kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

দুই প্রতিষ্ঠানের ১৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই প্রতিষ্ঠানের ১৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

রাজধানীতে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডে (ডিবিবিএল) রাখা ওয়ালটন গ্রুপের সাড়ে ছয় কোটি টাকা এবং ইউনাইটেড গ্রুপের ১২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল একটি চক্র। অনলাইনে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে তাত্ক্ষণিক তহবিল স্থানান্তরের প্রক্রিয়াও অনেকটাই গুছিয়ে এনেছিল চক্রটি। যথানিয়মে ফরমও জমা দিয়েছিল তারা। তবে শেষ মুহূর্তে ব্যাংকের যাচাইয়ে ধরা পড়ায় ওই অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা বানচাল হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

এই ঘটনায় চক্রের হোতা এক ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন জাকির হোসেন (৩৫), ইয়াসিন আলী (৩৪), মাহবুব ইশতিয়াক ভূইয়া (৩৫), আনিছুর রহমান ওরফে সোহান (৪২), দুলাল হোসাইন (৩৫), আসলাম (৫৩), আব্দুর রাজ্জাক (৪৮), জাকির (৪৪), আনোয়ার হোসেন ভুইয়া (৫৬) ও নজরুল ইসলাম (৫০)।

তাঁদের মধ্যে জাকির হোসেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখায় এসএমই সেলস টিমের ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) হিসেবে কর্মরত।

গতকাল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আসাদুজ্জামান এই তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অনলাইনে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে তাত্ক্ষণিক তহবিল স্থানান্তরের (টাকা ট্রান্সফার) বিশেষায়িত পদ্ধতি রিয়েল টাইম গ্রস সেটলমেন্ট (আরটিজিএস) ব্যবহার করে দুই ব্যাংক থেকে ১৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল চক্রটি।

পুলিশের দাবি, ডিবিবিএলয়ে চাকরির সুবাদে জাকির হোসেন ব্যাংকটির সার্ভার থেকে বিভিন্ন গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করতেন। এরপর যেসব অ্যাকাউন্টে টাকার পরিমাণ বেশি তাদের ব্যাংক হিসাব থেকে স্বাক্ষর জাল করে আরটিজিএসের মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফারের পরিকল্পনা করতেন।

গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকার ডিবিবিএল শাখায় থাকা ওয়ালটন গ্রুপের অ্যাকাউন্ট থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকা আরটিজিএস ফরমে টান্সফারের একটি আবেদন করা হয়। বিডি লিমিটেড নামে একটি কম্পানির এবি ব্যাংকের মতিঝিল শাখার অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফারের আবেদনটি করা হয়। তবে ওই শাখার ব্যবস্থাপকের কাছে আবেদনটি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তিনি সঙ্গে সঙ্গে ওয়ালটন গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এক পর্যায়ে ওয়ালটনের কর্মকর্তারা ব্যাংকে গিয়ে বিষয়টি যাচাই করেন এবং বুঝতে পারেন, এখানে প্রতারকচক্রের হাত রয়েছে। এরপর টাকা টান্সফারের আবেদনটি স্থগিত করা হয়।

পরে ওয়ালটন গ্রুপের পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার ডিএমপির ভাটারা থানায় একটি অভিযোগ করা হয়। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত দুই দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতারকচক্রের ওই ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ফান্ড ট্রান্সফার ফরম (ইএফটি), চেকবইসহ অন্য কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ডিসি (গুলশান) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া চক্রের সদস্যরা এর আগে ইউনাইটেড গ্রুপের অ্যাকাউন্ট থেকেও ১২ কোটি টাকা ট্রান্সফারের চেষ্টা করছিলেন। ’

সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, চক্রের মূলহোতা জাকির হোসেন অর্থ জালিয়াতির পরিকল্পনার পর তাঁর ঘনিষ্ঠ ইয়াসিন আলীকে স্বাক্ষর জালিয়াতের কাজ দেন। পরে ইয়াসিন আলী স্বাক্ষর জাল করে মাহবুব ইশতিয়াক ভূইয়ার পরিচালিত অ্যাকাউন্ট এনআই করপোরেশন, বিডি লিমিটেড নামে এবি ব্যাংক লি. মতিঝিল শাখায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা করে জাল ব্যাংক দলিল তৈরি করেন। পরে তাঁরা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অন্যদের ঠিক করেন।

 



সাতদিনের সেরা