kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

ইটখোলার মাল আনা-নেওয়ার জন্য বাঁধ কেটে সুড়ঙ্গ

বরগুনা প্রতিনিধি   

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




ইটখোলার মাল আনা-নেওয়ার জন্য বাঁধ কেটে সুড়ঙ্গ

বরগুনার আমতলীতে ইটখোলার মালপত্র আনা-নেওয়ার জন্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে গুলিশাখালী ইউনিয়নের ১০ হাজার মানুষ প্রাকৃতিক জলোচ্ছ্বাসের হুমকিতে রয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

বরগুনার আমতলীতে ইটখোলার মালপত্র আনা-নেওয়ার জন্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে সুড়ঙ্গ তৈরি করেছেন ইটখোলার মালিক। এলাকাবাসীর আপত্তি উপেক্ষা করে তিনি এটি করেন। এতে উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ১০ হাজার মানুষ জলোচ্ছ্বাসের হুমকিতে পড়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত ওই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কার ও ইটখোলার মালিকের শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের আঙ্গুলকাটা গ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাশে ওই গ্রামের মো. বদিউল আলম বাদল মুন্সি ২০১০ সালে মুন্সি ব্রিকস নামের একটি ইটখোলা স্থাপন করেন। ইটখোলার মালপত্র আনা-নেওয়ার জন্য ওই বাঁধে তিনি একটি সুড়ঙ্গ তৈরি করেন। বদিউল ইটখোলাটি এ বছর কুকুয়া ইউনিয়নের আজিমপুর গ্রামের আবুল হোসেন মৃধার কাছে ভাড়া দেন। আবুল হোসেন ওই ইটখোলায় ইট পোড়ানোর কাজও শুরু করেছেন। তিনি সম্প্রতি ওই সুড়ঙ্গ কেটে আরো বড় করেছেন। স্থানীয় লোকজন বাধা দিলেও প্রভাবশালী আবুল হোসেন বাঁধ কাটা থেকে নিবৃত্ত হননি।

এদিকে বাঁধ কেটে ফেলায় হুমকিতে পড়েছে গুলিশাখালী ইউনিয়নের আঙ্গুলকাটা, খেকুয়ানী, ডালাচারা, বাজারখালী ও গুলিশাখালী গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ। এলাকাবাসী আশঙ্কা করছে, প্রাকৃতিক জলোচ্ছ্বাস হলে ওই বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে জানমাল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। তারা ওই বাঁধ সংস্কার করে ইটখোলার মালিকের শাস্তি দাবি করেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কেটে সুড়ঙ্গ বানিয়ে এর ভেতর দিয়ে ইটখোলার মালপত্র আনা-নেওয়া হচ্ছে। বাঁধের ওপরে কাঠের গুঁড়ি ফেলে রাখা হয়েছে। এর ওপর দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছে।

আঙ্গুলকাটা গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুস সোবাহান লিটন বলেন, ‘ইটখোলার মালিক ওই বাঁধ কেটেছেন। জলোচ্ছ্বাস হলে ওই বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে গুলিশাখালী

ইউনিয়ন তলিয়ে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হবে। ’ তিনি দ্রুত বাঁধ সংস্কারের দাবি জানান।

গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল ওহাব হাওলাদার বলেন, বাঁধটি কেটে ফেলায় হুমকির মুখে পড়েছে ইউনিয়নের অন্তত ১০ হাজার মানুষ। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান তিনি।

ইটখোলা ভাড়া নেওয়া বর্তমান মালিক মো. আবুল হোসেন মৃধা বাঁধ কাটার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘এই বাঁধ আমি কাটিনি। মুন্সি ব্রিকসের মালিক বাদল মুন্সি নিজেই কেটে দিয়েছেন। আমি ভাড়া নিয়ে ইটখোলা চালাই। ’

বদিউল আলম বাদল মুন্সি বলেন, ‘আমি ওই বাঁধ কাটিনি। ইটখোলা ভাড়া দিয়েছি। ওকে (আবুল হোসেন মৃধা) বলেছি, ইটের মৌসুম শেষ হলেই যেন সুড়ঙ্গটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ’

বাদল মুন্সি বলেন, ‘আমি এই সুড়ঙ্গটি তৈরি করিনি। ইটখোলা ভাড়া দিয়েছি। তারপর ওকে বলেছি ইটের মৌসুম যখন শেষ হবে, তখন সুড়ঙ্গ আটকে দেওয়া হবে। ’ পরক্ষণেই বলেন, ‘ভাই, নিউজ করে ক্ষতি করে কোনো লাভ নেই। আপনার সঙ্গে রবিবার দেখা করব। ’

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমান সুজন বলেন, ‘সরেজমিনে পরিদর্শন করে বাঁধ কাটা দেখেছি। এরই মধ্যে ইটখোলার মালিককে বাঁধ সংস্কারে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ’ নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কাইছার আলম বলেন, ‘নোটিশ দেওয়ার পরও যদি ইটখোলার মালিক বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কার না করে দেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ বলেন, ‘বিষয়টি জানা নেই। সরেজমিনে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

 



সাতদিনের সেরা