kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

মামলা ছাড়াই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, ২২ দিন পর মুক্ত দুই কৃষক

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




মামলা ছাড়াই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, ২২ দিন পর মুক্ত দুই কৃষক

জাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ২২ দিন হাজতবাসের পর মুক্তি পেলেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলালের দুই কৃষক। মুক্তি পাওয়া শফিউল ইসলাম (৫৮) ও তাঁর জামাতা মঞ্জুরুল ইসলাম (৩২) ক্ষেতলাল উপজেলার মহব্বতপুর সাখিদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের ভুয়া সিল ও বিচারকের জাল সই দেওয়া একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর রাতে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ বাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। পরোয়ানা দুটিতে প্রস্তুতকারী কোনো কর্মীর সই বা নাম ও মোবাইল নম্বর যুক্ত সিলও দেওয়া ছিল না।

বিজ্ঞাপন

পরে আইনজীবীদের মাধ্যমে ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জাল প্রমাণিত হলে আদালতের নির্দেশে গত ১৮ জানুয়ারি তাঁরা মুক্তি পান। বাড়ি ফিরলে গত বুধবার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়।  

বাড়ি ফিরে কৃষক শফিউল ইসলাম বলেন, ‘আমি একজন কৃষক। সারা দিন মাঠে কাজ করি। আমি কখনো ঢাকা যাইনি। অথচ একটি মিথ্যা ঘটনায় হাতকড়া এবং পায়ে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে আমাকে ঢাকার জেলহাজতে নেওয়া হয়। এর বিচার আমি কার কাছে চাইব। ’

শফিউলের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘নারী নির্যাতন মামলায় বাবা ও স্বামী গ্রেপ্তার হওয়ার খবরে আমরা হতবাক হয়েছি। ঘটনাটি সামাজিকভাবে আমাদের হেয়প্রতিপন্ন করেছে। যে ভুলে আমাদের মানসম্মান গেল। তার দায় কে নেবে? আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। ’

জয়পুরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, পরোয়ানাটি যে ভুয়া সেটি প্রথমে বোঝা যায়নি। পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছিল। পরে তাদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জাল ও ভুয়া নিশ্চিত হলে আদালত মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এই অপরাধের সঙ্গে কারা জড়িত সে বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্ত করছে।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রস্তুতের সঙ্গে কে বা কারা জড়িত সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য ডিবির ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে হয়রানি বন্ধে কোনো ব্যক্তির নামীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রস্তুত ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে হাইকোর্টের নির্দেশাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও সব থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত।

ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের ৭২/২০২০ নম্বর পিটিশন মামলার বরাত দিয়ে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর জয়পুরহাট পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ওই ভুয়া পরোয়ানা আসে। পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে ২৯ ডিসেম্বর আদালতে হাজির করলে বিচারক জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেখান থেকে ৭ জানুয়ারি তাঁদের ঢাকার কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

পরে জয়পুরহাট মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালত থেকে ঢাকার আদালতে মামলার খণ্ড নথি পাঠানো হয়। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মামলাটির নথি পর্যালোচনা করে গ্রেপ্তার দুই কৃষককে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে আদেশের অনুলিপি জয়পুরহাট মুখ্য বিচারিক আমলি আদালতে পাঠান। ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্য বিচারিক আমলি আদালতের বিচারক মো. জাহাঙ্গীর আলম তাঁদের অব্যাহতির আদেশ দেন।

 



সাতদিনের সেরা