারী পরীক্ষার বাইরে থাকে। এতে আক্রান্ত মাত্র ১১.২ শতাংশ নারী রেডিয়েশন সেবা পায়।

বিএসএমএমইউর নিউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আবু নাসের রিজভীর সভাপতিত্বে এই সেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক মো. শারফুদ্দীন আহমেদ।

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সক্ষমতা কম : সম্মেলনের প্রথম সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশের সক্ষমতা এখনো কম। সেই সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘অসংক্রামক রোগ চমক সৃষ্টি করতে পারে না বলে রোগীরা অবহেলিত থেকে যায়। এখন থেকে এই অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরকারেরও চেষ্টা করা উচিত। ’

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপকে নীরব ঘাতক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এসব রোগ হওয়ার আগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শহরের তুলনায় গ্রামে অসংক্রামক রোগ বেশি। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে আমাশয় রোগ বেশি। আশ্বিন-কার্তিকে একটি মানুষও আমাশয়হীন থাকত না।

সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক এম এ ফায়েজ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হেলাল উদ্দিন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ এ বি এম মাকসুদুল আলম, গ্লাসগো ক্যালেডনিয়ান ইউনিভার্সিটির ডেপুটি ভাইস চ্যান্সেলর জেমস মিলার, ওজিবিএসএর সভাপতি অধ্যাপক ফেরদৌসী বেগম প্রমুখ।

 

 



সাতদিনের সেরা