kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যু

থানায় হত্যা মামলার আবেদন, পরীক্ষা করছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক   

২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



থানায় হত্যা মামলার আবেদন, পরীক্ষা করছে পুলিশ

সেলিম হোসেন

মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পিতা কেএমপির (খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ) খানজাহান আলী থানায় হত্যা মামলার আবেদন করেছেন। গত বুধবারের আবেদনটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা যাবে কি না, তা পুলিশের পক্ষ থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পুলিশ একটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করেছিল এবং বিষয়টি তদন্তাধীন, সে কারণে আবেদনটি তাত্ক্ষণিকভাবে মামলা হিসেবে গ্রহণ বা নথিভুক্ত করা হয়নি।

শিক্ষক সেলিমের পিতা শুকুর আলির আবেদনে ৪৪ জন ছাত্রকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দাবি করা হয়েছে, তাঁদের মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে সেলিমের মৃত্যু হয়েছে। প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে গত ৫ জানুয়ারি এই ৪৪ শিক্ষার্থীকে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে। তাঁরা আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এঁদের মধ্যে ছাত্রলীগ কুয়েট শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানসহ চার শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

মামলার আবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রবীর কুমার বিশ্বাস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তাধীন। লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত হয়েছে। এখনো ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আগেই একটি সাধারণ ডায়েরি করা আছে। তাই আবেদনটিকে মামলা হিসেবে গ্রহণ করা যাবে কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। ’ 

শুকুর আলি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগেও একবার মামলার আবেদন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল; তখন বলা হয়েছিল, আবেদনে ভুল আছে। আমরা আবেদন ঠিক করে আবারও খানজাহান আলী থানায় গত বুধবার (২৬ জানুয়ারি) গিয়েছিলাম, কিন্তু মামলা নেওয়া হয়নি। ওসি সাহেব জানালেন, মামলা নেওয়া যাবে না। আমরা আবেদনটি রেখে এসেছি। ’

বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের প্রভোস্ট এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক সেলিম হোসেন গত ৩০ নভেম্বর বিকেলে মারা যান। পরে অভিযোগ ওঠে, সাদমান নাহিয়ান সেজানসহ কয়েকজন ছাত্র তাঁদের মনোনীত প্রার্থীকে হলের ডাইনিং ম্যানেজার করতে সেলিম হোসেনকে চাপ দিচ্ছিলেন। ৩০ নভেম্বর দুপুরে সেজানের নেতৃত্বাধীন ছাত্ররা ক্যাম্পাসের রাস্তা থেকে সেলিম হোসেনকে জেরা শুরু করেন। তাঁকে তাঁর ব্যক্তিগত কক্ষে (তড়িৎ প্রকৌশল ভবন) যেতে বাধ্য করেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাঁরা আধাঘণ্টা তাঁর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এরপর তিনি বিধ্বস্ত অবস্থায় দুপুরে খাবার খেতে ক্যাম্পাসসংলগ্ন বাসায় যান। বিকেল ৩টার দিকে স্ত্রী লক্ষ করেন, তিনি বাথরুম থেকে বের হচ্ছেন না। পরে দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 



সাতদিনের সেরা